প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

সিনহাই বাংলাদেশের বিচারকদের ভারতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন

মোহাম্মদ আলী বোখারী, টরন্টো থেকে: মো. মোজাম্মেল হোসেন আমার সিনিয়র হওয়া সত্ত্বেও আমি জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান হয়েছি। জুডিশিয়াল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (জেটিআই) কয়েকটি কক্ষ নিয়ে ছিল সেই কমিশন। তাতে কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের সংকুলান হচ্ছিল না। তাই কাল বিলম্ব না করে তিন তলা ভবন সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করি। এতে ধীর ও মেধা সম্পন্ন অর্থ সচিব ফজলে কবির স্বেচ্ছায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। নির্দেশনা মোতাবেক আমার বুদ্ধিদীপ্ত সচিব ফরিদ আহমেদ সিবলি ভবন সম্প্রসারণে ড্রয়িং ও পেপার ওয়ার্কের কাজ শেষ করেন। অর্থ বরাদ্দ মিললে একজন কর্মকর্তাকে সেই উন্নয়ন কাজের দায়িত্ব দেয়া হয়। এক পর্যায়ে দেখা গেল, কন্ট্রাক্টর কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি এবং অবশিষ্ট তহবিল ফেরত যাওয়ার দশা। আশ্চর্যের বিষয় আমার লাগাতার তাগিদ সত্ত্বেও কন্ট্রাক্টর কাজ পরিত্যাগ করলো। আমি তাদের জামানতের অর্থ বাতিলসহ নতুন কন্ট্রাক্টর নিয়োগের নির্দেশ দিলাম এবং দুই বছরে প্রকল্পটি সম্পন্ন হলো।

সেই প্রকল্পের ফ্লোর ফিটিং, টয়লেট ও ফার্নিচার নিজে পছন্দ করলাম। কনফারেন্স রুম, মৌখিক পরীক্ষার কক্ষ, অর্ভ্যথনা কক্ষ এবং আরেকটি কনফারেন্স রুম উপর তলায় ব্যবস্থা করলাম। ওটা আমারই ডিজাইন। ঢাকার নন্দনপূর্ণ সৌন্দর্য পাশ্চাত্যের ঢংয়ে কাঁচের দেয়াল থেকে দৃশ্যমান। বিপুল বই সম্ভারে আধুনিক লাইব্রেরি ও ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় বিশ্বের অন্য লাইব্রেরির সঙ্গে তার সংযোগ সাধন ঘটেছে। মৌখিক পরীক্ষার হলে প্রতি আরবিট্রেশন সিটিংয়ে ৬ হাজার টাকা সরকারি তহবিলে আয়ের ব্যবস্থা হয়েছে, সেই টাকায় কমিশন চলারও উপযোগী। সেখানে একটি আর্কাইভ, জিমনেশিয়াম ও দুইজন থাকার স্যুটবিশিষ্ট বিশ্বমানের গেস্ট হাউজ করা হয়েছে।

সময়ের আবর্তে যখন জানলাম, সরকারি পরীক্ষায় জুডিশিয়ারির প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়, তখন সেটি নিরসনসহ অনলাইনে পরীক্ষার আবেদনপত্র জমার ব্যবস্থা করলাম। কমিশনের ওই পরীক্ষা উন্নয়নে আমি ভারত, যুক্তরাজ্য, স্কটল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও ইন্দেনেশিয়া গিয়ে তাদের সিস্টেম জানার চেষ্টা করি। ৫০০০-৮০০০ পরীক্ষার্থীর মধ্য থেকে ১০০ বা তারও কম চূড়ান্ত বাছাই প্রক্রিয়ায় প্রশ্নের ধরণ পাল্টে দিতে সচিবের সঙ্গে বসতাম, যা প্রশ্নপ্রণেতা ও মডারেটরদের বোধগম্যতা ছাড়িয়ে যেত। এতে একবার পাবলিক সার্ভিস কমিশনও তাদের মান সমুন্নত করতে আমাদের সাহায্য চায়।

আমাদের সমস্যা হচ্ছে, আমরা সুনির্দিষ্ট আইনের মাঝে নিজেদের গন্ডিবদ্ধ করেছি। সিডিউল অব দ্য রুলস ও পরীক্ষার সিলেবাস বিধিবদ্ধ। স্বাভাবিকভাবেই তাতে প্রশ্ন প্রণেতরা প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি করেন। বারংবার বলা সত্ত্বেও আইন সচিব কিছু করতে পারেননি। বাস্তবে কমিশনকে আইন সচিবই অকেজো করেছেন। আমি তাকে চার্ট ধরে দেখিয়েছি কারা অবসরে যাচ্ছেন, সেটা হিসাব করতে মাত্র ১০ মিনিট লাগে। তাকে বলে শেষে ১৫০টি শূন্যপদের মাঝে মাত্র ৫৪ জন প্রার্থী নেয়া হয়। পরীক্ষা পদ্ধতিও দেড় বছর সুদীর্ঘ। পুলিশ ভেরিফিকেশনের ছয় মাস পর মন্ত্রণালয় তাদের গেজেটভুক্ত করে। তাতে নিয়োগ বিলম্বিত হয় এবং জনগণ কোর্টে পস্তায়।

কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে ভারত সফরকালীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের উপস্থিতিতে সেদেশের প্রধান বিচারপতি আলতামাস কবিরসহ সিনিয়র জজদের সঙ্গে বৈঠকে তাদের ভূপালে ন্যাশনাল জুডিশিয়াল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে আমাদের জজদের প্রশিক্ষণ বিষয়ে প্রস্তাব দেই। তাদের চিফ জাস্টিস আশ্বস্থ করে বলেন, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ভুটানের জজরা সেখানে প্রশিক্ষণের সুযোগ পান। ফলে আমার ওই দায়িত্ব পালনকালীন প্রথম ব্যাচের জজরা সেখানে প্রশিক্ষণ নিতে যান। অনুরূপভাবে ইন্দোনেশিয়ায় গেলে সেখানকার প্রধান বিচারপতি ও জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কমিশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকে প্রতিভাদীপ্ত আইনের গ্রাজুয়েটদের বাছাই কার্যক্রম ‘গ্রিন হার্ভেস্টিং’ সম্পর্কে জানি, যারা তাতে সুনির্দিষ্টভাবে জজ ও আইনজীবী হন। তবে যুক্তরাজ্য ও স্কটল্যান্ডে নিয়োগ পদ্ধতিটি অন্য দেশ থেকে ভিন্ন। ইংল্যান্ডে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগে ন্যূনতম ব্যারিস্টার হওয়ার পাশাপাশি ১০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকা অপরিহার্য। দ্রষ্টব্য : ধারাবাহিক পর্যায়ে বিচারপতি সিনহা রচিত বইয়ের সপ্তম অধ্যায়ের চুম্বকাংশগুলোই এখানে তুলে ধরা হয়েছে। ই-মেইল : [email protected]

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত