প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আদালতের আদেশ অমান্য করে পীরগঞ্জে শিক্ষক নিয়োগ দিলেন প্রধান শিক্ষক

মো. জাকির হোসেন, পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার উজ্জলকোঠা উচ্চ বিদ্যালয়ের ইসলাম ধর্ম বিষয়ক শিক্ষক পদে লোক নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে ফলে ঠাকুরগাঁও আদালতে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। সেই সাথে ২৩-৪-২০১৮ ইং তারিখে পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রীর বরাবরে গণস্বাক্ষরিত এক অভিযোগ করেছে ঐ এলাকার ভূক্তভোগীরা।

জানা যায়, বিদ্যালয়টি ১৯৬৭ ইং সালে প্রতিষ্ঠার লগ্ন থেকে সুনামের সহিত শিক্ষার কাযক্রম অব্যাহত ছিল। বিগত সময়ে ঐ বিদ্যালয়ে আব্দুর রশিদ প্রধান শিক্ষক পদে দায়িত্ব পেয়ে বিদ্যালয়টি খেয়াল খুশি ভাবে চালিয়ে আসছেন।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে ধর্মীয় শিক্ষক পদে জনৈক ব্যক্তির চাকুরী শেষ হওয়ার নতুন ভাবে ঐ পদে শিক্ষক নিয়োগের জন্য প্রধান ম্যানেজিং কমিটিদ্বয়ের আলোচনার ভিক্তিতে শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্ত হয়। গত ৯-২-১৪ ইং তারিখে পত্রিকা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর এলাকার ৯ জন ব্যক্তি ঐ পদে আবেদন করেন। ৪-৩-১৪ ইং তারিখে সকল প্রার্থীর বৈধতা গণ হওয়ায় ২০-০৩-১৪ ইং তারিখে নিয়োগ পরিক্ষার দিন ধার্য্য হয়। পীরগঞ্জ বণিক সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে হলরুমে। সে সময় নির্দিষ্ট সময়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ডে উপস্থিত না হতে পারায় এবং স্বল্প সংখ্যক প্রার্থী উপস্থিতের কারণে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিয়োগ নির্বাচনী পরীক্ষা বাতিল পূর্বক পুনরায় পরীক্ষার তাং নির্ধারণ করেন। এরপর প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে কালক্ষেপন করেন। ঐ সময়ের ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ ৩-১১-১৪ শেষ হয়ে যায়। পরবর্তীতে ৮-১২-১৪ইং তারিখে নতুন ম্যানেজিং কমিটি নিযুক্ত হন। তবুও প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নিতে টালবাহানা করা কালে ১১-০১-১৫ ইং তারিখে রেজুলেশন করেন। সে সময় প্রধান শিক্ষক ৯জন প্রার্থীর মধ্যে তার মনোনিত প্রার্থী মকশেদা খাতুনকে দিয়ে। ১২-০৩-১৫ ইং তারিখে ঠাকুরগাঁও বিজ্ঞ পীরগঞ্জ সহকারী জজ আদালতে এক মোকাদ্দমা আনয়ন করেন। মোকদ্দমা নং ৭/১৫ অন্য মোকদ্দমায় ২১ জনকে বিবাদী করা হয়। মোকদ্দমার পরিপেক্ষিতে ১৩-০৫-১৫ ইং ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সহ উল্লেখিত বিবাদীর ১৩জন লিখিত জবাব দাখিল করেন। বিজ্ঞ জজ আদালত কর্তৃক মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বাদী অথবা আবেদনকারীর কাউকে নিয়োগ না দেওয়ার জন্য আদেশ দেন। এর মধ্যে মানেজিং কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় এডহক কমিটি নিযুক্ত করন করা হয়। প্রধান শিক্ষক আ. রশিদ এডহক কমিটির পরেই আবার গোপনে নতুন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি গয়ারাম চন্দ্র রায়কে নির্বাচিত করে। গোপনে পকেট কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক গোপনীয় ভাবে ৮-০১-১৮ ইং তারিখে বিজ্ঞ পীরগঞ্জ সহকারী জজ আদালতে বাদী ও ১-০৯-১৪-২১ নং বিবাদীর পক্ষে সোলেনামা সূত্রে মোকদ্দমাটি নিষ্পত্তির প্রার্থনা করে। সোলেনামায় শর্তাবলীর ১. অত্র মোকদ্দমার বাদী পক্ষ সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পাইতে হকদার মর্মে সোলেকারী বিবাদী পক্ষ স্বীকার করিয়া লইলেন। মর্মে ৫নং পর্যন্ত সোলেনামার স্বীকারক্তি রয়েছে। কিন্তু সোলেনামায় পুরো ২১জন বিবাদীর মধ্যে ১১ জনই স্বাক্ষর করে নাই মর্মে তাদের আপত্তি ছিল। সোলেনামায় শর্ত ছিল যে সকল বিবাদী গনই স্বাক্ষর করবেন।

এছাড়াও আবেদনকারী ও বিবাদীর মধ্যে ফেরদৌস আলী মোকদ্দমা ডিগ্রির পরিপেক্ষিতে জেলা জজ আদালত ঠাকুরগাঁও আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২১-০১-১৮ ইং তারিখে আদালত কর্তৃক শুনানীর দিন ধার্য্য হয় এবং একই দিনে জেলা জজ আদালত বাদীর পক্ষে ডিগ্রি স্থগিত করেন। এরপর সুচতুর প্রধান শিক্ষক আ. রশিদ আদালতের ডিগ্রির স্থগিতের আদেশকে অবজ্ঞা করে তার মনোনিত প্রার্থী ও আদালতের বাদী মোকশেদা খাতুনকে আপকৌশলে স্কুলের ইসলাম ধর্মীয় পদে যোগদান করান। এরপর অত্র বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ও এলাকার সচেতন সহলের মধ্যে বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ২৩-০৪-১৮ ইং তারিখে মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রীর বরাবরে নিয়োগ স্থগিতের জন্য ৪৪জন ব্যক্তি একটি গণ আবেদন করেন।
ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি গয়ারাম বলেন, কিভাবে নিয়োগ হল আমি জানিনা। এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক আঃ রশিদ বলেন,সব কিছু বৈধ ভাবে হয়েছে আপনাদের কেন কাগজ দেখাবো যাকে কাগজ পত্র দেখার তাকে দেখাবো।

পীরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এস.এম সাঈদ হাসান জানান, আমি সে সময় ছিলাম না নতুন এসেছি। তবে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত