শিরোনাম
◈ গণভোটে সরকারের ‘হ্যাঁ’ ভোট চাইতে আইনগত বাধা নেই: প্রধান উপদেষ্টা ◈ আইসিসিকে নতুন শর্ত দিয়েছে বিসিবি ◈ বিশ্বের সেরা বিজ্ঞানীদের তালিকায় আবারও বাংলাদেশি ড. সাইদুর রহমান ◈ বাসায় ডেকে নবম শ্রেণির ২ শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ ◈ জাপা-এনডিএফ প্রার্থীদের প্রার্থীতা কেন অবৈধ নয়: ইসির কাছে হাইকোর্টের ব্যাখ্যা তলব ◈ সশস্ত্র বাহিনীসহ ১৬ সংস্থার সঙ্গে বৈঠক ইসির ◈ ইরানে বিক্ষোভে রক্তপাত বাড়ছে, হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ◈ ‘সোমালিল্যান্ড’ ইস্যুতে ইসরায়েলের পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যানের আহ্বান, ওআইসিতে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট ◈ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আরাকান আর্মির গুলি, কিশোরী নিহত ◈ নির্বাচনের তফসিলের পরও বাড়ছে খুন-সন্ত্রাস: আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগে দেশ

প্রকাশিত : ১১ মার্চ, ২০১৮, ০৭:৫২ সকাল
আপডেট : ১১ মার্চ, ২০১৮, ০৭:৫২ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

‘রোহিঙ্গাবিদ্বেষী’ দুই বৌদ্ধ ভিক্ষু ধর্মপ্রচারে ফিরেছেন

তানভীর রিজভী: বিতর্কিত বক্তব্য দেওয়ার দায়ে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আবারও ধর্মপ্রচারে ফিরেছেন মিয়ানমারের বৌদ্ধ ভিক্ষু অশ্বিন উইরাথিউ। এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, শনিবার ইয়াঙ্গুনের একটি বৌদ্ধ আশ্রমে বক্তব্য রেখেছেন তিনি।

মিয়ানমারের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মুখপাত্রের পরিচিতি পাওয়া উইরাথিউকে  ‘বৌদ্ধদের বিন লাদেন’ নামে ডাকা হয়। দেশটির সিনিয়র ভিক্ষুদের একটি কাউন্সিল তার ধর্মপ্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। উইরাথিউ-এর নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার দিনে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন আরেক উগ্র বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদী ভিক্ষু পারমাউক্কা।

গত বছরের আগস্টে রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলার পর রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পূর্ব পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমার। হত্যা-ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা। পালিয়ে আসা শরণার্থীদের দাবি সেনাবাহিনীর সঙ্গে মিলে রাখাইনের সংখ্যাগুরু বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরাও সহিংসতায় অংশ নিয়েছে।

শত শত বছর ধরে সেখানে বসবাস করে আসলেও রাষ্ট্রীয় নীতিতে রোহিঙ্গাদের জাতিগত পরিচয় স্বীকার করে না মিয়ানমার। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সংখ্যাগুরু অংশ মুসলিম ধর্মাবলম্বী হওয়ায় রাখাইনের সহিংসতার কারণ হিসেবে সাম্প্রদায়িক বিভেদকেও দায়ী করেন অনেকে। বৌদ্ধ ভিক্ষু অশ্বিন উইরাথিউ ও পারমাউক্কার বিরুদ্ধে ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য প্রচারের অভিযোগ রয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, এক বছর আগে উইরাথিউ-এর ধর্ম প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় সে দেশের সিনিয়র ভিক্ষুদের নিয়ে গঠিত একটি কমিশন। নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার সময়ে ওই কমিশন জানায়, উইরাথিউ সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টি করতে ধর্মের বিরুদ্ধে একের পর এক ঘৃণাসূচক বক্তব্য রেখেছেন। গতকাল শুক্রবার তার নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হয়। নিষেধাজ্ঞা চলার মধ্যেও একাধিকবার তা অমান্য করেছেন তিনি। শনিবার ইয়াঙ্গুনে বৌদ্ধ আশ্রমে দেওয়া ভাষণে উইরাথিউ দাবি করেন, তার মুসলিমবিরোধী বক্তব্যের সঙ্গে রাখাইন রাজ্যের সহিংসতার সংশ্লিষ্টতা নেই। রাখাইন ‘বাঙালি সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ড’ প্রত্যক্ষ করেছে বলেও দাবি তার। নিজের বিরুদ্ধে সেখানে সহিংসতা সৃষ্টির অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। নিজের শহর মান্দালয়ের শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি হাজির করেন উইরাথিউ।

তিনি জানান, ‘উইরাথিউ যদি সংঘাত সৃষ্টি করতো তাহলে মান্দালয় ছাই হয়ে যেত। এই সত্য বিশ্ব জানে না।’  ইরাবতী নদীর তীরবর্তী মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয় ২০১৪ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রত্যক্ষ করে। মুসলিমদের বিরুদ্ধে এক বৌদ্ধ নারীকে ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ ওঠার পর ওই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।

উইরাথিউ এর নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার দিনেই শুক্রবার কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন আরেক উগ্র বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদী ভিক্ষু পারমাউক্কা। ২০১৬ সালের এপ্রিলে ইয়াঙ্গুনের যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের বাইরে রোহিঙ্গা বিরোধী এক বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের নভেম্বরে আটক হন তিনি। রোহিঙ্গা শব্দ ব্যবহার করায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাতে সমর্থকদের নিয়ে সেখানে জড়ো হয়েছিলেন তিনি। তিন মাসের কারাদণ্ড ভোগের পর শুক্রবার ইয়াঙ্গুনে নিজের আশ্রমে ফিরে যান তিনি। কারাভোগের পরও রোহিঙ্গাবিরোধী মনোভাব ধরে রেখেছেন তিনি। আশ্রমে ফিরে জানান, ‘মিয়ানমারের ১৩৫ টি জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর অস্তিত্ব নেই।’

সূত্র: রয়টার্স, বাংলা ট্রিবিউন।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়