প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বগুড়ার আদমদীঘিতে এক স্কুল শিক্ষককে কুপিয়ে হত্যা

বগুড়ার আদমদীঘিতে আব্দুর রশিদ নামের এক স্কুল শিক্ষককে কুপিয়ে ও গোপনাঙ্গ কেটে হত্যা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে আদমদীঘি উপজেলার ডুমুরী গ্রামের মধ্যপাড়ায় গ্রামে এই নৃশংস হত্যাকান্ড সংঘটিত হয় । প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে পরকিয়া ঘটনার জের নিয়ে এই হত্যাকান্ড ঘটে থাকতে পারে। এ ঘটনায় পুলিশ এলাকার এক দম্পতিকে আটক করেছে।

নিহত আব্দুর রশিদ (৫৫) উপজেলার ডোমর মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত আহমদ আলীর পুত্র এবং স্থানীয় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুর রশিদ শিক্ষকতার পাশাপাশি এলাকার মৎস খামারের ব্যবসার সাথে জরিত ছিলেন । তার পুকুরে চাষ করা মাছের খাদ্য দিতে প্রায়ই তিনি পুকুরে যেতেন। এর এক পর্যায়ে এলাকার বাসিন্দা জনৈক আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী আফরোজা বেগমের সাথে পরিচয় সূত্র ধরে সখ্যতা গড়ে ওঠে । বিষয়টি ধিরে ধিরে পরকিয়া প্রেমে পরিনত হয় । দীর্ঘ দিন ধরে গেল বছর পরকিয়া ঘটনায় এলাকাবাসী তাদের হাতেনাতে ধরে ফেলেন। এনিয়ে গ্রাম্য শালিসে তার জরিমানা করা হয়।

এ ঘটনার পর আব্দুর রাজ্জাক তার স্ত্রী আফরোজা কে সামলে রাখার চেষ্টা করলেও শিক্ষক রশিদ পরস্ত্রীর প্রতি লোভ সম্ববরন করতে পারছিলেন না । ওই ঘটনার পর সে আবারো আফরোজার সাথে সমপর্ক স্থাপনের চেষ্টা করে । আফরোজা ঘটনাটি স্বামীকে অবহিত করে। এতে ওই দম্পতি রশিদ মাস্টারকে শায়েস্তা করার পরিকল্পনা করে। ধারনা করা হচ্ছে ওই পরিকল্পনা থেকেই এই হত্যা কান্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে ।

এদিকে নিহতের পারীবারিক সূত্রে বলা হয়, আব্দুর রশিদ প্রতিদিনের মত বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে পুকুরে মাছের খাবার দিতে যায় । কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে বাড়িতে সে আর ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন সম্ভাব্য স্থানে খোঁজাখুজি করে। কিন্ত রাতে তার কোন খোজ না পাওয়া গেলেও শুক্রবার সকালে গ্রামবাসী ওই পুকুরের সন্নিকটে একটি উঁচু স্থানে রশিদ মাস্টারের ক্ষত বিক্ষত লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে নিহতের লাশের সুরতহাল তৈরী করে লাশ ময়না তদন্তের জন্য বগুড়া শজিমেক হাসাপাতালের প্রেরন করে।

পুলিশ জানায়, নিহত শিক্ষক আব্দুর রশিদের মুখমন্ডল সহ তার শরীরের বিভিন্নস্থানে একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে । এ ছাড়া তার গোপনাঙ্গ কেটে খুন নিশ্চিত করা হয়েছে ।
এ ব্যাপারে আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি সার্বিক) আবু সায়িদ মো. ওয়াহেদুজ্জামান, প্রাথমিক ভাবে এ হত্যাকন্ডকে পরকিয়ার বলি হিসাবে ধারনা করা হয়েছে ।

অন্যদিকে এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সন্দেহ ভাজন হিসাবে গৃহবধু আফরোজা বেগম ও তার স্বামী আব্দুর রাজ্জাক কে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত