প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খাবারে ঢুকে পড়ছে প্লাস্টিক

নিজস্ব প্রতিবেদক : স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার দেশে প্লাস্টিকের ব্যবহার নিয়ে একটি গবেষণা করেছেন। তাতে বলা হয়েছে, দেশে প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণা দেদারসে ব্যবহৃত হচ্ছে প্রসাধন সামগ্রীতে। সিউয়ারেজ হয়ে জলাভূমিতে পড়ায় মাছ তা খাছে। তারপর মাছের মাধ্যমে তা মানুষের ফুড-চেইনে ঢুকে পড়েছে।

ড. মজুমদার বলেন, এতদিন উদ্বেগ ছিল পরিবেশ এবং জীব বৈচিত্র্যের ওপর প্লাস্টিকের প্রভাব নিয়ে; কিন্তু এখন স্বাস্থ্যের ক্ষতি বিশেষ করে ভাবিয়ে তুলছে। প্লাস্টিকের ব্যবহার বৃদ্ধি নিয়ে ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন তিনি। খবর বিবিসির।

১৯৯০ সালে যেখানে দিনে ৬ হাজার ৫০০ টন প্লাস্টিক ব্যবহৃত হতো, সেখানে মাত্র নয় বছর পর ২০১৪ সালে তা দাঁড়ায় ২৭ হাজার টনে। তিনি বলেন, এ হার চলতে থাকলে ২০২৫ সালে বাংলাদেশে প্লাস্টিকের ব্যবহার দাঁড়াবে প্রতিদিন ৫০ হাজার টন। শপিংব্যাগের পাশাপাশি আসবাব, গৃহস্থালি এবং বাণিজ্যিক কাজে বল্গাহীনভাবে বাড়ছে প্লাস্টিকের ব্যবহার।

২০০২ সালে বাংলাদেশে পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার নিষিদ্ধ করে আইন করা হয়। ড. মজুমদার বলেন, সেই আইনের তোয়াক্কা আর কেউ এখন করছে না। তিনি হিসাব দেন, দেশে এখন দিনে ১ কোটি ৪০ লাখ পলিথিন ব্যাগ ব্যবহৃত হচ্ছে।

প্রথম দুই থেকে তিন বছর সরকারি কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ খুবই তৎপর ছিল। প্রায়ই বাজারে বাজারে অভিযান হতো, কিন্তু তারপর তা ধরে রাখা যায়নি… উপযোগী তেমন বিকল্প বের না হওয়ায় মানুষও পলিথিন ব্যবহার শুরু করে দেয়। পলিথিনের বিকল্প হিসেবে টিস্যু ব্যাগ নামে যে ব্যাগের ব্যবহার শুরু হয়, ড. মজুমদারের মতে সেটার উপাদানও মূলত প্লাস্টিক। পলিথিন ব্যাগের পাশাপাশি বাংলাদেশে বর্তমানে গড়ে প্রতিদিন ৩০ লাখেরও বেশি টিস্যু-ব্যাগ ব্যবহার হয়।

আইনের সঠিক প্রয়োগ জরুরি : নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, পরিবেশ দূষণ রোধে পলিথিনের অবৈধ উৎপাদন ও বিপণন বন্ধে আইনের সঠিক প্রয়োগের ওপর জোর দিয়েছেন পরিবেশবাদীরা। একই সঙ্গে দোষী ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে রোববার বিশ্ব ধরিত্রী দিবস উপলক্ষে চেঞ্জ দ্য আর্থ ফর পিপল (সেপ) আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা এসব দাবি জানান।

বন অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান সংরক্ষক ইউনুস আলী বলেন, আইনের সঠিক বাস্তবায়ন না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা অবাধে নিষিদ্ধ পলিথিন উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছে। পলিথিনের কাঁচামাল দিয়ে এখন এক ধরনের টিস্যু পলিথিন উৎপাদন করা হচ্ছে। উৎপাদনকারীরা বলছে, এটি পরিবেশবান্ধব। কিন্তু পলিথিনের মতোই টিস্যু পলিথিন পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। পলিথিনের কাঁচামালের অপব্যবহার রোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব কাগজের চট বা কাপড়ের শপিং ব্যাগ ব্যবহারে জনসচেতনতামূলক প্রচারণার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

অ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন ভূঁইয়া একটি জরিপের ফল তুলে ধরে মানববন্ধনে বলেন, ঢাকায় একটি পরিবার প্রতিদিন চারটি পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করে। সেই হিসাবে শুধু রাজধানীতে প্রতিদিনই দুই কোটির বেশি পলিথিন ব্যাগ একবার ব্যবহার করে ফেলে দেওয়া হয়। এগুলোর কারণে নালা-নর্দমা, খাল, ডোবা ইত্যাদি ভরাট হয়ে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পরে সামান্য বৃষ্টিতেই বৃদ্ধি পাচ্ছে জলাবদ্ধতার প্রকোপ। চেঞ্জ দ্য আর্থ ফর পিপলের সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন, পরিবেশ রক্ষায় এখনও সারা দেশ থেকে পলিথিনের মূলোৎপাটন করার লক্ষ্যে এই দ্রব্য নিষিদ্ধের আইন কার্যকর করা জরুরি। পলিথিনের পরিবর্তে কাগজ ও চটের ব্যাগ সহজে মাটিতে মিশে যায়, তাই সেগুলো ব্যবহারের ওপর জোর দিতে হবে। তাছাড়া এগুলোর মাধ্যমে বৃদ্ধি পায় মাটির উর্বরতা। মানববন্ধনে আরও ছিলেন আয়োজক সংগঠনের সহ-সভাপতি আবু জাফর মল্লিক, আফতাব আহমেদসহ অন্য সদস্যরা। সূত্র : আলোকিত বাংলাদেশ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত