প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

স্কুলে ঠিকমতো পড়াশোনা হলে কোচিংয়ের প্রয়োজন নেই

ফারমিনা তাসলিম: প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এসএসসি পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখতে হবে।

এ বিষয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী নাফিসা নাওয়ার বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে বলছেন, কোচিং সেন্টার বন্ধ হলে পরীক্ষার্থীদের কোনো ক্ষতি হবে না। কিন্তু শিক্ষকরা কোচিং করানোর জন্য স্কুলে ঠিকমতো পড়ালেখা করায় না। স্কুলে ঠিকমতো পড়াশোনা হলে কোচিংয়ের প্রয়োজন হয় না বলে মনে করেন তিনি।

পরীক্ষার আগে এবং পরীক্ষা চলাকালীন কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার এ সিদ্ধান্তে পরীক্ষার্থীরা কতটা ক্ষতির সম্মুখীন হবে ?

জবাবে এসএসসি পরীক্ষার্থী নাফিসা নাওয়ার বলেন, আমাদের কারো ক্ষতি হবে না। কারণ আমাদের যা পড়ার তা আগেই পড়া হয়ে গেছে। এখন রিভিশন দেওয়ার সময়। আমার মনে হয় না কোচিং সেন্টার একমাস বন্ধ থাকলে আমাদের ক্ষতি হবে না।

সারা বছর কোচিং সেন্টারগুলোতে কী পড়ায় বা পরীক্ষার আগে কিভাবে পড়ানো হয়? তখন সেখানে কী পড়ায় ?

জবাবে নাফিসা বলেন, সারা বছর পর্যন্ত বইটা কমপ্লিট করা হয়। পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণগুলো এক্সপেরিয়েন্স টিচাররা থাকে ইমপোর্টেন্টগুলো দাগিয়ে দেয় এবং সাজেশন দেয় ওইটা আমরা পড়ি।

এসএসসি পরীক্ষার আদলে যেটাকে মডেল টেস্ট বলা হয় সেরকম কিছু কি হয় ?

জবাবে নাফিসা বলেন, প্রতি সপ্তাহে কোচিং সেন্টারে পরীক্ষা হয়।

কোচিংয়ে যারা যাচ্ছে স্কুলে যদি ঠিকমতো পড়াশোনাটা হয় তাহলে কি আলাদা কোচিং সেন্টারে যাওয়ার দরকার কি হয় ?

জবাবে নাফিসা বলেন, স্কুলে যদি ক্লাসটা ঠিকমতো হয় তাহলে আমাদের কোচিং সেন্টারে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। কারণ আমাদের স্কুলে পড়া ঠিকমতো হয় না বলে, আমরা পড়াটা করতে পারছি না বলে আমরা কোচিংয়ের হেল্প নেয়। স্কুলে পড়াটা ঠিকমতো হলে আমার মনে হয় না আমাদের কোচিং সেন্টারের প্রয়োজন।

আপনার বিদ্যালয়ে যে পরিমাণে পড়া হওয়ার কথা সেটা হচ্ছে না কেন ? আপনার যেভাবে পড়া উচিত ছিল, সেটা কেন হয়নি ? এতে আপনার কি মনে হয় ?

জবাবে নাফিসা বলেন, স্কুলে যে পড়াটা হচ্ছে টিচাররা ভালোভাবে পড়াচ্ছে না। স্কুলে যদি ভালোভাবে পড়ালেখা না হয় তাহলে আমরা তাদের কাছে পড়তে যায়। তাদের কাছে আলাদা করে পড়তে যাওয়ার জন্য স্কুলে ঠিকমতো পড়াটা হয় না।

ক্লাসরুমে ঠিকমতো পড়ালেখাটা কেন হচ্ছে না ? ক্লাসরুমে শিক্ষার্থীদের সংখ্যাটা অনেক বেশি, আর কোচিংয়ে সংখ্যাটা কম ?

জবাবে নাফিসা বলেন, সংখ্যা বেশি এটা একটা কারণ আরেকটা হলো স্কুলে পড়াটা ভালোমতো হলে আমরা আলাদা করে পড়ি না টিচারদের কাছে। টিচারদের কাছে আলাদা করে পড়ার জন্যই তারা ঠিকমতো ক্লাসটা নিচ্ছে না।

স্কুলে যারা শিক্ষক তারাই কি পড়াচ্ছেন ?

জবাবে নাফিসা বলেন, জি।

কোচিং সেন্টারের মাধ্যমে যে প্রশ্নফাঁস হয় এরকম তথ্য আপনি কখনো পেয়েছেন ? পরিচিত কারো কাছ থেকে হোক বা অন্য যে কারো কাছ থেকে হোক এরকম শুনেছেন কখনো ?

জবাবে নাফিসা বলেন, এটা বাইরে শোনা যায়। কিন্তু যে কোচিংয়ে পড়ি সেটাতে এখন পর্যন্ত কোন প্রশ্নফাঁস হয়নি আমার জানা মতে।

প্রশ্নফাঁস ঠেকানো কী করে সম্ভব হতে পারে ?

জবাবে নাফিসা বলেন, যে প্রশ্নপত্র ফাঁস করছে তাকে শনাক্ত করতে হবে। আর একজন টিচার যে আমাদের কোচিং করায় তাকে সৎ হতে হবে।

এক্ষেত্রে কি শিক্ষার্থীদের আরো সতর্ক বা সততার দরকার আছে ?

জবাবে নাফিসা বলেন, স্টুডেন্টরা যদি প্রশ্ন না নেয় তাহলে টিচাররা এটা করতে পারবে না। তাই স্টুডেন্টদের সৎ হতেই হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত