প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আপনার উপর কি হজ ফরজ?

আমিন মুনশি: ইসলামে হজ আদায়ের গুরুত্ব অপরিসীম। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘প্রত্যেক সামর্থ্যবান মানুষের ওপর আল্লাহর জন্য বায়তুল্লাহর হজ করা ফরজ।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ৯৭)

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করিম (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, সর্বাধিক উত্তম আমল কোনটি? তিনি বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের ওপর ইমান আনয়ন করা। পুনরায় জিজ্ঞেস করা হলো, এরপর কোনটি? তিনি বললেন, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা। পুনরায় জিজ্ঞেস করা হলো, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, হজে মাবরুর বা মকবুল হজ আদায় করা।’ (বুখারি শরিফ, হাদিস : ১৪২৯)

কেউ হজে গিয়ে মারা গেলে কিয়ামত অবধি হজের সওয়াব লাভ করবে। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি হজ, ওমরাহ অথবা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের উদ্দেশ্যে বের হয়, অতঃপর পথিমধ্যে তার মৃত্যু হয়ে যায়, তাহলে আল্লাহ তাআলা তাকে গাজী (যোদ্ধা), হাজি ও ওমরাহকারীর সওয়াব দান করবেন।’ (মিশকাত শরিফ, হাদিস : ২৫৩৯)

হাজিরা হলেন আল্লাহর মেহমান। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘হজ ও ওমরাহকারীরা হচ্ছেন আল্লাহর দাওয়াতি যাত্রীদল। যদি তাঁরা আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন, তিনি তা কবুল করেন। আর যদি তাঁরা তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন, তাহলে তিনি তাঁদের ক্ষমা করে দেন।’ (মিশকাত শরিফ, হাদিস : ২৫৩৬)

হজ মানুষকে পূত-পবিত্র করে নতুন জীবনে ফিরিয়ে আনে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনোরূপ অশ্লীল কথা বা গুনাহর কাজে লিপ্ত না হয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে হজ সম্পন্ন করে, সে সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে ফিরে আসে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৫২১)

প্রশ্ন হলো, কার ওপর হজ ফরজ?

এর জবাব হলো, হজ ফরজ হওয়ার জন্য পাঁচটি শর্ত রয়েছে। এক. মুসলিম হওয়া। দুই. আকল থাকা- অর্থাৎ বিবেকবান হওয়া, পাগল না হওয়া। তিন. বালেগ হওয়া, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া। চার. আজাদ বা স্বাধীন হওয়াÑঅর্থাৎ কারো গোলাম বা দাস না হওয়া। পাঁচ. দৈহিক ও আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান হওয়া।

স্মরণ রাখতে হবে যে কারো ওপর জাকাত ফরজ না হয়েও তার ওপর হজ ফরজ হতে পারে। কেননা হজ ও জাকাতের মধ্যে বিশেষ পার্থক্য রয়েছে। হজ ও জাকাতের মধ্যে পার্থক্য হলো, জাকাতের সম্পর্ক নির্ধারিত নিসাবের সঙ্গে। হজের সম্পর্ক মক্কায় আসা-যাওয়ার খরচের সঙ্গে। সুতরাং স্থাবর সম্পত্তির কিছু অংশ বিক্রি করে কেউ যদি হজ আদায় করতে সক্ষম হয় এবং হজ থেকে ফিরে এসে বাকি সম্পত্তি দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে, তাহলে তার ওপর হজ ফরজ। (ইমদাদুল আহকাম : ২/১৫২; আহসানুল ফাতাওয়া : ৪/৫১৬)

একইভাবে ব্যবসায়ীর দোকানে যে পরিমাণ পণ্য আছে, তার কিছু অংশ বিক্রি করলে যদি হজ করা সম্ভব হয় এবং ফিরে এসে যদি বাকি পণ্য দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা যায়, তাহলে তার ওপরও হজ ফরজ। (ইমদাদুল আহকাম : ২/১৫৩)

মনে রাখতে হবে যে আগে নিজের হজ আদায় করবে। পরে মাতা-পিতার চিন্তা করবে। সামর্থ্য থাকলে তাঁদের নিয়ে একসঙ্গে হজ করবে। অন্যথায় আগে নিজের ফরজ আদায় করবে। (রহিমিয়া : ৮/২৮২)

অনেকে মনে করেন, সন্তানের বিয়ে আগে দিতে হয়। তারপর হজ আদায় করতে হয়। অথচ এ কথা ইসলাম সমর্থিত নয়। ইসলামের দৃষ্টিতে সন্তানের বিয়েও খুবই জরুরি। তাই বলে সন্তানের বিয়ের জন্য হজে বিলম্ব করা যাবে না। (রহিমিয়া : ৮/২৭৬)

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ