প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

জয়তু শেখ হাসিনা

বিভুরঞ্জন সরকার : বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, দেশের বৃহত্তম এবং প্রাচীনতর রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা এবার একাত্তর বছর অতিক্রম করলেন। বাহাত্তরে পা দিলেন। অতিক্রান্ত একাত্তর তাকে কি দিল? তিনিইবা কি দিলেন দেশকে? ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর তার জন্ম গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায়। বাবা শেখ মুজিবুর রহমান, মা বেগম ফজিলাতুন্নেছা। বাবা রাজনীতিবিদ। স্কুল জীবন থেকেই শেখ মুজিবের রাজনীতিতে হাতেখড়ি। পাকিস্তান আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরপরই নতুন উপলব্ধি। বাঙালির অধিকার ও মর্যাদা পাকিস্তান রাষ্ট্রে পূরণ হওয়া সম্ভব নয়। সোহরাওয়ার্দী-ভাসানী প্রমুখ সিনিয়র নেতাদের নিয়ে গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই এগিয়ে নেয়ার জন্য আওয়ামী লীগ নামের রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠা। তারপর তো ইতিহাস। জেল-জুলুম-অত্যাচার উপেক্ষা করে দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর অব্যাহত সংগ্রাম। অনিশ্চিত জীবন। মানুষকে ভালোবেসেছিলেন শেখ মুজিব। মানুষও তাকে ভালোবাসা দিয়েছে হৃদয় উজাড় করে। শাসকগোষ্ঠী তার জন্য ফাঁসির মঞ্চ তৈরি করেছে আর বাংলার দুঃখী মানুষ তার জন্য জায়গা করেছে হৃদয়মন্দিরে। গণশক্তির প্রবল চাপ তাকে কারামুক্ত করেছে। বঙ্গবন্ধু হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

সত্তরের নির্বাচনে দিয়েছে একচেটিয়া ভোট। বাঙালির হয়ে লড়াই-সংগ্রামে নেতৃত্বদানের বৈধ অধিকার। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বুঝতে ও চিনতে ভুল করেছে বাঙালিকে। বাঙালির নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের তেজ ও দীপ্তি নিয়েও তাদের সঠিক ধারণা ছিল না। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতার হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেয়ার বদলে ইয়াহিয়া-ভুট্টো চক্র বাঙালির ওপর সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে এবং পাকিস্তান রাষ্ট্রের পতন অনিবার্য করে তোলে। শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের। তাই শেখ হাসিনার বাবা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা তথা জাতির পিতা। তার মা গৃহবধূ হলেও রাজনীতিবিমুখ ছিলেন না। বরং বলা যায়, রাজনীতিবিদ স্বামীর সুখ-দুঃখের চিরসাথী হয়ে একদিকে তাকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন, অন্যদিকে নানা উপায়ে দলের নেতা-কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখা, স্বামীকে লড়াই-সংগ্রামে অনুপ্রাণিত করা অর্থাৎ সবদিক সামলে শেখ মুজিবের রাজনৈতিক বিকাশের পথ বাধামুক্ত করেছেন বেগম ফজিলাতুন্নেছা।এমন বাবা-মায়ের বড় সন্তান শেখ হাসিনা। রাজনীতি তার অস্থিমজ্জায়। তিনি তার বাবার রাজনৈতিক উত্থান নিজের চোখে দেখেছেন।

একদিকে শেখ মুজিব রাজনীতির গগনে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছেন, সবাইকে পেছনে ফেলে একদল বিশ্বস্ত সহযোগী নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন, অন্যদিকে শেখ হাসিনাও বেড়ে উঠছেন। ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে রাজনীতির পাঠ গ্রহণ করছেন। স্কুল-কলেজে পড়তে নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্যতাও অর্জন করছিলেন। ১৯৬৬ সালে বেগম বদরুন্নেছা কলেজ ছাত্রী সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগের প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।

শেখ হাসিনা একজন রাজনীতিবিদ হয়ে উঠুন কিংবা রাজনীতির মতো একটি অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ জীবন তার মেয়ে বেছে নিক সেটা সম্ভবত শেখ মুজিবুর রহমান চাননি। বিশেষ করে তার বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দেয়ার পর শেখ মুজিব হয়তো পরিবার স্ত্রী-তথা স্ত্রী-সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উৎকণ্ঠায় ছিলেন। সে জন্যই হয়তো বড় মেয়ে শেখ হাসিনার পড়াশোনা শেষ না হতেই বিয়ে দিয়ে দেন পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে। স্বামীর সংসারে গিয়ে মেয়ের জীবন নিরাপদ হবে বঙ্গবন্ধু হয়তো তাই ভেবেছিলেন। হয়েছেও তাই। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ হাসিনা যদি স্বামীর সঙ্গে বিদেশে না থাকতেন, তাহলে তার কি পরিণতি হতো কল্পনা করলেও গা শিউরে ওঠে।

দুই. শেখ হাসিনা যে রাজনীতিতে এলেন, তিনি যে আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব নিলেন, রাজনৈতিক প-িতদের সব ভবিষ্যৎবাণী মিথ্যা প্রমাণ করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনলেন এর কোনোটাই কি হওয়ার কথা ছিল? তার রাজনীতিতে আসা কোনো আনন্দযাত্রার মাধ্যমে নয়। তিনি রাজনীতিতে এলেন শোক, বেদনা, অশ্রুর সরণি বেয়ে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট একদল কুলাঙ্গার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে সপরিবারে হত্যা করে। শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা সেদিন দেশের বাইরে থাকায় সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যান। বাবা-মা, ভাই-ভ্রাতৃবধূসহ আরো অনেক আপনজন হারানোর দুর্ভার বেদনা নিয়ে তাদের এই বেঁচে থাকা কত কষ্টের সেটা শুধু তারাই জানেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিল এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে। রাজনীতির গতিপথ বদলে দেয়াই ছিল মূল লক্ষ্য। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ যাতে আর মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে, স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি যেন রাজনীতির মূলধারা হয়ে উঠতে না পারে, সে অপচেষ্টাই মুজিব-হত্যা পরবর্তী সময়ে ক্ষমতাসীনরা পরিকল্পিতভাবেই করছে। আওয়ামী লীগকে দুর্বল করা, দলের মধ্যে বিভেদ-কোন্দল তৈরি করে দলকে অজনপ্রিয় ও জনবিছিন্ন রাখা এসব পরিস্থিতির মধ্যে ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে তাকে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। তখন তিনি দিল্লিতে নির্বাসিত জীবনযাপন করছিলেন।

১৯৮১ সালের ১৭ মে এক বর্ষণমুখর বিকেলে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দেশে ফেরেন। প্রাথমিক বিহ্বলতা কাটিয়ে উঠতে কিছুটা সময় অবশ্যই লেগেছে। কিন্তু খুব দ্রুতই সবার কাছে, এমন কি দলের ‘চাচা’দের কাছেও এটা স্পষ্ট হয়ে উঠতে থাকে যে তিনি শেখ মুজিবের মেয়ে। রক্তে তার রাজনীতি। বাবা যেমন ক্রমাগত নিজেকে অতিক্রম করে সবার থেকে আলাদা হয়ে উঠেছেন, ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন, কন্যাও তেমনি ধাপে ধাপে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন, আর কেবলই সামনে এগিয়েছেন। মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছেন। চলার পথটা মোটেও মসৃণ ছিল না। ষড়যন্ত্র ছিল ভেতর থেকেও যেমনি, বাইরে থেকেও তেমনি। পিতার মতো নেতৃত্বগুণ শেখ হাসিনার মধ্যে আছে কি না, সে সংশয় কারো কারো মধ্যে ছিল। তাকে ব্যর্থ প্রমাণ করার অপচেষ্টাও ছিল। কিন্তু সব বাধা ডিঙিয়ে শেখ হাসিনা এখন বাংলাদেশের একজন সফল রাজনীতিবিদ, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একজন রাষ্ট্রনায়ক। নানাভাবে এই স্বীকৃতি তিনি পেয়েছেন। শেখ হাসিনা তার ৩৭ বছরের রাজনৈতিক জীবনে অনেক রেকর্ড অর্জন করেছেন, অনেক অতীত রেকর্ড ভঙ্গ করেছেন। তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মাত্র ৩৪ বছর বয়সে। বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন ৪৬ বছর বয়সে। বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের প্রধান নেতা ছিলেন সাত বছর। অন্যদিকে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন ৩৭ বছর ধরে।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই আওয়ামী লীগ সবচেযে বেশি সময় শাসনক্ষমতায় অধিষ্ঠিত আছে। এবার মেয়াদপূর্ণ হলে ১৫ বছর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। পর পর দুই মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার অতীত কোনো নজির দেশে না থাকলেও শেখ হাসিনা নতুন নজির সৃষ্টি করছেন। তিনি টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার প্রধানের দায়িত্বে আছেন। শেখ হাসিনা সংসদে বিরোধী দলের নেতাও ছিলেন তিন মেয়াদে। এটাও একটি রেকর্ড। তিন দফা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার ঝুলিতে অসংখ্য সাফল্য জমা হয়েছে। সমস্যা সমাধানে তার রয়েছে এক জাদুকরী ক্ষমতা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ হোক কিংবা হোক রাজনৈতিক সংকট কী হবে ভেবে যখন অনেকের মুখ শুকিয়ে যায়, তখন শেখ হাসিনা সবার কাছে বরাভয় হয়ে উপস্থিত হন। তার ধৈর্য, সাহস, উপস্থিত বুদ্ধি, দূরদর্শিতা সংকটকালে তার সরকার ও দলকে রক্ষা করতে বিশেষ সহায়ক ভূমিকা পালন করে। শেখ হাসিনা আছেন কাজেই চিন্তা নেই এট যে কত বড় আস্থা ও বিশ্বাসের ব্যাপার সেটা ব্যাখ্যা করে বলার মতো নয়।

তিন. শেখ হাসিনার কোনো রাজনৈতিক কৌশল, কোনো কোনো বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক বা ভুল বোঝাবুঝির জন্ম দেয় না, তা কিন্তু নয়। বিশেষ করে বিপরীত আদর্শের রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে সমঝোতা বা সমন্বয় নিয়ে সমালোচনা-আলোচনা হয় বেশি। গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিতর্ক-সমালোচনা-প্রশ্ন খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। পৃথিবীতে এমন একজন রাজনীতিবিদ বা রাষ্ট্রনায়ক পাওয়া যাবে কি যিনি একেবারেই বিতর্কের ঊর্ধ্বে? দেখার বিষয় হলো, কোনো রাজনৈতিক উদ্যোগ বা কৌশল দেশের কিংবা মানুষের বৃহত্তর স্বার্থে পরিপন্থি হয় কি না। শেখ হাসিনার কোনো রাজনৈতিক কৌশলের কারণে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রমাণ করা যাবে কি?

২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেভাবে, যে প্রক্রিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন আছে, বিতর্ক আছে। কেউ কেউ বলে থাকেন, ওই নির্বাচন শেখ হাসিনার গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। গণতান্ত্রিক অধিকার, মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যে নেত্রী সাহসী নেতৃত্ব দিয়েছেন, তিনি কীভাবে ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচন মেনে নেন? এক্ষেত্রেও বলার কথা, এটাই যে, গণতন্ত্রের বৃহত্তর স্বার্থেই গণতন্ত্রকে কখনো কখনো কিছুটা কঠোর, কখনো কিছুটা আপসকামী হতে হয়। নির্বাচন না হওয়ার চেয়ে একটি মন্দ নির্বাচনও গণতন্ত্রের জন্য মঙ্গলজনক। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন যথাসময়ে না হলে কি গণতন্ত্রের জন্য ভালো হতো? একটি ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচন করেও শেখ হাসিনা গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা যেমন রক্ষা করেছেন, তেমনি দেশকে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বিপদ থেকেও রক্ষা করেছেন। রাজনৈতিক প-িতদের পরামর্শ শুনে যদি শেখ হাসিনা রাজনৈতিক কৌশল ও পরিকল্পনা ঠিক করতেন তাহলে দেশ আজ যে উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে চলতে শুরু করেছে তা সম্ভব হতো না।

আওয়ামী লীগের বাইরে যদি তার নির্ভরযোগ্য গণতান্ত্রিক মিত্র থাকতো, বাম-প্রগতিশীল শক্তির যদি যথেষ্ট জনসমর্থন থাকতো, শক্তি সমাবেশের সক্ষমতা থাকতো তাহলে হয়তো শেখ হাসিনাকে ধর্মাশ্রয়ী সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে কৌশলগত অবস্থান নিতে হতো না। আমাদের দেশে সাধারণত নির্মোহ রাজনৈতিক আলোচনা-পর্যালোচনা হয় না। আমাদের দেখার চোখ একপেশে। হয় ভালো, না হলে খারাপ এর মাঝামাঝি কিছু নেই। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ভাবে কী বিরুদ্ধ স্রোত মোকাবিলা করে শেখ হাসিনাকে রাজনীতির নৌকা বেয়ে যেতে হচ্ছে, সেটা একটু বিবেচনায় নিয়ে তার সাফল্য-ব্যর্থতার পরিমাপ করা উচিত।

চার. অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক-উদার রাজনীতির স্বার্থেই অনেকেই মনে করেন, শেখ হাসিনাকে দেশবাসীর অব্যাহত সমর্থন দিয়ে যাওয়া উচিত। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় না এলে বাংলাদেশ ভয়াবহ পরিণতির দিকে ধাবিত হতো, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এসব কিতাবি বিষয় হয়ে থাকতো। বাংলাদেশে কোনো দিন বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হতো না। কেউ কি ভেবেছিলেন, একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনকারী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাংলাদেশে হবে? তাদের পালের গোদাদের ফাঁসির রায় কার্যকর হবে? পার্বত্য শান্তি চুক্তি থেকে শুরু করে ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা অনেক সমস্যারই সমাধান করছেন তিনি। কূটনৈতিক ক্ষেত্রে অনেক অসাধ্য তিনি সাধন করছেন। তার পিতা আমাদের একটি স্বাধীন ভুখ- উপহার দিয়েছেন। আর তিনি সেই দেশটিকে বিশ্বসভায় মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার মতো মানবতাবাদী, মানবিক রাজনীতিবিদ এখন সারা দুনিয়াতেই খুব বেশি নেই। তাকে টানা ক্ষমতায় দেখে যাদের বুকে জ্বালা করছে, তারা বুঝতে পারবেন তিনি ক্ষমতায় না থাকলে কি পরিণত হয় দেশে।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বগুণ, তার হাত ধরে নতুন এক বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানো, এগিয়ে চলা এগুলো যারা দেখতে পান না, স্বীকার করেন না, ‘সেসব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি’। শেখ হাসিনাকে একাধিকবার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। ২০০৪ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় থাকতে তাকে হত্যার জন্য ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাও হয়েছে। কারা এসব হামলার পেছনে ছিলো, কারা মদদদাতা, তা কি এখন কারো অজানা?

সব জেনেও একটি বৈরি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিয়ে রাজনীতি করার উদারতা একমাত্র শেখ হাসিনাই দেখিয়ে চলেছেন। দল ও দেশের গুরুভার বহন করে লেখালেখির জন্য সময় খুব বেশি পাওয়ার কথা নয়। তারপরও শেখ হাসিনার লেখা বেশ কয়েকটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে এবং এগুলো পাঠকপ্রিয় হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর লেখা এবং তার সম্পর্কে পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের তথ্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক গ্রন্থ তার উদ্যোগ অথবা সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে।

বিশ্বের বেশ কয়কটি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি যেমন দিয়েছে, তেমনি তিনি তার কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক পদক ও পুরস্কারও লাভ করেছেন। নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্যও তার নাম আলোচনায় এসেছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ব্রত ছিল দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীত্ব চাই না, বাংলার মানুষের ভালোবাসা চাই।’ বাংলার মানুষ তাকে দুটোই দিয়েছে।

পিতার পথ অনুসরণ করে শেখ হাসিনাও মানুষকে কিছু দেয়ার রাজনীতিই করছেন। সবাইকে হয়তো চাহিদা অনুযায়ী সব কিছু দিতে পারেননি এখনো। তবে তা সে চেষ্টা অব্যাহত আছে। তার সাফল্য তো আসলে মানুষেরই সাফল্য।

জন্মদিনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। তার নিরোগ কর্মক্ষম শতায়ু কামনা করি।

লেখক: গ্রুপ যুগ্ম -সম্পাদক, আমাদের নতুন সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত