প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দলগুলোর সঙ্গে ফের বসতে চায় ইসি

ডেস্ক রিপোর্ট : অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাদা আলাদা বসার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর মূল লক্ষ্য হলো আগামী জাতীয় নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ। যদিও নির্বাচনে সব দলকে অংশ নিতে হবেÑ আইনে এমন বাধ্যবাধকতা নেই। কিন্তু বর্তমান কেএম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন চায় একাদশ সংসদ নির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সবার অংশগ্রহণ। তবে এটাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা।

নির্বাচন কর্মকর্তারা বলেন, বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর গত বছর ৪০টি রাজনৈতিক দল ও অংশীজনদের সঙ্গে সফল সংলাপ করেছে। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সব দল অংশগ্রহণ করবে কিনা, এ নিয়ে কিছুটা সংশয়ে রয়েছে কমিশন। এ কারণে সংসদ নির্বাচনের আগে দলগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আরও একবার বসতে চায় ইসি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নির্বাচন কমিশনার বলেন, আমরা শুধু সংসদ নির্বাচন নয়, স্থানীয় সরকারের নির্বাচনেও সব দলের অংশগ্রহণ চাই। এ লক্ষ্যে কমিশন আনুষ্ঠানিক কোনো সংলাপ না করলেও দলগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংসদ নির্বাচনের আগে আলাদা করে বসার পরিকল্পনা করছে ইসি।

সূত্র জানায়, বর্তমান কমিশনকে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে বেশকিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি চ্যালেঞ্জ হলো কমিশন ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর জনগণের আস্থা ফেরানো এবং একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপিসহ সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। এছাড়া বর্তমান নির্বাচন কমিশন আসন্ন পাঁচ সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু-শান্তিপূর্ণ করে দলগুলোর কতটুকু আস্থা অর্জন করতে পারবে সে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইসির আসল চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে সামনে। এ বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠেয় একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপিসহ সব দলকে আনাটাই ইসির জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে। এছাড়া সংসদ বহাল রেখেই নির্বাচন হবে; সে ক্ষেত্রে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কীভাবে তৈরি হচ্ছে, এখন থেকেই জনগণকে সে মেসেজ দিতে হবে। জনগণের মনে এ আস্থা তৈরি করতে হবে, কমিশনের ভূমিকা ইতিবাচক। এছাড়া সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ, রোডম্যাপ বাস্তবায়ন ও নির্বাচনী প্রশাসনের ওপর ইসির নিয়ন্ত্রণ রাখা মূল চ্যালেঞ্জ হবে। বিএনপিসহ অধিকাংশ দলের বর্জনের মধ্যে অনুষ্ঠিত ২০১৪ সালের নির্বাচনের অভিজ্ঞতায় বিদেশিরাও সব দলের অংশগ্রহণে একাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রত্যাশা জানিয়ে আসছেন। বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদার সঙ্গে বৈঠক শেষে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের প্রতিনিধি দলের নেতা জ্যঁ ল্যামবার্টও এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীন ভূমিকার কথাই জোর দিয়ে বলেন। তিনি বলেন, আমরা ইসিকে এমন ভূমিকায় দেখতে চাই, যেন নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলের অংশ নেওয়ার পথ প্রশস্ত হয়। এদিকে সব দলের অংশগ্রহণে বছর শেষে একাদশ সংসদ নির্বাচন করতে একটি ‘রোডম্যাপ’ প্রণয়ন করে তা ধরে কাজ করে যাচ্ছে ইসি। তার আগে বছরের মধ্যভাগে রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন করতে হবে তাদের। কিন্তু এর মধ্যে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি জানিয়ে আসা বিএনপির সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের দূরত্ব আরও বেড়ে গেছে খালেদা জিয়ার দুর্নীতির মামলার রায়কে কেন্দ্র করে।

বিএনপি বলছে, তাদের নেত্রীকে ভোট থেকে বাদ দিতেই ‘পরিকল্পিতভাবে’ সাজার এ রায় দেওয়া হয়েছে; অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, আদালতের কাজে তাদের কোনো ‘হস্তক্ষেপ’ নেই। নির্বাচনকালীন সরকার কিংবা খালেদার রায় নিয়ে ইসির যে কিছু করার নেই তা সিইসিসহ নির্বাচন কমিশনাররা বলে আসছেন। ইসির ভাষ্য, নির্বাচনের সময় সরকারের ধরন কী হবে তা সংবিধানে থাকবে, যা ঠিক করবে সংসদ। আর খালেদা জিয়ার বিষয়টি নির্ভর করবে আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর।

নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের মোর্চা ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের (ইডব্লিউজি) পরিচালক আবদুল আলীম বলেন, নির্বাচন কমিশনের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ। প্রথম চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। এছাড়া সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ আরেকটি চ্যালেঞ্জ। ইসির হাতে যে সময় আছে এর মধ্যে আন্তর্জাতিক মাপকাঠি বজায় রেখে আসনের সীমানা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে না। এ নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। দ্বিতীয়ত, রোডম্যাপের সফল বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। কেননা সংলাপে যেসব সুপারিশ এসেছে তার সব বাস্তবায়ন ইসির পক্ষে অসম্ভব। তাই নির্বাচন সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করতে যা প্রয়োজন তা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া দরকার।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন সবার জন্য ভালো। বিগত নির্বাচন কমিশন অনেকটা বিপর্যয়ে ফেলেছে। এ নির্বাচন কমিশন এখনও আস্থা অর্জন করতে পারেনি। তাদের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তার পরও বলব অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য ইসি কোনো ভালো পদক্ষেপ নিলে সেটি পজেটিভ।

সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এটিএম শামসুল হুদা বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে যে কোনো দলের সঙ্গে বসা যায়। ইসি একটি সংলাপ করেছে, ভালো নির্বাচনের প্রয়োজনে যে কোনো উদ্যোগ নিতেই পারেন তারা। নির্বাচন কমিশনের চ্যালেঞ্জ ও মূল্যায়ন জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা সংবিধান ও আইন মেনে কাজ করছি। আমরা সব কাজকে কাজ হিসেবেই দেখি। কোনো কাজকেই চ্যালেঞ্জ মনে করি না। জনগণ ও ভোটাররাই আমাদের কাজের মূল্যায়ন করবেন।

এর আগে প্রথমবারের মতো এটিএম শামসুল হুদা নেতৃত্বাধীন ইসি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকের পরই নবম সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছিল। পরে ২০১৪ সালে রকিব কমিশন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কোনো সংলাপ ও আলোচনা ছাড়াই নির্বাচন দেয়। বর্তমান কেএম নুরুল হুদা দায়িত্ব নেওয়ার পর গত বছর রাজনৈতিক দল ও নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সংলাপ করে। এখন সব দলের নির্বাচন নিশ্চিত করতে আবারও দলগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করতে চায় ইসি।

২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির আগের ৯০ দিনের মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবরের পর শুরু হবে একাদশ সংসদ নির্বাচনের সময় গণনা। সূত্র : আলোকিত বাংলাদেশ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত