প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আজকের ১১ তম তারাবিতে যা পড়া হবে

রাশেদুর রহমান : ১১ তম তারাবিতে সূরা হিজর এবং সূরা নাহল পড়া হবে। আজ পড়া হবে ১৪তম পারা। পাঠকদের জন্য আজকের তারাবিতে পঠিতব্য অংশের আলোচ্য বিষয় তুলে ধরা হলো সূরা হিজর, মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত ৯৯, রুকু ৬

এ সূরায় ‘হিজর’ উপত্যকায় বসবাসকারী কওমে সামুদের আলোচনা থাকায় সূরার নাম হিজর। হিজর উপত্যকা মদিনা ও শামের মধ্যখানে অবস্থিত। এ সূরার সূচনা হুরুফে মুকাত্তাআত দিয়ে এবং প্রথম আয়াতে কোরআনের পরিচয় ও গুণাগুণ বর্ণনা করা হয়েছে। সূরাটির মাঝে ইসলামের বুনিয়াদি আকিদার দৃঢ়তা বর্ণনা করা হয়েছে। এ সূরার গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাগুলো হলো :

১. কেয়ামতের দিন কাফেররা শাস্তির কঠোরতা দেখে আকাঙ্খা করবে হায়, যদি মুসলমান হতাম। কিন্তু সেদিনের এ আকাক্সক্ষা কোনো কাজেই আসবে না। দুনিয়ায় তারা মহানবীকে পাগল বলে বেড়াচ্ছে এবং তাঁর ঈমানি দাওয়াত গ্রহণ না করে পূর্ববর্তীদের ন্যায় অস্বীকারের পথ বেছে নিয়েছে। সুতরাং আগামীকাল তাদের হাশর তাদের জাহান্নামি বন্ধুদের সঙ্গেই হবে। (২-৬)।

২. কোরআনুল কারিম একমাত্র আসমানি গ্রন্থ, যা হেফাজতের দায়িত্ব স্বয়ং আল্লাহ নিয়েছেন। তাই কোরআন চিরকাল অবিকৃত থাকবে। (৯)।
৩. পরবর্তী আয়াতগুলোয় আল্লাহ তায়ালার কুদরত ও একত্ববাদের প্রমাণ আলোচনা করা হয়েছে। (৩-২২)।
৪. তাওহিদসংক্রান্ত প্রমাণাদির বর্ণনার পর মানুষ সৃষ্টির সূচনালগ্নের কাহিনি বর্ণনা করা হয়েছে। আদম (আ.) এর সৃষ্টির সময় থেকেই ইবলিস মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। তাই শয়তানের পথ পরিহার করে মুত্তাকিদের পথ অবলম্বনের ফায়দা বর্ণনা করা হয়েছে। মুত্তাকিদের ঠিকানা হলো জান্নাত। (২৬-৪৮)।

৫. জান্নাতের আলোচনার পর সূরা হিজর বান্দার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহের আলোচনা করেছে। বান্দা যত গোনাহ করুক, নিরাশ হওয়ার কিছু নেই। রবের রহমতের দুয়ার তার জন্য সদা খোলা। (৪৯-৫০)।
৬. বুড়ো বয়সে ইবরাহিম (আ.) এর সন্তান লাভ (৫১-৫৬), গোনাহের কারণে নবী লুত ও সালেহ (আ.) এর সম্প্রদায়ের ধ্বংস প্রসঙ্গে আলোচনার (৫৮-৮৪) পর বলা হয়েছে, কোরআনের নেয়ামত যে পেল, সম্পদশালীদের প্রতি দৃষ্টি প্রসারিত করা তার শান ও মানের খেলাফ, উচিতও নয়। সূরা ইবরাহিমের মতো এ সূরারও সূচনা এবং সমাপ্তি কোরআনের আলোচনা দিয়েই হয়েছে। (৮৭-৯৪)।
সূরা নাহল, মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াতসংখ্যা ১২৮, রুকু ১৬
নাহল বলা হয় মৌমাছিকে। যেহেতু এই সূরায় মৌমাছির আলোচনা এসেছে, তাই এর নাম সূরা নাহল। মৌমাছি সাধারণ মাছির মতোই। কিন্তু আল্লাহর হুকুমে সে বিস্ময়কর সব কর্ম সাধন করে। চাক বানানো, আপসে বিভিন্ন দায়িত্ব বণ্টন করা, দূরে বহুদূরে অবস্থিত বৃক্ষলতা, গাছপালা, বনবনানি ও ফসলি খেত থেকে ফোঁটা ফোঁটা করে মধু সংগ্রহসহ কত কিছু যে করে এই ছোট্ট প্রাণীটি। তার সব কাজই বড় বিস্ময়কর। ‘চিন্তাশীলদের জন্য এতে খোরাক রয়েছে। (৬৯)। যদি কোনো উদার মনের মানুষ শুধু মৌমাছির জীবনচক্রের ব্যাপারে চিন্তা করে, তাহলে সে আল্লাহর অস্তিত্ব, তাঁর অসীম কুদরত ও সূক্ষ্ম হিকমতের স্বীকারোক্তি না করে পারবে না।

সূরা নাহলের অপর নাম সূরা নি’আম। কেননা এ সূরায় অনেক বেশি পরিমাণে আল্লাহর নেয়ামতের কথা আলোচিত হয়েছে। সূরার শুরু থেকে অধ্যয়ন করলে দেখা যায়, প্রথমে কেয়ামত ও ওহির আলোচনা করা হয়েছে। মুশরিকরা তা অস্বীকার করত। এরপর আল্লাহ তায়ালার অসংখ্যা নেয়ামতের ধারাবাহিক বর্ণনা শুরু হয়েছে। তিনি পৃথিবীকে বিছানা আর আসমানকে ছাদ বানিয়েছেন। মানুষকে বীর্য থেকে সৃষ্টি করেছেন, চতুষ্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছেন। এগুলোর মাঝে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের উপকার। তিনিই সৃষ্টি করেছেন ঘোড়া, গাধা ও খচ্চর। এগুলো মানুষের বোঝা বহনের কাজে দেয় এবং তার জন্য সৌন্দর্যের প্রতীক হয়। বৃষ্টি তিনিই বর্ষণ করেন, তারপর সেই বৃষ্টি থেকে জইতুন, খেজুর, আঙুরসহ আরও অনেক ফলমূল ও লতাগুল্ম তিনিই সৃষ্টি করেন। রাত-দিন, চাঁদ-সূর্য সবই তাঁর সৃষ্টি। এগুলোকে তিনি সর্বদা মানুষের সেবায় নিয়োজিত রেখেছেন। দরিয়ায় তাজা মাছের মাংস এবং অলংকার তিনিই প্রস্তুত করেন। সাগরের বুকে জাহাজ তাঁরই হুকুমে চলমান থাকে। রক্ত ও গোবরের মাঝখান থেকে সাদা দুধ তিনিই বের করে আনেন। উল্লেখিত ও অন্যান্য নেয়ামতের আলোচনার পর মহান আল্লাহ তায়ালা বলছেন, ‘যদি তোমরা আল্লাহর নেয়ামত গণনা করতে চাও, তাহলে গুনে শেষ করতে পারবে না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ অনেক বড় মেহেরবান।’ (১৮)।

এ সূরায় সেই প্রসিদ্ধ আয়াতটি রয়েছে, যা সম্পর্কে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেছেন, কোরআনে কারিমের এই আয়াতে সবকিছুর দিকনির্দেশনা রয়েছে। আয়াতটির ব্যাপকতার কারণে ওমর ইবনে আবদুল আযীয (রহ.) এর খেলাফতের সময়কালে প্রত্যেক খতিব জুমার খুতবায় এই আয়াত পাঠ করতেন এবং এখনো পাঠ করা হয়। এটি সূরার ৯০ নম্বর আয়াত। এ আয়াতে ইনসাফ, সদ্ব্যবহার এবং নিকটাত্মীয়দের দান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সব ধরনের নিকৃষ্ট কথা ও কাজ, শরিয়তের অপছন্দীয় কর্মকা- এবং জুলুম ও ঔদ্ধত নিষেধ করা হয়েছে।
সূরার শুরুর আয়াতগুলো ছিল তাদের প্রশ্নের জবাবে, যারা রাসুলের কাছে দ্রুত আজাব নিয়ে আসার তাগিদ জানাত। এসব বেহুদা দাবির কথা শুনে নবীজি (সা.) এর মন খারাপ হতো। তাই সূরার শেষের আয়াতগুলোয় নবীজিকে সবরের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। আল্লাহু আকবর, সূরার শুরু থেকে শেষে কত সুন্দর মিল পরিলক্ষিত হচ্ছে। সূত্র: আলোকিত বাংলাদেশ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত