প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে ভূগর্ভের পানি নেমে যাচ্ছে : রেজাউল করিম

ফারমিনা তাসলিম : শরণার্থীদের নিয়ে কাজ করে এমন একটি বেসরকারি সংস্থা কোস্ট ট্রাস্ট বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি কক্সবাজারের স্থানীয়দের শিক্ষা, চাকরি এবং স্বাস্থ্যখাতে সহায়তা দেয়া প্রয়োজন। রোহিঙ্গাদের কারণে স্থানীয়রা প্রচুর সমস্যার মোকাবিলা করছে। বনাঞ্চল এবং ভূগর্ভের পানি উদ্ধারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

এদিকে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন শেষে বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট এ্যানেট ডিক্সন বলেছেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীর পাশাপাশি তাদেরকে আশ্রয় দেয়া স্থানীয় বাসিন্দাদেরও ত্রাণ ও সেবা কার্যক্রমের আওতায় আনা প্রয়োজন। ওই সব অঞ্চলে আবাসন ও পানি সংকটের পাশাপাশি পরিবেশের ক্ষতিরোধে আরো কার্যক্রম পরিচালনা করা উচিত বলে মনে করছে বিশ্ব ব্যাংক।

ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের কী ধরনের সহায়তা দরকার ?

এ প্রশ্নের জবাবে রেজাউল করিম বলেন, এখানে অনেকগুলো বিষয় জড়িত। পরিবেশগত প্রভাবটা খুব বেশি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৬ হাজারের মতো বনাঞ্চল শেষ হয়ে গেছে, যেখানে তারা ক্যাম্পগুলো প্রতিস্থাপন করেছে। ভূগর্ভে সেপ্টেম্বরের দিকে ৫০ থেকে ৭০ মিটারে পানি পাওয়া যেত। এখন ১ হাজার ফুটেও সে পানি পাওয়া যাচ্ছে না। তাহলে এ বনাঞ্চলগুলো এবং ভূগর্ভের পানি কিভাবে উদ্ধার হবে ? সেটা দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার প্রয়োজন আছে। কক্সবাজারের সিভিল সোসাইটি এবং এনজিওগুলোর পক্ষ থেকে গত অক্টোবর মাসে একটা ইকোলজিক্যাল রিকভারি তহবিল গঠন করার জন্য সরকারকে দাবি জানিয়েছি। এরপর অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে রোহিঙ্গাদেরকে ক্যাম্পের মধ্যে বন্ধ করে রাখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে রোহিঙ্গা এবং কক্সবাজারের মানুষজনের ভাষা খুবই কাছাকাছি হওয়াতে, তাদেরকে নির্ধারণ করা খুবই কঠিন। সুতরাং বিভিন্ন জায়গাই গিয়ে তারা চাকরি নিচ্ছে এবং স্বাভাবিকভাবে তারা কম দামেই চাকরি নিচ্ছে। এখানে মজুরশ্রেণির লোকজনরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, এদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। সবচেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে শিক্ষাখাতে, এবছর ম্যাট্রিকে এবং ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার সময় অনেকগুলো স্কুলের মাঠ উঠিয়ে দেওয়ার ফলে পরিক্ষার্থী পাওয়া যায়নি। তারা কোথায় গেছে ? বিভিন্ন এনজিওতে কাজের জন্য প্রচুর স্থানীয় ছেলে-মেয়েকে চাকরি দেওয়া হয়েছে। সেটার ভালো দিক ছেলে-মেয়েরা ভালো বেতনে চাকরি করছে। কিন্তু এ চাকরি কি টেকসই ? আমার মতে, তাদের দীর্ঘমেয়াদী শিক্ষা প্রয়োজন। আগামী বর্ষাকালে যখন ঝড়-বাতাস শুরু হবে, তখন রোহিঙ্গারা গিয়ে আশেপাশে প্রাইমারি বা হাই স্কুলে আশ্রয় নিবে। এরপর এদের জন্য কী করতে হবে ? সরকারকে এ এলাকার শিক্ষার জন্য আলাদা ব্যবস্থা নিতে হবে।

বর্ষাকালে এসব এলাকায় কী কী ধরনের বিপর্যয় দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ?

জবাবে রেজাউল করিম বলেন, সবচেয়ে বড় বিপর্যয় হলো এসব লোকদেরকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া। স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রচুর শিক্ষককে আশ্রয় দিতে হবে। এখন এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ইতিমধ্যে শিক্ষার ব্যাঘাত ঘটছে, তখনও আরো বেশি ঘটবে। আরেকটা ব্যাপার হলো, রোহিঙ্গারা দশকের পর দশক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ভুগছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে চমৎকার টিকাদান কর্মসূচি এবং ভালো স্বাস্থ্য চিকিৎসার ব্যবস্থাও রয়েছে। এবার রোহিঙ্গাদের মধ্যে ডিপথেরিয়া হওয়ার ফলে স্থানীয় লোকজনের কাছেও এই রোগটি ধরা পড়ে। তাহলে স্বাস্থ্যখাতে আমাদের বড় একটা বিপর্যয় ঘটতে পারে। স্থানীয় কমিউনিটির মাধ্যমে স্বাস্থ্যব্যবস্থার সম্প্রসারণ করতে হবে এবং এক্ষেত্রে প্রচুর অগ্রব্যবস্থা নিতে হবে। এখানের অক্ষমতা থেকে রক্ষা পাওয়ার আর কোন উপায় নাই।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত