শিরোনাম
◈ তেল-গ্যাসে মধ্যপ্রাচ্যের ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতা কতটা ◈ যুদ্ধবিরতিতে রাজি ইরান, সামনে তিন শর্ত ◈ উত্তর ইসরায়েলে তীব্র হামলা: ইরান-হিজবুল্লাহর ১০০ রকেট নিক্ষেপের দাবি ◈ রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি চেয়েছে বাংলাদেশ ◈ স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় র‌্যাবের ওপর হামলা ◈ নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন কে? নানা আলোচনা ◈ স্বাভাবিক হয়নি ভোজ্যতেলের বাজার ◈ সিঙ্গাপুর থেকে জ্বালানি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ‘লিয়ান হুয়ান হু’ ◈ সহ আ‌য়োজক যুক্তরা‌স্ট্রে ইরান বিশ্বকাপ খেলবে না, জানালেন ক্রীড়ামন্ত্রী ◈ বিদ্যুৎ–জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ব্যাংকের জন্য কঠোর নির্দেশনা জারি

প্রকাশিত : ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১২:৫১ দুপুর
আপডেট : ১২ মার্চ, ২০২৬, ০২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বন্যা-ঘূর্ণিঝড়ে ঘরহারা প্রায় অর্ধকোটি মানুষ, প্রথমবারের জাতীয় গণনায় ভয়াবহ বাস্তবতা তুলে ধরল আইওএম

চট্টগ্রাম অঞ্চলে ২০২২ সালের অক্টোবরে তাণ্ডব চালায় ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং। এতে বিধ্বস্ত হয় কয়েক হাজার ঘরবাড়ি |

বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙনসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে দেশে বাড়ছে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা। বর্তমানে এ সংখ্যা প্রায় অর্ধকোটি। তাদের বেশির ভাগেরই বসবাস গ্রামীণ এলাকায়। সবচেয়ে বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) দেশব্যাপী করা এক গণনায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে ‘বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের (আইডিপি) সংখ্যা’ শীর্ষক ওই গণনার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। সূত্র: বণিক বার্তা 

দেশে প্রতি বছর নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটে। কিন্তু এতদিন পর্যন্ত প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত কারণে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা নিয়ে কোনো পরিসংখ্যান ছিল না। এ সংখ্যা জানতে প্রথমবারের মতো দেশব্যাপী গণনা করে আইওএম। দেশের আটটি বিভাগের ৬৪টি জেলা, ৪ হাজার ৫৭৯টি ইউনিয়ন, ৩২৯টি পৌরসভা ও বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের ৪৮০টি ওয়ার্ডজুড়ে এ গণনা করা হয়। এতে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙনসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিপর্যয় কীভাবে মানুষের জীবনকে এখনো প্রভাবিত করছে তা ফুটে উঠেছে।

গণনার তথ্যানুযায়ী, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বর্তমানে ৪৯ লাখ ৫৫ হাজার ৫২৭ জন দেশের ভেতরে বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরের মধ্যে এ তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এ সময়ে ২৯ হাজারের বেশি তথ্যদাতার (কি-ইনফরম্যান্ট) সাক্ষাৎকার এবং ৫ হাজার ৩৮৮টি মাঠ পরিদর্শন হয়, যা বাংলাদেশে এ ধরনের গবেষণার মধ্যে এখন পর্যন্ত সর্ববৃহৎ।

এ গণনায় জানা যায়, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বাস্তুচ্যুত মানুষ (৬৩ শতাংশ) ২০২০ সালের এপ্রিলের আগেই ঘরহারা হয়েছে। এক-চতুর্থাংশ বা ২৫ শতাংশ ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিলের মধ্যে বাস্তুচ্যুত হয়। চট্টগ্রাম বিভাগে সবচেয়ে বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ রয়েছে, যার সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ ১২ হাজার ৪৬১। এরপর ঢাকা বিভাগে ৭ লাখ ৯৫ হাজার ৭৯৮ জন।

এছাড়া রাজশাহী বিভাগে ৬ লাখ ৫৯ হাজার জন, রংপুর বিভাগে ৫ লাখ ৬৫ হাজার ১২৮, খুলনা বিভাগে ৪ লাখ ১৮ হাজার ১৪৬, বরিশাল বিভাগে ৫ লাখ ৯৪ হাজার ৬২৮ ও সিলেট বিভাগে ৪ লাখ ৩৬ হাজার ১২৭ জন। মোট বাস্তুচ্যুত মানুষের এক-চতুর্থাংশই রয়েছে চট্টগ্রাম, সিরাজগঞ্জ, ভোলা ও নোয়াখালী—এ চার জেলায়। অধিকাংশ বাস্তুচ্যুত মানুষ গ্রামীণ এলাকায় ইউনিয়ন পর্যায়ে বসবাস করে, যা মোট বাস্তুচ্যুত মানুষের ৮৫ শতাংশ।

আইওএম বাংলাদেশের মিশনপ্রধান ল্যান্স বোনো বলেন, ‘বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রকৃত সংখ্যা জানা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ফলাফল জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের কর্তৃপক্ষ ও উন্নয়ন সহযোগীদের আরো সুসংগঠিত পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করবে।’

পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব আলেয়া আক্তার ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন। পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কেএম আবদুল ওয়াদুদ; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ সাইফুল্লাহ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি ইভা আতানাসোভা বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে গণনা পদ্ধতি নিয়ে উপস্থাপনা, প্রতিবেদন উন্মোচন ও অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির তথ্য সরকারি ডাটা ব্যবস্থায় কীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা যায় সে বিষয়ে একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় অংশ নেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতিনিধিরা।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির প্রথম এ-জাতীয় গণনা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি দুর্যোগ প্রস্তুতি, পুনর্বাসন পরিকল্পনা, সামাজিক সুরক্ষা, জলবায়ু অভিযোজন ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনায় নীতিনির্ধারকদের আরো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়