প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জন্মের তিন মিনিটের মধ্যে কাঁদবে সুস্থ শিশু

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাধারণত জন্মের তিন মিনিটের মধ্যেই সদ্যজাত শিশুকে কাঁদতে হবে। যদি এরকম না ঘটে, তাহলে শিশুটি জীবিত না মৃত সে সম্পর্কে নিশ্চিত হতে চিকিৎসকেরা নানা রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে থাকেন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সোমবার (২৩ এপ্রিল) সকাল ৮টা ১০ মিনিটে এক শিশুকে মৃত ঘোষণার পর আজিমপুর গোরস্তানে গোসল করানোর সময় তার বেঁচে ওঠার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা এ কথা জানিয়েছেন।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এ ঘটনায় নানা প্রশ্ন উঠেছে।

জন্ম নেওয়া শিশুকে মৃত ঘোষণার প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল আজিজ বলেন, ‘যেকোনও শিশুর জন্মের তিন মিনিটের মধ্যে কাঁদতে হবে। আমরা ডাক্তার যারা ডেলিভারির দায়িত্বে থাকি, আমাদের প্রথম টার্গেট থাকে শিশুকে কাঁদানো। যখনই কাঁদে তখন তার শ্বাসপ্রশ্বাস শুরু হয়। যদি জন্মের পর ১৫ মিনিট সময় পর্যন্ত শিশুটি না কাঁদে তাহলে সেই শিশু আর টিকবে না।’ কী ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন রকম পদ্ধতি আছে। আমরা নাকের কাছে তুলা ধরে শিশুটি আদৌ শ্বাস নিচ্ছে কিনা, সেটা বুঝতে পারি। পিউপিলটায় লাইট দিলে তার অনুভূতি প্রকাশ পায়। এইরকম অনেক জিনিস আছে যেগুলো দিয়ে বোঝা যায় যে শিশুটি বেঁচে আছে। তার আচরণে সে মৃত না জীবিত সেটা বোঝা যায়।’

এ প্রসঙ্গে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. শাহনুর ইসলাম বলেন, ‘শিশু জন্মের পরপরই যদি তার কান্নার শব্দ না শোনা যায়, তাহলে আমরা তাকে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেই। তার হার্ট সাউন্ড ঠিক আছে কিনা, দেখি। তার শ্বাস-প্রশ্বাস ঠিক আছে কিনা, দেখি। যেকোনও মৃত্যু ঘোষণার আগে আমাদের অবশ্যই অনেকক্ষণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়। কারো মৃত্যু ঘোষণা করাটা মোটেই সহজ জিনিস নয়। অবশ্যই আমাকে রোগীকে কয়েক দফা দেখার পর তাকে মৃত ঘোষণা করতে হয়। রোগীকে মৃত ঘোষণার পরও কমপক্ষে আধাঘণ্টা মনিটরিংয়ে রাখা হয়। প্রতি পাঁচ মিনিট পর পর তার হার্ট বিট (হৃদস্পন্দন) চেক করা হয়। অন্যান্য সাইনগুলো চেক করা হয়।’

ইব্রাহীম মেমোরিয়াল হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শাহিদা আক্তার বলেন, ‘এমনিতে শিশুর শ্বাসপ্রশ্বাস নিচ্ছে কিনা তা দেখা, তার চোখের মনি বড় হচেছ কিনা তা দেখা, তার রক্ত চলাচল চাপ দিয়ে বন্ধ করে দেখা যায় যে, শিশুর রক্ত চলাচল করছে না। তার ওই স্থানটি সাদা হয়ে যায়। তখন আমরা বুঝতে পারি যে শিশুটি মারা গেছে। এই বিষয়গুলোর মাধ্যমে নবজাতকের জীবিত বা মৃত অবস্থা নিশ্চিত করা হয়।’

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশুকে মৃত ঘোষণা ও বেঁচে ওঠার প্রসঙ্গে টেনে তিনি বলেন, ‘সম্ভবত ঢাকা মেডিক্যালের যে শিশুটির সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে তাকে কোনও শিশু বিশেষজ্ঞ দেখেননি। তার অবস্থা অবস গাইনি বিভাগ থেকেই ঘোষণা করা হয়েছে। যার কারণে এই ভুলটা হয়েছে।’

স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সামিনা চেীধুরী বলেন, ‘যেকোনও জীবিত মানুষের জন্য যেসব সাইন দেখা হয় নবজাতক শিশুর ক্ষেত্রেও তা-ই দেখা হয়। শিশুর হার্ট বিট ঠিক থাকবে। তার শ্বাস-প্রশ্বাস চলমান থাকবে। তার চোখের তারা জীবিত থাকলে আলো ফেললে সংকুচিত হয়ে আসবে। যদি সে মারা যায় তাহলে তা বড় হবে। যেকোনও শিশু মৃত ঘোষণার আগে আমরা তার সাইনগুলো খুব ভালো করে দেখি, তারপর ঘোষণা দিই।’ সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত