প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভেড়ামারা কলেজের রিট
ভুয়া কাগজপত্র দাখিল করে মহিলা কলেজ জাতীয়করনের চেষ্টা!

ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা : জাতীয়করনের জন্য সব কাগজপত্রই ভুয়া দাখিল করেছে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা মহিলা কলেজ। ডিড অব গিফ এ তারা ১ একর জমির মূল্য দেখিয়েছে ৩ কোটি ৩১ লক্ষ ৪২ হাজার ১৮৩ টাকা। যা অস্বাভাবিক। মিথ্যা, ভুয়া ও প্রতারনার আশ্রয় নিয়ে কলেজটি জাতীয়করনের দিকে যাচ্ছে এমন অভিযোগ এনে তা বাতিলের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। এ বিষয়ে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশনও দাখিল করেছে ভেড়ামারা কলেজ।

জানা গেছে, কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ ভেড়ামারা কলেজ। ১৯৬৫ সালে ভেড়ামারা কলেজটি উপজেলা পরিষদ ভবন সংলগ্ন ১০.৪১ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত। নিজস্ব মালিকানাধীন ভবনে রয়েছে জেনারেল, অর্নাস ও কারিগরি শাখা। একতলা, দ্বিতল ও ৪র্থ তলা বিশিষ্ট ৫টি একাডেমিক ভবন। বাউন্ডারীওয়াল দ্বারা বেষ্টিত পুরো কলেজে রয়েছে সমৃদ্ধ লাইব্রেরী, বিজ্ঞান গবেষণাগার, বিশাল খেলার মাঠ ও সুদৃশ্য প্রধান ফটক।

প্রতিটি রুম ও পুরো কলেজ চলছে সিসি টিভির আওতায়। ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ৪৫০০ (চার হাজার পাঁচ শত) এর উর্ধ্বে, যার মধ্যে ছাত্রী সংখ্যাই প্রায় ২ হাজার। অন্য দিকে মহিলা কলেজর ছাত্রী সংখ্যা প্রায় ৭০০ (সাত শত)। ভেড়ামারা কলেজকে জাতীয়করনের জন্য ২০১৪ সালে কুষ্টিয়া জেলা শিক্ষা অফিসার প্রস্তাব পাঠান। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুও ডিও লেটার দেন। ফলে ২০১৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর ৮৫ টি কলেজ নিয়ে জাতীয়করণের তালিকা প্রকাশ হলে ভেড়ামারা কলেজের নাম অর্ন্তভুক্ত করা হয়। এ তালিকায় ১৪ নম্বরে ছিল ভেড়ামারা কলেজের নাম।

ভেড়ামারা কলেজের শিক্ষক আমিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, এরপর থেকেই শুরু হয় ভেড়ামারা কলেজের বিরুদ্ধে চক্রান্ত। এরপর অদৃশ্য এক কালো হাতের ইশারায় ভেড়ামারা কলেজকে বাদ দিয়ে মহিলা কলেজকে অর্ন্তভুক্ত করে ২০১৬ সালে জাতীয়করণের তালিকা প্রকাশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে দারুণভাবে মর্মাহত এবং ক্ষুদ্ধ হন ভেড়ামারাবাসী এবং কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা।

এরপরেই আন্দোলনে নামে কলেজের শিক্ষার্থীরা। ভেড়ামারা মহিলা কলেজকে জাতীয়করণের আদেশের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ভেড়ামারা কলেজ হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেছে। যার নং ১১৬৭০/২০১৭। অন্যদিকে মহিলা কলেজকে জাতীয়করণের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে ভেড়ামারা কলেজকে সরকারিকরণের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৯৪ সালে হিন্দু সম্পত্তির মালিক মৃত হাজারী লাল কুন্ডুর বসতবাড়ি জবরদখল করে প্রতিষ্ঠিত হয় ভেড়ামারা মহিলা কলেজ। যে নামে এখনও জমির নামজারি রয়েছে। কলেজের বর্তমান আবাসনে কলেজের নামে কোন জমি নেই। ২০১৬ সালের ২০ অক্টোবর ওয়েবসাইটে জাতীয়করণের তালিকা প্রকাশের পর কলেজের একজন শিক্ষিকা এবং তার ভাই ১১ দিন পর ৩১  অক্টোবর’১৬ এ ৩৬৫৯/১৬ এবং ৩৬৬১/১৬ দলিলে কলেজকে জমি দান করেন। অথচ ৩১-১০-২০১৬ ইং তারিখে কলেজের নামে পদ্মা চরে জমি রেজিষ্ট্রি হল, যা ওয়েব সাইটে সরকারিকরণ ঘোষণার পর।

জমির অবস্থান কলেজের অভ্যন্তরে নয় বরং কলেজ থেকে ৫/৬ কিলোমিটার দূরে পদ্মা নদীর কূলে, বালুরচরে। ৩টি দাগে জমি দেখানো হয়েছে পয়েন্টে ৫৬১৯ একর। যার দাম ধরা হয়েছে ১৪ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা। এর ৭ মাস পর কলেজের অধ্যক্ষ জাতীয়করণের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত ৮ মে ২০১৭ তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সচিবের অনুকূলে ১৯০৬/১৭ দলিলে ডিড অব গিফ করেন। যেখানে আরো ৪ টি দাগ অতিরিক্ত (যা মূল দলিলে উল্লেখ নেই) সহ মোট ৭টি দাগে মোট জমি দেখানো হয় ১.০০২ একর জমি। যার মূল্য দেখানো হয়েছে ৩ কোটি ৩১ লক্ষ ৪২ হাজার ১৮৩ টাকা। যা অস্বাভাবিক।

এ বিষয়ে ভেড়ামারা মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক এর সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তাকে পাওয়া যায়নি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত