শিরোনাম
◈ বিদেশে জনশক্তি রপ্তানিতে ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস, ১৭ দিনে পাড়ি ৪০ হাজার ৫৯৩ জনের ◈ টানা ৬ ঘণ্টা শনিবার বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায় ◈ রাজধানীর একাধিক স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের পর এবার বাসে আগুন (ভিডিও) ◈ শেষ মুহূর্তে বাতিল শেখ হাসিনার সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাদের দিল্লি বৈঠক, নেপথ্যে কী? ◈ ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ৩ প্রার্থীর সাক্ষাৎকার নিল বিএনপি, মনোনয়ন ঘোষণা পরে ◈ সুদের হার বাড়িয়ে কি হরমুজ সংকট মেটাতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র? ◈ মিরপুরে ‘চাঁদার জাঁতাকলে’ ব্যবসায়ীরা, এক গ্রুপের চাঁদা মিটলেই হাজির আরেক গ্রুপ ◈ ৫ ওভারে জাপানের রান তাড়া করে এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে ভারতের মেয়েরা ◈ ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে বাংলাদেশ, নিজ স্বার্থ রক্ষায় ব্যবস্থা নেবে ভারত ◈ গোপন বৈঠক থেকে জঙ্গি সন্দেহে আটক ২৩

প্রকাশিত : ২০ ডিসেম্বর, ২০১৭, ০৮:৫৬ সকাল
আপডেট : ২০ ডিসেম্বর, ২০১৭, ০৮:৫৬ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

অবকাশ যাপনকারী যুগল বিবাহিত কিনা জানতে চাওয়ার বৈধতা কতটুকু?

ফারমিনা তাসলিম: মায়ের মৃত্যুতে শোকাহত স্ত্রীর মন ভালো করতে তাকে নিয়ে কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতে অবকাশ যাপনে গিয়েছিলেন তার স্বামী মোহাম্মদ কায়েদী আজম। কিন্তু তাদের সে বেড়ানোর আনন্দ চরম অপমান এবং তিক্ততার ভেতর দিয়ে শেষ হয়। পেশায় ব্যবসায়ী এই যুবক ওই এলাকারই বাসিন্দা ।

একদল পর্যটন পুলিশ এসে এ দম্পতিকে অশালীন আচরণের অভিযোগে অভিযুক্ত করে। তাদেরকে স্বামী-স্ত্রীর প্রমাণ দেখানোর জন্য চাপ দিতে থাকে তারা। বিব্রতকর পরিস্থির সম্মুখীন হওয়ার পর ওই দম্পতি পুলিশের বড় কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করলে পর্যটন পুলিশের একজন কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

এ নিয়ে বিবিসি বাংলার সাথে কথা হয় সমাজবিজ্ঞানী মাহবুবা নাসরিনের। তার কাছে জানতে চাওয়া হয় বাংলাদেশে নারী-পুরুষের মেলামেশার প্রতি এমন দৃষ্টিভঙ্গির কারণ কী?

জবাবে তিনি বলেন, পুলিশের কাজ হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা। আইনশৃঙ্খলার নিয়ম যদি কখনো কেউ ভঙ্গ করে তখনই পুলিশ সেখানে যেতে পারে বা কথা বলতে পারে। যখন একটা দম্পতি পর্যটন কেন্দ্রে বা অবকাশ যাপনে যায়, তারা নিশ্চয়ই সেখানে কোন অপরাধ করছে না। এখন পুলিশ যদি ধরে নেয় যেসব প্রাপ্ত বয়স্ক নারী-পুরুষ যাচ্ছে তাদের একসঙ্গে বসে থাকার আইনগত বৈধতা নেই- সেটা আসলে ঠিক না। এমনকি সেখানে তারা কোনো অসামাজিক কার্যকলাপ করছে কিনা, সে প্রশ্নও করতে পারবে না।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয় একসঙ্গে বসে থাকা যুগল বিবাহিত কিনা।  এভাবে জানতে চাওয়ার সামাজিক প্রেক্ষাপটটা আসলে কী?

এমন প্রশ্নের জবাবে মাহবুবা নাসরীন বলেন, সমাজ সব জায়গায় একইভাবে পরিবর্তীত হচ্ছে না। সমাজ পরিবর্তন হচ্ছে মানসিকতা কিন্তু ঠিকই পূর্বের চিন্তা-ভাবনায় রয়ে গেছে। সে চিন্তা ধারা থেকে মনে করা হচ্ছে, নারী-পুরুষ একটা জায়গায় আলাদাভাবে বসতে পারবে না বা তারা কথাও বলতে পারবে না। সে পুরনো মানসিকতা অনেক জায়গায় রয়ে গেছে। স্বামী-স্ত্রী হলেই শুধু তারা অবকাশ কেন্দ্রে যেতে পারবে তা নয়। প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষের যে সহজ  মেলামেশাটা সমাজে এখনো গ্রহণযোগ্য হয়নি, পুলিশের এ আচরণের মধ্য দিয়ে সেটা আবারও প্রমাণ হলো।

বাংলাদেশে প্রাপ্ত বয়স্ক নারী-পুরুষের সহজ মেলামেশা নিয়ে বাংলাদেশে সমাজে আপত্তির জায়গাটা কোথায় বা কী বিষয়ে এবং তা এখনো কেন আপত্তিকর বিষয় হয়ে আছে?

জবাবে মাহবুবা নাসরিন বলেন, সমাজ মনে করছে নারী-পুরুষের মেলামেশা সমাজ স্বীকৃত না। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও এমন মনোভাব লক্ষ করা যায়। দৃষ্টিভঙ্গির সমস্যা শুধু বাংলাদেশে নয়, দক্ষিণ এশিয়ার নারী-পুরুষদের সামাজিক মেলামেশা আলাদাভাবে চিন্তা করার পরিবর্তন এখনো হয়নি। আইনত স্বামী-স্ত্রী শুধু অবকাশ যাপন করতে পারে। রাষ্ট্রের আইন যা আছে সেখানে কিন্তু এখন প্রাপ্ত বয়স্ক নারী-পুরুষ যে সমাজ সে সমাজে নারী-পুরুষের ওভাবে মেলামেশাটা তৈরি হয়নি। সমাজ সেটাকে ভালো চোখেও দেখছে না। এখনো রাষ্ট্রের মধ্যে সে বিষয়টা আছে। সমাজের মধ্যেও সে বিষয়টা আছে। আবার আইন অনুযায়ী সে সমাজ আমরা যে পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের বাংলাদেশে যে পরিবর্তন ধীরে ধীরে হচ্ছে।

তার মানে কি এখানে চাইলে রাষ্ট্র কিছু পরিবর্তন করতে পারে?

এমন প্রশ্নের জবাবে মাহবুবা নাসরীন বলেন, এখন সময়টা এমন যে বাংলাদেশেও মেলামেশা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যে শিক্ষার্থীরা পড়তো তখন প্রক্টরের উপস্থিতিতে একজন ছেলে শিক্ষার্থী আরেকজন মেয়ে শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলতো। এ যুগটা আমরা অনেক আগে পার হয়ে এসেছি। সুতরাং এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সচেতনতা তৈরি করতে হবে, তাদের প্রশিক্ষণের মধ্যে এ ধরনের বিষয়গুলো আনতে হবে। এটা কোনো অপরাধ নয়। বয়স্ক নারী-পুরুষ যেকোনো জায়গায় যেতে পারে। সূত্র: বিবিসি বাংলা

আনিস/

  • সর্বশেষ