প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মাহে রমজানকে স্বাগত জানাবেন যেভাবে

আমিন মুনশি: রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের সওগাত নিয়ে বিশ্ব মোমিন-মুসলমানের দ্বারে আবারও এসে উপস্থিত হয়েছে সাম্য, সৌহার্দ্য, সম্প্রীতির, ভ্রাতৃত্ব, মানবিকতা, ত্যাগ, সংযম ও আত্মশুদ্ধির মাস মাহে রমজান। পূণ্য অর্জনের ভরা মৌসুম এই মাসের প্রতিটি ক্ষণ, প্রতিটি দিবস, প্রতিটি রজনী। তাই মাসটির গুরুত্ব অন্য মাসগুলো থেকে বেশি। অনেক বেশি মূল্যবান। এ মাসেই মহান আল্লাহ মহাগ্রন্থ আল কোরআন নাজিল করেছেন আর মুমিন-মুসলমানের জন্য সিয়াম সাধনা তথা রোজাকে ফরজ করেছেন। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে তিনি নিজেই ঘোষণা করেছেন, ‘রমজান মাস, এতে মানুষের পথপ্রদর্শক ও সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন এবং ন্যায় ও অন্যায়ের মীমাংসারূপে কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে। অতএব, তোমাদের মধ্যে যে এ মাস পাবে সে যেন এ মাসে অবশ্যই রোজা রাখে।’ (সূরা বাকারা, আয়াত ১৮৩)

আরবি বর্ষপঞ্জির নবম মাস রমজান। এই মাসে পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে বিধায় এ মাসের গুরুত্ব অন্যান্য মাসের তুলনায় অনেক বেশি। এই মাসে এমন এক মহিমান্বিত রাত রয়েছে, যেটি মর্যাদার দিক থেকে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ঘোষণা করেছেন, ‘মহিমান্বিত রাত হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।’ (সূরা কদর, আয়াত ৩)
মহান রাব্বুল আলামিন এই মাসে রোজাদারদের জন্য নেক আমল বা ভালো কাজ করার উত্তম সুযোগ করে দিয়েছেন এবং মুমিনদের ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ করার জন্য নেক আমলের সওয়াব ১০ থেকে ৭০ গুণ পর্যন্ত বর্ধিত করার ঘোষণাও দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে হাদিস শরিফে উল্লেখ হয়েছে, যে ব্যক্তি এ মাসে কোনো নফল কাজ করল সে যেন অন্য মাসে একটি ফরজই আদায় করল। আর যে এ মাসে কোনো ফরজ আদায় করল সে যেন অন্য মাসে ৭০টি ফরজ আদায় করল। এ মাসের গুরুত্ব সম্পর্কে অপর এক হাদিসে রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, ‘এ মাসে বেহেশতের দরজাগুলো উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো তালাবদ্ধ থাকে আর শয়তানকে (তার সহচরদেরসহ) শৃঙ্খলাবদ্ধ করে রাখা হয়। (বুখারি ও মুসলিম)

আমরা আল্লাহর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যমে এই মাসকে স্বাগত জানাতে পারি। সকল পাপ-গুনাহ থেকে তাওবার মাধ্যমে রমজানকে স্বাগত জানাতে পারি। সকল প্রকার জুলুম-অন্যায় থেকে বের হয়ে রমজানকে স্বাগত জানাতে পারি। যাদের অধিকার ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে তাদের কাছে তাদের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার মাধ্যমে রমজানকে স্বাগত জানাতে পারি। ভালো কাজের মাধ্যমে রমজানের দিবস-রজনী যাপনের মানসিকতা নিয়ে রমজানকে স্বাগত জানাতে পারি। এ ধরনের আবেগ-অনুভূতির মাধ্যমেই মাহে রমজানের পবিত্র পরশে ধন্য হতে পারি আমরা। ব্যক্তি থেকে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে ছড়িয়ে দিতে পারি শান্তি ও সুন্দরের সুবাতাস।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত