শিরোনাম
◈ রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে রিয়াল মা‌দ্রিদের কষ্টের জয় ◈ অবশেষে শৃঙ্খলায় ফিরছে ১০২২ লাইটার জাহাজ, বিডব্লিউটিসিসির বিশেষ সফটওয়্যার চালু ◈ অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে চালু হচ্ছে না থার্ড টার্মিনাল, সিদ্ধান্ত নেবে পরবর্তী সরকার ◈ ইউরোপে কে আসবে সিদ্ধান্ত নেবে ইউরোপই: অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর ইইউ ◈ নারী প্রশ্ন, ভোটার মাইগ্রেশন ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগে নির্বাচনি রাজনীতিতে উত্তাপ ◈ চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিক কর্মবিরতির পর কড়া ব্যবস্থা, সরাসরি বুকিং ও সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ, বিএনপিপন্থী চার নেতা বদলি ◈ বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে উপমার লাশ, হিসাব মিলছে না কারও ◈ অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করলো পাকিস্তান ◈ তুরস্ক ভিসা এখন ঢাকায়: কোথায়, কখন, কত ফি—সব তথ্য এক নজরে ◈ জুলাই সনদে গণভোট: ‘হ্যাঁ’ জিতলে সংস্কার, ‘না’ জিতলে কী হবে?

প্রকাশিত : ১৮ জানুয়ারী, ২০১৮, ১০:১৯ দুপুর
আপডেট : ১৮ জানুয়ারী, ২০১৮, ১০:১৯ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

একাকিত্ব সামলাতে ব্রিটেনে হলো আলাদা মন্ত্রণালয়

সাঈদা মুনীর: বেঁচে থাকলে আজ বড় খুশি হতেন জো কক্স। কারণ সারাটা জীবন একাকিত্বই কুরে-কুরে খেয়েছে তাকে। ব্রিটেনের জো কক্স ফাউন্ডেশন টুইটারে জানিয়েছে তাদের এই প্রতিক্রিয়া।

গত বছর ব্রেক্সিট নিয়ে ভোটের ঠিক আগে খুন হয়েছিলেন লেবার পার্টির এই সংসদ সদস্য। সে খবর নাড়িয়ে দিয়েছিল ব্রিটেনকে। খারাপ খবরের সাময়িক ধাক্কা ধীরে ধীরে সয়ে যায় অনেক ক্ষেত্রেই। কিন্তু জো এর মৃত্যুর পর সামনে আসে তার জীবনের অপার নিঃসঙ্গতার কথা। তা কোথাও একটা দাগ কেটে যায় ব্রিটিশ ভাবনায়। রাজনীতিক থেকে সমাজকর্মী সকলেই বুঝতে শুরু করেন, একাকিত্ব আর ব্যক্তিগত বিষয় নয়, সমাজের গভীর অসুখ। আধুনিক জীবনের বিষন্নতা ।

এ ব্যাপারে কিছু একটা করা যে দরকার, সেটা অনুভব করেন অনেকেই। দেশে-দেশে এ নিয়ে ভাবনা-চিন্তা-আলোচনা-লেখালেখি কম হচ্ছে না। কিন্তু হাতে-কলমে কিছু করার চ্যালেঞ্জটা প্রথম নিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। মানুষের একাকিত্ব সামলাতে নতুন একটা মন্ত্রণালয়ই গড়ে ফেলেছেন তিনি। দায়িত্ব দিয়েছেন ট্রেসি ক্রাউচকে। অল্প বয়সী এই মহিলা বর্তমানে ব্রিটেনের ক্রীড়া ও নাগরিক সমাজ বিষয়ক মন্ত্রী।

কিন্তু এমন একটা উদ্যোগের সূত্র কিন্তু নিঃসঙ্গতায় ভোগা সেই জো। সরকার একটি কমিটি গড়েছিল তার নামে। সেই কমিটিই সুপারিশ করে মন্ত্রণালয় গড়ার। থেরেসা সেটারই বাস্তব রূপ দিলেন। ‘জো কক্স ফাউন্ডেশন’ এতে খুশি বললে বুঝি কম বলা হবে।
জো-র স্মরণে এক অনুষ্ঠানে থেরেসা বলেন, ‘বহু মানুষের কাছে একাকিত্ব আধুনিক জীবনের এক দুঃখজনক বাস্তবতা। এদের কেউ বয়স্ক, কেউ অন্যের সেবা করে করে চলেছেন, কেউ বা হারিয়েছেন ভালবাসার মানুষটিকে। ভাবনাগুলি ভাগ করে নেওয়ার কেউ নেই। নেই দুটো কথা শোনার লোক। সমাজের স্বার্থে এবং আমাদের নিজেদের জন্যই একাকিত্বের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের চ্যালেঞ্জটা আমি নিলাম।’

টুইটারে তাদের প্রতিক্রিয়া, ‘ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাওয়া, বোনের সঙ্গে প্রথম বিচ্ছেদ এমনকি তার পরেও সারাটা জীবন একাকিত্বই সঙ্গী ছিল জো-র। ট্রেসির একাকিত্ব-মন্ত্রী হওয়ার খবরে তিনি অবশ্যই খুশি হতেন। নিশ্চয়ই বলতেন, চলো নেমে পড়ি কাজে।’

কলকাতাভিত্তিক আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, সম্পূর্ণ নতুন ধরনের একটা লড়াই। কিভাবে এগোবেন ট্রেসি এই মুহূর্তে একটা দিশা শুধু রয়েছে সামনে। যার ভিত্তিতে এ বছরের মধ্যেই সবিস্তার কর্মসূচি প্রকাশ করবে সরকার। তাতেই বলা হবে, নিঃসঙ্গদের পাশে দাঁড়াতে ঠিক কী কী করা হবে। এ ব্যাপারে মতামত ও পরামর্শ নেওয়া হবে সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, সরকারি ও ব্যবসায়িক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলির।
সকলেই মানছেন কাজটা সহজ নয়। ব্রিটিশ রেড ক্রসের হিসাব বলছে, ৬ কোটি ৫৬ লক্ষ দেশবাসীর মধ্যে ৯০ লক্ষেরও বেশি মানুষ সব সময়ে কিংবা জীবনের কোনও না কোনও পর্বে একাকিত্বের যন্ত্রণা সয়েছেন বা সইছেন। সমাজসেবীদের অনেকই মনে করেন, নিঃসঙ্গতা ক্রমে ক্রমে ‘গোপন মহামারি’র আকার নিয়েছে সমাজে।

জো শুধু নয়, এই ঘোষণায় হয় তো বা খুশি হতেন ‘একশো বছরের নিঃসঙ্গতা’র লিপিকার গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজও। তার সেই কর্নেলের মতো মানুষেরা—কেউ যাদের চিঠি লেখে না, বলে না ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’, তাদের পাশে থাকার ব্রত নিল ব্রিটেন। শুরুটা অন্তত করে দিলেন থেরেসা।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়