প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চার নারী ধর্ষণ: পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

ডেস্ক রিপোর্ট : ডাকাতির পর বাড়ির জিনিসপত্র লণ্ডভণ্ড করে রেখে যায় ডাকাতরাচট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় এক বাড়িতে চার নারীকে ধর্ষণ ও ডাকাতির ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার শিকার পরিবারটির সদস্যদের অভিযোগ, পুলিশ অপরাধীদের বাঁচাতে রহস্যজনক ভূমিকা পালন করছে। প্রথমে পুলিশ মামলা নিতেও গড়িমসি করে। পরে ঘটনার পাঁচ দিন পর মামলা নিলেও এখন তারা অপরাধীদের গ্রেফতারে নিরব ভূমিকা পালন করছে।

একই অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ ভিকটিম পরিবারটির আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীরা। এ অভিযোগের ব্যাপারে চেষ্টা করেও পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেন, ‘তদন্তের স্বার্থেই পুলিশ নিজেদের তৎপরতার তথ্য গোপন রাখছে।’

ঘটনার শিকার পরিবারটির সদস্যরা জানান, ঘটনার পর ১৩ ডিসেম্বর সকালে তারা প্রথমে স্থানীয় চেয়ারম্যান মুহাম্মদ দিদারুল আলমকে বিষয়টি জানান। পরে তার পরামর্শে তারা মামলা করতে কর্ণফুলী থানায় যান। কিন্তু বাড়ি পটিয়া থানার অধীনে হওয়ায় মামলা নেয়নি কর্ণফুলী থানা। এ থানার কর্মকর্তারা পটিয়া থানায় মামলা করার পরামর্শ দেন। এরপর তারা পটিয়া থানায় গেলে সেখানকার পুলিশ জানায়, ঘটনা কর্ণফুলী থানার অধীনে ঘটায় মামলা সেখানেই করতে হবে। এভাবে ৩-৪ দিন এই থানা থেকে ওই থানায় দৌড়াদৌড়ির পর ১৭ ডিসেম্বর ভূমি প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে কর্ণফুলী থানার পুলিশ মামলা নেয়।

পরিবারটির সদস্যরা আরও জানান, চার ডাকাতের মধ্যে একজনের নাম মোহাম্মদ সুমন ওরফে আবু। ১৮ ডিসেম্বর পুলিশ সন্দেহভাজন কয়েকজনকে আটক করলে চার ভিকটিম থানায় গিয়ে আবুকে শনাক্ত করেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই বাকি অপরাধীদের খোঁজ পাওয়া যাবে। কিন্তু পুলিশ তা করছে না। আবুকে গ্রেফতারের পর চার দিন পার হলেও এখনও পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেনি।

পুলিশের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ করেন চেয়ারম্যান মুহাম্মদ দিদারুল আলম। শুক্রবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে তার সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। দিদারুল আলম বলেন, ‘শুরু থেকে পুলিশ রহস্যজনক ভূমিকা পালন করছে। প্রথমে মামলা নিতে গড়িমসি করে কর্ণফুলী থানার পুলিশ। কর্ণফুলী থানার পুলিশকে বাড়িটি কর্ণফুলী থানার অধীনে জানিয়ে মামলা নিতে বলার পরও তারা প্রথমে মামলাটি নেয়নি। অথচ নিয়ম হচ্ছে, এরিয়া নিয়ে কোনও জটিলতা দেখা দিলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে সহযোগিতা নিতে হবে। আমি বলার পরও তারা মামলাটি নেয়নি। পরে অবশ্য ভূমি প্রতিমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ১৭ ডিসেম্বর রাতে তারা মামলা নিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘১৮ ডিসেম্বর পুলিশ দুই জনকে গ্রেফতার করে। তাদের মধ্যে আবু নামে একজন ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে চার ভিকটিম পুলিশকে নিশ্চিত করেছেন। ১৮ ডিসেম্বর সকালে সন্দেহভাজনদের গ্রেফতারের পর পুলিশ আবুসহ ১০-১২ জনকে লাইনে দাঁড় করিয়ে ওই চার নারীকে অপরাধী শনাক্ত করার কথা বললে তারা আবুকে শনাক্ত করেন। এরপর চার দিন পার হতে চলেছে, পুলিশ এখন পর্যন্ত আবুকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেনি।’

পুলিশ আবুকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই অন্য তিন আসামির নাম বেরিয়ে আসবে বলে তিনি জানান।

ডাকাতির পর বাড়ির জিনিসপত্র লণ্ডভণ্ড করে রেখে যায় ডাকাতরাচার নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় পুলিশি তৎপরতার বিষয়ে জানতে শুক্রবার বিকালে কর্ণফুলী থানায় যান এই প্রতিবেদক। পরে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দুল মোস্তফার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি। বিকাল চারটা ১০মিনিটে ওসির কক্ষে গিয়ে এই প্রতিবেদক দেখতে পান, পরিদর্শক (তদন্ত) হাসান ইমামের সঙ্গে নিজ কক্ষে কথা বলছেন সৈয়দুল মোস্তফা। পরে পরিচয় দিয়ে কথা বলতে চাইলে ওসি ওই ঘটনা নিয়ে কোনও মন্তব্য করবেন না বলে জানান। বেশ কয়েকবার অনুরোধ করার পর এক পর্যায়ে ওসি ব্যস্ততা দেখিয়ে এই প্রতিবেদককে তার কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। ব্যস্ততা দেখালেও বাস্তবে ওই সময় ওসিকে গুরুত্বপূর্ণ কোনও কাজ করতে দেখেননি এ প্রতিবেদক।

জানা গেছে, ১৭ ডিসেম্বর রাতে পুলিশকে মামলা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পরে দুই দফায় ঘটনার শিকার ওই পরিবারটির লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। সর্বশেষ শুক্রবার জুমার নামাজের পর তিনি ওই বাড়িতে যান। সেখানে ওই পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেন, ‘এটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা। জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য আমি পুলিশকে বলেছি। পুলিশ কাজ করছে, তদন্তের স্বার্থ হয়তো তারা সব প্রকাশ করছে না। দোষীরা কেউ ছাড় পাবে না। একটু সময়ের অপেক্ষা, শিগগিরই তাদের আইনের আওতাও আনা হবে।’

পুলিশি তৎপরতার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ওসি সৈয়দুল মোস্তফা কর্ণফুলী থানায় নতুন যোগদান করেছেন। ওই বাড়িটি কর্ণফুলী থানার অধীনে ছিল, তিনি সেটি জানতেন না। এ কারণে মামলা গ্রহণে বিলম্ব হয়েছে।’

দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতার না করলে তারা পালিয়ে বিদেশ চলে যেতে পারে, এমন প্রশ্নের বিষয়ে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেন, ‘আপরাধীদের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। পুলিশকে কয়েকদিন সময় দিন, তারা অবশ্যই অপরাধীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসবে।’

প্রসঙ্গত, গত ১২ ডিসেম্বর রাতে কর্ণফুলীর এক বাড়িতে ডাকাতির পর চার নারীকে ধর্ষণ করে দুর্বৃত্তরা। ভিকটিমদের মধ্যে একজন ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা রয়েছেন বলে পরিবারটির সদস্যরা জানান। তারা আরও জানান, ওই দিন রাত ১টার দিকে জানালার গ্রিল কেটে ডাকাতরা ঘরে প্রবেশ করে। ভোর ৪টা পর্যন্ত তারা ওই ঘরে ছিল। প্রথমে ডাকাতদল ঘরে থাকা ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার, ৫টি দামি মোবাইল সেট ও নগদ ৮৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়, পরে অস্ত্রের মুখে চার নারীকে ধর্ষণ করে। বাংলা ট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত