প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জুতা কাহিনী!

ইসমাঈল হুসাইন ইমু : মসজিদে জায়গা না পেয়ে পাশে মাদ্রাসার বারান্দায় বসেছি।খুৎবার সময় লক্ষ্য করলাম এক নামাজী একপায়ের জুতা খুলে এক জায়গায় রেখে আরেক পায়ে জুতা পরেই হেটে চলছেন।

ভাবলাম ভুল করছেন নাকি? পরক্ষণেই দেখলাম অন্য পায়ের জুতাটা অন্তত ৪/৫ হাত দূরে রাখলেন।বুঝলাম জুতা চোর হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য বুদ্ধিদীপ্ত চেষ্টা। অর্থাৎ জুতা চোর জুতার পেয়ার যাতে খুঁজে না পায় সে জন্যই দুরে রাখা। কিন্তু নামাজী এই ভদ্রলোকের বুদ্ধিও হার মানবে এমন একটা ঘটনা হঠাৎ মনে পড়লো।

ছাত্রজীবনে মহল্লার একটা ছেলের (বন্ধুও বলা যায়) কথা স্মৃতিতে আসলো। প্রতি শবেবরাতের রাতে দল বেধে এলাকা থেকে আনুমানিক ৩ কি:মি: দূরে এক মাজারে নামাজ পড়তে যেতাম। বেশি ছোয়াবের আশায় বন্ধুদের সাথে নামাজ পড়ার উদ্দেশ্যে বের হলেও সাথে অন্যান্য দুষ্টুমিও চলতো।

নামাজ শেষে ভোরে ফেরার পথে সাথের ঐ ছেলে বিছানার চাদর দিয়ে মুড়িয়ে জুতা নিয়ে আসতো। ওকে এমন করতে দেখে নিষেধ করায় তেলে বেগুনে জ্বলে উঠতো। খুব রাগান্বিত স্বরে বলতো ‘তোরা কি আমাকে চোর ভাবিস আমি তো চুরি করিনি, না বলে নিয়ে এসেছি, এটা তো চুরি না। আমার প্রয়োজন তাই না বলে নিয়েছি, এই আর কি’ !!

চোরের মায়ের বড় গলা বলে কথা। পরক্ষনেই বলতো, ‘কদিন পরই ঈদ, আমাকে কি তোরা নতুন জুতা কিনে দিবি’? কথাটা সত্য, আমরাতো ওকে কিনে দিতে পারবো না। বলতো ‘প্রয়োজন হলে তোরাও পছন্দ করে একজোড়া নে, হিংসে করিস কেন’?

কথাগুলো মনে হতেই ভাবলাম আশপাশের ১০/১২ হাত এলাকার সব জুতা বিছানার চাদরে ভরে নেওয়া ঐ ছেলের থিউরীর কাছে আজকের এই নামাজী ভদ্রলোকের থিউরী নির্ঘাত মার খাবে। আর এত চেষ্টা করেও চুরি নামক বিড়ম্বনা না ঠেকাতে পারায় ভদ্রলোকের মনের অবস্থা কেমন হবে তা কোনো একসময় আমি কিছুটা বুঝেছিলাম। তবে নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় দু’পায়ে দু’রকম স্যান্ডেল বা জুতা ব্যবহার হয়ত চোরদের একটু লজ্জা দিতে সক্ষম হবে।

বেশ কিছুদিন আগে ডিউটি করতে করতে এক এডিসি স্যারের (বর্তমানে এক জেলার এসপি) সাথে পোশাক পরা অবস্থায় আসরের নামাজের জন্য মসজিদে ঢুকেছি। নামাজ শেষে সিড়ির কাছে রেখে যাওয়া জুতাটা না দেখে…।

চুরি করা চোর এতে লজ্জা না পেলেও ঘটনা বুঝতে পেরে আমার জন্য স্যার নিজে খুব লজ্জা পেলেন। বললেন, ‘ঘাবড়াবেন না, কেউ যেন বুঝতে না পারে, যেহেতু পায়ে কালো রংয়ের জুতা সদৃশ মোজা আছে তাই স্মার্টলি হাটুন’। স্যারের কথামত কাজ করলাম। দেখলাম স্যার ওঁনার গাড়ীটা দ্রুতই মসজিদের সিড়ির কাছে আনালেন। বললেন, ‘উঠে চলে যান’।

থানায় নেমেও কিছু হয়নি কিছু হয়নি ভাব নিয়ে খুব স্মার্টলি অফিসে ঢুকলাম। স্যারের বদান্যতায় সে যাত্রা ইজ্জত রক্ষা হলেও বৌয়ের কাছে অপদার্থ টাইপের ঝাড়ি থেকে বাঁচার জন্য নানান ফন্দি আটলাম। কাজ খুব একটা হলো না। এমন পরিস্থিতির জন্য মনে মনে চোরের গুষ্টি তুলে…। তাতে আর কি, চোরে কি জানে গালির(!) কাহিনী!! সূত্র- যাত্রাবাড়ী থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলীর ফেসবুক ওয়াল থেকে নেয়া।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত