প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সরে দাঁড়ালেন ট্রাম্প সমর্থিত প্রার্থী রনি জ্যাকসন

ডেস্ক রিপোর্ট : যুক্তরাষ্ট্রের ভেটেরান অ্যাফেয়ার্স বিভাগের সেক্রেটারি পদে নিয়োগ পেতে আগ্রহী রনি জ্যাকসন তার প্রার্থিতা প্রত্যহার করেছেন। চিকিৎসক রনি জ্যাকসন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীতে কর্মরত একজন রিয়ার অ্যাডমিরাল, যিনি বর্তমানে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত। জ্যাকসন মোট তিনজন প্রেসিডেন্টের চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রার্থিতাকে সমর্থন দিয়েছিলেন। ডেমোক্র্যাটরা কিছু অভিযোগ উত্থাপন করলে তার প্রার্থিতার বিরুদ্ধে প্রবল সমালোচনা শুরু হয়েছিল। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট লিখেছে, অভিযোগের প্রাবল্যে স্বয়ং ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি হলে সরে দাঁড়াতেন। শুরুর দিকে অভিযোগগুলোকে পাত্তা দিতে না চাইলেও শেষ পর্যন্ত সেটাই করতে হলো রিয়ার অ্যাডমিরাল রনি জ্যাকসনকে। হোয়াইট হাউসের চিকিৎসক রনি জ্যাকসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল, তিনি দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তাছাড়া একসাথে বিশাল পরিমাণ ওপিঅয়েড নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। এর ফলে তাকে সমালোচনা করে ‘ক্যান্ডিম্যান’ (মাদক সরবরাহকারী) আখ্যা দেওয়া হয়েছিল।

ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে একটি প্রতিবেদন প্রেরণ করা হয়েছিল যেখানে বলা হয়েছিল, ভেটেরান অ্যাফেয়ার্স সেক্রেটারির পদে ট্রাম্প যে রিয়ার অ্যাডমিরাল রনি জ্যাকসনকে সমর্থন করছিলেন তিনি প্রায়ই দায়িত্ব পালনকালে মদ খেতেন। বিশেষ করে বিদেশে অবস্থানকালীন সময়ে তার এমন আচরণ বেশি দেখা যেত। একবার কোনও এক ঘটনায় এমনও হয়েছে, চিকিৎসা দেওয়ার প্রয়োজনে তাকে ডেকেও পাওয়া যায়নি। কারণ তখন তিনি মাতাল হয়ে অচেতন ছিলেন। তাছাড়া হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তাকে তিনি এত বেশি পরিমাণে ওপিঅয়েড নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন যে সংশ্লিষ্টরা মনে করেছিলেন, ওই ওষুধগুলো আগেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

যেদিন তার প্রার্থিতা নিশ্চিত করার জন্য শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, সেদিনই অভিযোগগুলো জনসমক্ষে নিয়ে আসা হয়েছিল। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণের জন্য ওই শুনানি স্থগিত করা হয়। বুধবারেই তার পক্ষ নিয়ে ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি সারাহ হাকাবি স্যান্ডার্স জানিয়েছিলেন, অন্তত চারটি স্বাধীন তদন্ত চালানো হয়েছে জ্যাকসনের অতীত নিশ্চিতে। সেসব তদন্তে তার বিরুদ্ধে আপত্তিকর কোনও কিছু পাওয়া যায়নি।

ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে সিনেটর জন টেস্টার বলেছিলেন ডেমোক্র্যাটদের সব অভিযোগ শতভাগ সত্য এমন দাবি তিনি করছেন না। তবে অভিযোগগুলো জ্যাকসনের আচরণের মধ্যে থাকা অগ্রহণযোগ্য প্রবণতাকে স্পষ্ট করে তুলেছে। সমালোচনার মুখে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণের প্রক্রিয়া ‘খুব নোংরা ও খুব অসহনীয়’। যদি ‘তার স্থানে আমি থাকতাম, তাহলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতাম না।’ ট্রাম্প অবশ্য পরে জ্যাকসনের পক্ষে জোরালো অবস্থান জানান দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন।

রনি জ্যাকসনের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের খবর নিশ্চিত করে সিএনবিসি এ বিষয়ে তার দেওয়া বক্তব্য তুলে ধরেছে। রনি জ্যাকসন প্রার্থিতা প্রত্যাহারের বিষয়ে বলেছেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ অসত্য ও বানোয়াট। অভিযোগগুলোর যদি কোনও সত্যতা থেকে থাকত তাহলে গত বারো বছর ধরে তিন তিন জন প্রেসিডেন্টের চিকিৎসক হওয়ার মত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হতো না।’ সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত