প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাজধানীর বহু রাস্তায় নেই জেব্রা ক্রসিং-রোড মার্কিং

ডেস্ক রিপোর্ট : গাড়িরচালক ও পথচারীদের জন্য ‘রোড মার্কিং’ গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা বহন করলেও রাজধানী ঢাকার সড়কগুলোতে এগুলোর খুব কমই দেখা মেলে। আর পরিচর্যার অভাবে মুছে গেছে পথচারী পারাপারের জেব্রা ক্রসিংয়ের সাদা রঙের দাগ। তাই গাড়ির ফাঁকে ফাঁকে চলছে পথচারী। ফলে সড়কে প্রায়ই ঘটছে বড় বড় দুর্ঘটনা। অন্য দিকে, সড়কের মোড়ে কিংবা গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতেও নেই রোড সাইন।

সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, রাস্তা ভালো না হলে মার্কিং করলেও তিন মাসের বেশি টেকে না। শীতকালে দাগ দিলে বর্ষাকালে উঠে যায়। আবার কাজটি করার জন্য সিটি করপোরেশনের বরাদ্দও কম থাকে।

দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বলছে, শীতকালে রোড মার্কিয়ের কাজ করা হয়। সচরাচর কার্যক্রম না থাকলেও নির্দিষ্ট দিবস, ভিআইপি ও অতিথি আসলে রাস্তায় এ সংক্রান্ত কাজ বেশি করা হয়। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এ কাজের জন্য সংস্থাটি প্রায় ২ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। তবে চলতি অর্থবছরে আলাদা বরাদ্দ না থাকলেও আগের বছরের টাকা দিয়েই চলছে এ বছরের কাজ।

সংস্থাটির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (যান্ত্রিক-সার্কেল) মো. আনিছুর রহমান বলেন, রাস্তা যখন তৈরি করা হয় তখনই মার্কিংয়ের কাজ করা হয়। এ ছাড়া আলাদাভাবে সিটি করপোরেশনের ওই ধরনের কোনো কার্যক্রম নেই। যেসব রাস্তায় মার্কিংয়ের দরকার হয়, পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ থেকে আমাদের সেগুলোর লিস্ট দেয়া হয়। আমরা সে অনুযায়ী কাজ করি। দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সব রাস্তায় মার্কিং, জেব্রা ক্রসিং, ডিভাইডার, স্পিড ব্রেকারগুলো চিহ্নিত করার জন্য একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে বলে জানান তিনি।

গাড়িচালক ও পাথচারীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকায় যেসব রাস্তায় সাদা মার্কিং আছে, সেগুলো পরিচর্যার অভাবে মুছে গেছে। রাস্তার বেশিরভাগ স্পিড ব্রেকারগুলোও চিহ্নিত করা নেই। ফলে দ্রুতগতির যানবাহনের চালকেরা রেখাগুলো দেখতে পান না। এগুলো ব্যবহারের নিয়ম-কানুনগুলো জানা নেই অধিকাংশ চালকের। ফলে নিয়ম তোয়াক্কা না করেই বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালাচ্ছেন তারা। আবার পথচারীদেরও অনেকেই জেব্রা ক্রসিং ব্যবহারে নিয়ম জানেন না।

রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সায়মন ইসলাম বলেন, ‘আমি রাজধানীতে কখনো জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করিনি। এগুলো ব্যবহারের নিয়ম কি, তাও বলতে পারব না। নীলক্ষেত মোড়ে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় গাড়িচালক জামাল হোসের সঙ্গে। তিনি বলেন, পনেরো বছর ঢাকার রাস্তায় গাড়ি চালাই। রাস্তা-ঘাট সব মুখস্থ হয়ে গেছে। তবে নতুন চালকদের রাতের বেলা অসুবিধায় পড়তে হয়।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্ঘটনা কেন্দে র এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকায় বছরে চার শতাধিক দুর্ঘটনা ঘটে। যার মধ্যে ২৬ শতাংশ পথচারী রাস্তা পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। সেখানে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে পথচারীদের ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার না করার বিষয়টি চিহ্নিত করা হয়।

সরেজমিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, গুলশান, বনানীসহ কয়েকটি সড়কে জেব্রা ক্রসিং দেখা গেলও-তা হাতে গোনা। এর বেশির ভাগেরই সাদা চিহ্ন মুছে গেছে। ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজের সামনের স্পিড ব্রেকার থাকলেও সেগুলোর চিহ্ন মুছে গেছে। বেগম রোকেয়া সড়কের মণিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের স্পিড ব্রেকারটিরও অবস্থাও একই রকম। শ্যামলী শিশুমেলার সামনের পাঁচটি জেব্রা ক্রসিংয়ের দুটির সাদা দাগ মুছে গেছে। আবার বেশ কয়েকটি জেব্রা ক্রসিংয়ের মুখ সড়ক বিভাজক দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছ। সূত্র : ইত্তেফাক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত