প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যে ২০ কিংবদন্তি ব্যালন ডি’অর জেতেননি কখনোই

স্পাের্টস ডেস্ক : আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার হাতে কখনোই ব্যালন ডি’অর তুলে দিতে না পারায় নিজেদের অপরাধি ভাবছে ফ্রান্স ফুটবল। সেই অপরাধ বোধ থেকেই ইনিয়েস্তার কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছে ব্যালন ডি’অর পুরস্কার প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের বিশ্বখ্যাত ফুটবল সাময়িকী ‘ফ্রান্স ফুটবল’-এর সম্পাদক প্যাসকল ফেরে। তিনি ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিয়েছেন, ‘গনতান্ত্রিক অনিয়মের’ কারণেই ইনিয়েস্তার ভাগ্যে ব্যালন ডি’অর জুটেনি। ইনিয়েস্তার জন্য তাই আক্ষেপ ঝরেছে তার কণ্ঠে।

ইনিয়েস্তা তাই এক অর্থে ভাগ্যবানই। কারণ, ব্যালন ডি’অর প্রদানকারী ফ্রান্স ফুটবল-এর প্রধান তার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। প্যাসকলের এই ক্ষমা প্রার্থনার মধ্যদিয়ে এটা প্রমাণিত হয়েছে, ব্যালন ডি’অর জয়ের যোগ্যতা তার ছিল। বিশ্বসেরা খেলোয়াড়ের সোনার বলটা তার প্রাপ্য ছিল।

অন্তত একবার হলেও এই পুরস্কার প্রাপ্তির উৎসব তিনি করতে পারতেন। কিন্তু অনিয়ম, পক্ষপাতের কারণেই ইনিয়েস্তা নিজেকে সোনার বল’টার ঝিলিকে নিজেকে রাঙাতে পারেননি। তবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না পেলেও ইনিয়েস্তা এখন ভাবতেই পারেন, ‘অন্তত এক বছর আমি বিশ্বসেরা খেলোয়াড় ছিলাম।’

ইনিয়েস্তার ভাগ্যে তবু এই সান্ত্বনা জুটল। কিন্তু ফুটবল ইতিহাসে এমন অনেক ফুটবলার আছেন, যাদের ভাগ্যে এই সান্ত্বনাটুকুও জুটেনি। বিশ্ব ফুটবল ইতিহাসে ইনিয়েস্তার মতো দুর্ভাগা খেলোয়াড় অনেকেই আছেন, যারা অমিয় প্রতিভা, সামর্থ, দক্ষতা, উজ্জীবিত পারফরম্যান্স-নৈপূণ্যে ইতিহাসের পাতায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন নিজেদের। নাম লিখিয়েছেন কিংবদন্তির খাতায়। কিন্তু বর্ণাঢ্য ফুটবল ক্যারিয়ারে তারা কখনোই ব্যালন ডি’অর জিততে পারেননি। ইনিয়েস্তার মতো তাদের জীবনেও ‘ব্যালন ডি’অর’ হয়ে আছে চির আক্ষেপের নাম।

ইনিয়েস্তার প্রতি প্যাসকলের আক্ষেপের সূত্র ধরেই ইতিহাসের পাতা ঘেটে দুর্ভাগা সেই কিংবদন্তির একটা তালিকা করেছে স্পেনের জনপ্রিয় ক্রীড়া দৈনিক মার্কা। পত্রিকাটি ইনিয়েস্তাসহ ২০ জন কিংবদন্তিকে খুঁজে বের করেছে, যারা কখনোই ব্যালন ডি’অর জয়ের স্বাদ পাননি।

পাঠকদের জন্য সেই দুর্ভাগা ২০ কিংবদন্তির নাম সংক্ষিপ্ত বিবরণীসহ তুলে ধরা হলো।

১, জাভি হার্নান্দেজ

বার্সেলোনার এই কিংবদন্তি খেলোয়াড়ী জীবনে জিতেছেন সম্ভাব্য সবকিছুই। ক্লাব বার্সেলোনার হয়ে ৮টি লিগ ও ৪টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ শিরোপা জিতেছেন ২৫টি। স্পেন জাতীয় দলের হয়ে জিতেছেন দুটি ইউরো ও একটি বিশ্বকাপ। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে ৩৮ বছর বয়সী জাভির অপূর্ণতা, অপ্রাপ্তি একটাই-কখনোই ব্যালন ডি’অরের সোনার বলটা উঁচিয়ে ধরতে পারেননি। তিন তিন বার সেরা তিনে জায়গা করে নিয়েছেন। কিন্তু একবারও সেরার পুরস্কার সোনার বলটা হাতে তুলতে পারেননি। তিনবারই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে তৃতীয় সেরার পুরস্কার পেয়ে।

২. রাউল গঞ্জালেস

ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর আগে তিনিই ছিলেন বিশ্বসেরা ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। জিতেছেন ৬টি লিগ ও ৩টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ অসংখ্য শিরোপা। নিখাঁদ স্ট্রাইকার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন অন্য উচ্চতায়। কিন্তু ৪০ বছর বয়সী রাউলের চির আক্ষেপ, কখনোই ব্যালন ডি’অর জেতা হয়নি। ২০০১ সালে মনোনয়ন পেলেও হয়েছিলেন দ্বিতীয় সেরা।

৩. পাওলো মালদিনি

ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ডিফেন্ডারদের তালিকা করলে নিশ্চিতভাবেই তাতে থাকবে পাওলো মালদিনির নাম। দীর্ঘ ২৪ বছর ক্লাব এসি মিলানের রক্ষণভাগের অতন্ত্র প্রহরী ছিলেন স্টাইলিশ এই ডিফেন্ডার। ইতালি জাতীয় দলেরও রক্ষণের নেতার দায়িত্ব পালন করেছেন ১৪ বছর। ৬টি লিগ ও ৫টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ ক্যারিয়ারে জিতেছেন অসংখ্য শিরোপা। ইতালি জাতীয় দলকে ১৯৯৪ বিশ্বকাপে করেন রানার্সআপ। প৪৯ বছর বয়সী মালদিনির প্রাপ্তির খাতাটা প্রায় পরিপূর্ণ। আক্ষেপ একটাই, দুনিয়া মাতালেও একবারও হাতে তুলতে পারেননি বর্ষসেরার পুরস্কার স্বপ্নের ব্যালন ডি’অর।

৪. জিয়ানলউজি বুফন

পাওলো মালদিনির মতো জিয়ানলুইজি বুফনের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। নিশ্চিতভাবেই সর্বকালের সেরা গোলরক্ষক একজন বুফন। ক্লাব জুভেন্টাসের হয়ে প্রায় সবকিছুই জিতেছেন। জিতেছেন ইতালি জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপও। কিন্তু বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে একবারও ব্যালন ডি’অরের স্বাদ পাননি। ২০০৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ের সুবাদে সেরা তিনে জায়গা করে নিয়েছিলেন। কিন্তু ক্লাব ও জাতীয় দল সতীর্থ ফ্যাবিও ক্যানাভারোর কাছে হেরে যান। হন দ্বিতীয়।

৫. ইকার ক্যাসিয়াস

বুফেনের মতো ইকার ক্যাসিয়াসও সর্বকালের সেরা গোলরক্ষকদের একজন। ক্লাব রিয়াল ও স্পেন জাতীয় দলের হয়ে জিতেছেন সম্ভাব্য সবকিছুই। জাভি হার্নান্দেজের মতো রিয়ালের সাবেক এই গোলরক্ষক অধিনায়কেও শিরোপা অপ্রাপ্তি বলতে কিছু নেই। লিগ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, বিশ্বকাপ, ইউরো-সবই জিতেছেন। ছিলেন স্পেনের সোনালী প্রজন্মের অধিনায়ক। কিন্তু তার আক্ষেপ একটাই, ব্যালন ডি’অর। চকচকে এই সোনার বলটা একবারও হাতে তুলতে পারেননি। এমনকি ক্যাসিয়াস সেরা তিনেও জায়গা করে নিতে পারেননি কখনো।

৬. থিয়েরি অঁরি

ইংলিশ ক্লাব আর্সেনালের ইতিহাসের পাতা উল্টাটাই সবার আগে ভেসে উঠবে থিয়েরি অঁরির নাম। অবিশ্বাস্য প্রতিভা-দক্ষতায় ফরাসি ফরোয়ার্ড হয়ে যান আর্সেনালের ইতিহাসের অভিচ্ছেদ অংশ। অঁরি আলো ছড়িয়েছেন ক্লাব বার্সেলোনার হয়েও। ফ্রান্স জাতীয় দলের হয়ে জিতেছেন বিশ্বকাপ, ইউরো দুটোই। ফরাসি এই কিংবদন্তিরও ফুটবলার জীবনে আক্ষেপ একটাই, কখনোই ব্যালন ডি’অর জিততে না পারা। নিজ দেশের ফুটবল সাময়িকী ফ্রান্স ফুটবল পুরস্কারটা দিলেও, অঁরির হাতে একবারও তা উঠেনি। দুবার সেরা তিনে জায়গা করে নিলেও একবার দ্বিতীয় হন, অন্য বার তৃতীয়।

৭. ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড

নিশ্চিতভাবেই ইতিহাসের সেরা মিডফিল্ডারদের তালিকায় থাকবে ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের নাম। ইংল্যান্ড জাতীয় দল ও ক্লাব চেলসির হয়ে মাতিয়েছেন বিশ্ব। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন অন্য উচ্চতায়। কিন্তু কখনোই ব্যালন ডি’অরের স্বাদ শুকতে পারেননি। একবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা ল্যাম্পার্ড ২০০৫ সালের ব্যালন ডি’অর দৌড়ে সেরা তিনে জায়গা পেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে সন্তুষ্ট থাকতে হয় দ্বিতীয় হয়ে। তাকে হারিয়ে পুরস্কারটা জিতে নেন রোনালদিনহো।

৮. স্টিভেন জেরার্ড

ল্যাম্পার্ডের মতো স্টিভেন জেরার্ডও সর্বকালের সেরা মিডফিল্ডারদের একজন। লিভারপুল কিংবদন্তির প্রতিভা-সামর্থ নিয়ে প্রশ্ন ছিল না কারো। কিন্তু জাদুকরী ছন্দে ইতিহাস রাঙালেও লিভারপুলের সাবেক অধিনায়ক স্বপ্নের ব্যালন ডি’অরটা ছুঁতে দেখতে পারেননি। ২০০৫ সালে ল্যাম্পার্ডের সঙ্গে তিনিও সেরা তিনে জায়গা করে নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে হতে হয় তৃতীয়।

৯. আন্দ্রেয় পিরলো

জুভেন্টাস ও ইতালির সাবেক এই মিডফিল্ডারকে বলা হোত ‘মিডফিল্ড জেনারেল’। মাঝমাঠের সত্যিকারের নেতা ছিলেন তিনি। ফুটবল খেলাটা সম্পর্কে অবিশ্বাস্য জ্ঞান ছিল তার। সতীর্থ তাকে আদর করে ‘মাস্টার’ বলে ডাকত তাকে। উর্বর মস্তিস্কের ফুটবলার হিসেবে বেশি খ্যাতি ছিল তার। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে সেই জ্ঞানের স্বাক্ষর রেখে ক্যারিয়ারে জিতেছেন অনেক অনেক শিরোপা। অপূর্ণতা বলতে, কখনোই ব্যালন ডি’অর পাননি। দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, অমিয় প্রতিভা সত্ত্বেও আন্দ্রেয়া পিরলো কখনো সেরা তিনেই জায়গা পাননি।

১০. কার্লোস পুয়োল

জাভি-ইনিয়েস্তা-ক্যাসিয়াসের মতোই স্পেনের আরেক দুর্ভাগা খেলোয়াড় কার্লোস পুয়োল। ক্লাব বার্সেলোনা ও স্পেন জাতীয় দলের হয়ে সম্ভাব্য সবকিছুই জিতেছেন। কিন্তু জীবনে কখনোই ব্যালন ডি’অরের চূড়ান্ত মঞ্চে উঠতে পারেননি। পিরলোর মতো তিনিও কখনোই সেরা তিনেই জায়গা পাননি।

১১. ফ্রাঙ্কো বারেসি

পাওলো মালদিনির মতো প্রতিভা হয়তো ছিল না। তবে কঠোর পরিশ্রম আর আত্মনিবেদনের মাধ্যম ফ্রাঙ্কো বারেসিও জায়গা করে নেন ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ডিফেন্ডারদের তালিকায়। মালদিনির মতো তারও প্রাপ্তির খাতাটা প্রায় পরিপূর্ণ। অপ্রাপ্তির আক্ষেপ বলতে এই ব্যালন ডি’অর। বর্ষসেরা ফুটবলারের স্বীকৃতির এই পুরস্কারটা কখনোই জিততে পারেননি। ১৯৮৯ সালে সেরা তিনে থাকলেও হয়েছিলেন দ্বিতীয়।

১২. ফেরেঙ্ক পুসকাস

হোরেঙ্গিয়ান এই কিংবদন্তি নিশ্চিতভাবেই সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের একজন। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ফুটবল ইতিহাসের অনেক রেকর্ডই গড়েছেন তিনি। প্রাপ্তির খাতাটাও প্রায় পরিপূর্ণ। কিন্তু ব্যালন ডি’অর হাঙ্গেরির প্রয়াত এই কিংবদন্তির জন্য ছিল চির আক্ষেপের নাম। পারফরম্যান্সের দ্যুতি ছড়িয়ে দুনিয়া কাঁপালেও রিয়াল মাদ্রিদ কিংবতন্তি ব্যালন ডি’অর জিততে পারেননি একবারও। ১৯৬০ সালে রিয়ালকে ইউরোপিয়ান কাপের (বর্তমান চ্যাম্পিয়ন্স লিগ) শিরোপা জেতানোর সুবাদে সেরা তিনে জায়গা করে নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় হতে হয় তাকে।

১৩. ফ্রান্সেস্কো টট্টি

প্রতিভা-পারফরম্যান্সে ফ্রাস্কেস্কো টট্রিও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ইতিহাসের পাতায়। পরো ক্যারিয়ারই এক ক্লাবে কাটিয়ে দেওয়া টট্টি হয়ে গেছেন রোমার অভিচ্ছেদ্য অংশ। ইতালি জাতীয় দলের জিতেছেন বিশ্বকাপ। কিন্তু সাবেক এই ইতালিয়ানেরও আক্ষেপের নাম হয়ে আছে ব্যালন ডি’অর। জীবনে কখনো ব্যালন ডি’অরের পদকমঞ্চেই উঠতে পারেননি।

১৪. এরিক ক্যান্টোনা

অনেকের মতেই, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ফরাসি এই কিংবদন্তি সর্বকালের সেরা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের একজন। ক্যারিয়ারজুড়ে শিরোপা সাফল্য পেয়েছেন অনেক। কিন্তু কখনোই নিজ দেশের প্রদত্ত ব্যালন ডি’অর ট্রফি’টা উঁচিয়ে ধরতে পারেননি। ১৯৯৩ সালে সেরা তিনে মনোনয়ন পেলেও হয়েছিলেন তৃতীয়।

১৫. ডেনিস বার্গক্যাম্প

থিয়েরি অঁরি যেমন আর্সেনালের অভিচ্ছেদ্য অংশ, ডেনিস বার্গক্যাম্পও তাই। প্রতিভা, সামর্থ, তারকাখ্যাতিতে ডাচ কিংবদন্তিও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন অন্য উচ্চতায়। কিন্তু ব্যালন ডি’অরটা তার জীবনেও চরম আক্ষেপের বিষয় হয়ে আছে। দুদুবার সেরা তিনে ঢুকলেও চূড়ান্তভাবে সোনার হাসিটা হাসতে পারেনি। ১৯৯২ সালে হয়েছিলেন দ্বিতীয়, ১৯৯৩ সালে তৃতীয়।

১৬. রায়ান গিগস

এই ওয়েলস কিংবদন্তি আর ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ইতিহাস মিলেমিশে একাকার। গত মাস পর্যন্ত সর্বকালের সবচেয়ে বেশি শিরোপা জয়ী দুই ফুটবলারের একজন ছিলেন তিনি। তাদের সেই কীর্তিকে কদিন আগে পেছনে ফেলেছেন পিএসজির ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার দানি আলভেস। সেটা অবশ্য অন্য প্রসঙ্গ। তবে ক্যারিয়ারে ৩৫টি শিরোপা জিতলেও রায়ান গিগস একবারও ব্যালন ডি’অরের সোনার হাসি হাসতে পারেননি। তিন বার সেরা তিনে জায়গা পেলেও একবারও সেরা হওয়া হয়নি।

১৭. রবার্তো কার্লোস

ইতিহাস বলে বিশ্ব ফুটবলের ব্যক্তিগত পুরস্কার জয়ে ব্রাজিলিয়ানরাই এগিয়ে। রোনাল্ডো, রিভালদো, রোনালদিনহো, কাকারা মিলে অসংখ্যবার উঁচিয়ে ধরেছেন ব্যালন ডি’অর। কিন্তু দুর্ভাগ্য রবার্তো কার্লোসের। ইতিহাসের অন্যতম সেরা লেফট-ব্যাক হিসেবে জায়গা করে নিলেও কার্লোস একবারও ব্যালন ডি’অর জিততে পারেননি। ২০০২ বিশ্বকাপ জয়ের মধ্যদিয়ে সেরা তিনে জায়গা পেয়েছিলেন। কিন্তু চূড়ান্ত হাসিটা হাসা হয়নি। হয়েছিলেন দ্বিতীয়। তাকে পেছনে ফেলে সেবার পুরস্কারটা জিতে নেন তারই জাতীয় দল সতীর্থ রোনাল্ডো।

১৮. আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরো

ব্যালন ডি’অর প্রশ্নে আরেক চির হতভাগা খেলোয়াড়ের নাম আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরো। ক্লাব জুভেন্টাস ও ইতালি জাতীয় দলের হয়ে দুনিয়া মাতিয়েছেন দীর্ঘ দিন ধরে। নিখাঁদ স্ট্রাইকার হিসেবে বিশেষ সুনাম ছিল তার। কিন্তু স্বপ্নের ব্যালন ডি’অরের স্বাদ পাননি কখনোই।

১৯. বার্ন্ড সুস্টার

ক্লাব ও জার্মান জাতীয দলের হয়ে কত কত শিরোপাই তো জিতেছেন বার্ড সুস্টার। দুরন্ত পারফরম্যান্সে দুনিয়াজুড়ো নাম কামিয়েছেন। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন অন্য উচ্চতায়। কিন্তু তারও প্রাপ্তির খাতায় ব্যালন ডি’অর নেই। সেরা তিনে জায়গা পেয়ে তিন তিন বার ব্যালন ডি’অর পদক মঞ্চে পা রেখেছেন। কিন্তু কখনোই সেরা হতে পারেননি।

২০. আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা

বার্সেলোনার এই বর্ষিয়ান স্প্যানিশ মিডফিল্ডারের ব্যালন ডি’অর আক্ষেপের কথাটা শুরুতেই বলা হয়েছে। আক্ষেপটা শুধু তার নয়, তার মতো একজন ফুটবলারের কখনো ব্যালন ডি’অর না পাওয়ার আক্ষেপটা আসলে সবার। এমনকি তার হাতে ব্যালন ডি’অর তুলে না দিতে পেরে নিজেদের অপরাধী ভাবছে ফ্রান্স ফুটবল! ফ্রান্স ফুটবল ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিয়েছে, ইনিয়েস্তা কখনো ব্যালন ডি’অর জিততে পারেনি অনিয়ম, দুর্নীতির কারণে!

কারণ যাই হোক, বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদার ব্যক্তিগত এই পুরস্কার জিততে না পারার আক্ষেপটা ইনিয়েস্তার রয়েই গেছে। দুবার সেরা তিনে ঢুকেও ‘সেরা’ হতে পারেননি একবারও। ফ্রান্স ফুটবলের ‘ক্ষমা’ হয়তো সাময়িকভাবে ইনিয়েস্তাকে স্বস্তি দেবে। তবে চূড়ান্ত দাগে, ব্যালন ডি’অর ইনিয়েস্তার জন্যও চির আক্ষেপের নাম। -পরিবর্তন ডটকম

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ