প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভিশনারি-মিশনারি নেতা শেখ হাসিনার ৭০তম জন্মবিার্ষিকীতে শুভেচ্ছা-অভিনন্দন

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী : ১৯৪৮ সালের আজকের এই দিনে ২৮ সেপ্টেম্বর তৎকালীন নেতা শেখ মুজিব এবং তার স্ত্রী ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের সংসারে প্রথম সন্তান হিসেবে জন্ম নেন শেখ হাসিনা। মুজিব তাকে আদর করে ডাকে ‘হাসু’ হিসেবে। মুজিব অচিরেই আওয়ামী লীগ নেতা, বাঙালি জাতীয়তাবাদের শ্রেষ্ঠ নেতা, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা, জাতির জনক হলেন। তৃতীয় বিশে^র একজন আলোচিত নেতা রূপেও পরিচিত হলেন। বঙ্গবন্ধু সন্তানদের ভালোবাসার ক্ষেত্রে কার্পণ্য করেননি। তবে রাজনীতি তাকে তাদের সাথে বসবাসের সুযোগ কম দিয়েছে। তাই বলে স্ত্রী ও সন্তান-কেউই পারিবারিক বন্ধন ও ভালোবাসার বাইরে ছিটকে পড়েনি। বরং সবাই বঙ্গবন্ধুর জীবন ও রাজনীতিকে সহায়তা করেছেন। যে যার মতো করে বেড়ে উঠেছিলেন। বঙ্গবন্ধু পরিবার এবং জনগণকে সমানভাবে ভালোবাসা দিয়ে নিজেকে উজাড় করতে চেয়েছিলেন। কখনো পরিবারের কাউকে অবৈধ সুযোগ-সুবিধা দিয়ে বড় করতে চাননি। এমনকি নিজের অবর্তমানে পরিবারের কেউ দল বা সরকারের কেউ হন তেমন চেষ্টাও করেননি। সন্তানরা যার যার অবস্থানের গ-িও অতিক্রম করেননি। কিন্তু ইতিহাস এমন সব বিস্ময়কর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি আমাদের করে, যা ভাবতেই নানা চিন্তায় সবাইকে আপ্লুত করার উপাদান রেখে যায়।

১৯৭৫ সালের মর্মান্তিক হত্যাকা- বঙ্গবন্ধু পরিবারের জন্যই নয়, গোটা রাষ্ট্র ও জাতির জীবনেই শূন্যতার সৃষ্টি করেছিল। শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা ভাগ্যগুণে বেঁচে গেলেও তারা কখনো ভাবেননি, পিতার রেখে যাওয়া কোনো কিছুর উত্তরাধিকার তারা হতে পারবেন। পঁচাত্তরের প্রায় ৬ বছর পর রাজনীতির মাধ্যাকর্ষণ শেখ হাসিনাকে প্রবাস থেকে নিজ দেশে টেনে নিয়ে আসে। শেখ হাসিনার পিতার সম্পদ নয় বরং রাজনীতির শূন্যস্থানে প্রথমে শারীরিকভাবে, অচিরেই আদর্শ, মেধা, সাহস, ত্যাে ইত্যাদি গুণাগুণে বেড়ে উঠলেন। পিতার মতোই একজন বিকাশমান, বিবর্তনশীল, প্রতিশ্রুতিশীল নেতা রূপেই গড়ে উঠতে থাকলেন। আমি তাকে সোভিয়েত নেতা ব্রেজেনেভের মৃত্যু উপলক্ষে প্রথম মস্কোতে দেখি। আরও দুবার মস্কোতে খুব কাছে থেকে দেখেছি। শোক সামলে তিনি কীভাবে দ্রুত দেশে রাজনৈতিক নেতৃত্বেও আসনে মর্যাদার সঙ্গে দাঁড়াতে হয়, তা লক্ষ্য করেছি। এর পরের ইতিহাস শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই দ্রুত বিকাশের, যা পিতার মতোই অতিক্রম করে দেশ ও জাতির নির্ভরযোগ্য আসন তৈরি করেছেন।

সর্বশেষ আমি তাকে কাছ থেকে দেখেছি ও কথা বলেছি ২০০৪ সালে। ২১ আগস্ট ট্র্যাজেডির অল্প কিছুদিন পর সুধাসদনে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নেতৃত্ব দিয়ে নিয়ে গিয়েছিলাম। আহতদের জন্য আমাদের যৎসামান্য অর্থ তার হাতে তুলে দিতে পেরেছিলাম। এরপর থেকে তাকে দেশের অন্য দশজন সচেতন মানুষের মতো আমিও দূর থেকে দেখেছি। আর অবাক হচ্ছি, বঙ্গবন্ধুর সেই ‘হাসু’ আজ বাংলাদেশকে কীভাবে বদলে দিয়েছে! উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশের বাস্তবতা তার মাধ্যমে কিভাবে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের হাতের নাগালের খুব কাছাকাছি চলে এসেছে! বঙ্গবন্ধুর সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ, সোনার বাংলাদেশ এখন আর অসম্ভব কিছু নয়। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শেও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ একসময় ফিকে হয়ে গিয়েছিল, যুদ্ধাপরাধীদের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা হয়ে গিয়েছিল। বিকৃত ইতিহাসের কলঙ্ক নিয়ে নতুন প্রজন্ম বেড়ে উঠছিল। হতদরিদ্র মানুষের হাহাকার বেড়েই চলছিল। সেই দেশ থেকে মঙ্গা উঠে গেছে, দারিদ্রমুক্ত হচ্ছে সমাজ, বিশ^ আসরে বাংলাদেশ আলোকিত হচ্ছে।

দিন বদলের বাংলাদেশ এখন মহাকাশেও স্থান করে নিয়েছে। গ্রামগঞ্জে এখন বিদ্যুতায়ন হচ্ছে। শিক্ষার আলো প্রতিটি ঘরে, শিশুর অন্তরে পৌছে যাওয়ার ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা এখন নিশ্চয়তা। সব মিলিয়ে এক সময়ের দরিদ্র বাংলাদেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশে প্রবেশ করেছে। এর পেছনে রয়েছে ভিশনারি ও মিশনারি নেতা হিসেবে শেখ হাসিনার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া। একই সঙ্গে জনগণের শ্রম ও কর্মনিষ্ঠা যৌথভাবে কাজ করছে। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন এমন নেতৃত্ব থেকে দূরে ছিল বলেই পিছিয়ে পড়েছিল। শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর পর দ্বিতীয় নেতা যিনি দেশকে নতুন উচ্চতায় তুলে আনছেন। ইতিহাসে নেতৃত্বের ভূমিকাকে খাটো করে দেখার উপায় নেই। শেখ হাসিনা সত্তর পার করলেও একজন প্রাণোচ্ছ্বল তরুণের মতো হাস্যোজ্জ্বল মানুষের মতো জীবনযাপন করছেন। পরিশ্রমী মানুষের মতো শ্রম দিয়েছেন। মেধাবী মানুষের মতো শ্রম দিচ্ছেন। মেধাবী মানুষের মতো চিন্তা উদ্ভাবন করছেন। দেশকে নিয়ে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন।

নিন্দুকেরাই কেবল তার ত্রুটি-বিচ্যুতিকে বড় করে নিজেদের ব্যর্থতাকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন। অপপ্রচার করে বেড়াচ্ছেন। ইতিহাসে চিরকাল মহৎ নেতারাই তাদের কর্মে উজ্জ্বল হয়ে থাকেন। অযোগ্য, দেশদ্রোহী, ইর্ষাপরায়ণরা হারিয়ে যেতে বাধ্য। শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার হিসেবে মর্যাদার আসন তৈরি করেছেন। সেই আসন মর্যাদার সাথেই থাকবে।

লেখক : অধ্যাপক, ইতিাহস বিভাগ, বাউবি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ