শিরোনাম
◈ নোংরা মোজায় লুকিয়ে জার্মানিতে পাচার হচ্ছিল ৩০০০ মাকড়সা, মূল্য ১৫ লাখ ইউরো ◈ মেসির রাজকীয় বিদায়, রোনালদোর প্রস্থান বিতর্কে— দুই কিংবদন্তির প্রাপ‌্য সম্মান নি‌য়ে প্রশ্ন ◈ কুমিল্লায় পুলিশ পরিচয়ে শিক্ষার্থীদের তল্লাশি, ভুয়া সন্দেহে এএসআইসহ ৩ জনকে ক্যাম্পাসে নিলেন কুবি শিক্ষার্থীরা ◈ তৃণমূলে কোন্দল, স্থানীয় সরকার নির্বাচ‌নে একক প্রার্থী বাছাইয়ে হিমশিম খা‌চ্ছে বিএনপি ◈ এক ম্যাচে ৫১ লাল কার্ড, বিশ্বরেকর্ড ব্রাজিলের ফুটবলে! ◈ রোনালদোকে ‘কিংবদন্তি’ বলেই বিদায় জানালেন নেইমার ◈ মালয়েশিয়ায় চাকরি বিনা খরচে ১১২ কর্মী নেবে বোয়েসেল, আবেদন শুরু আজ থেকেই; বেতন ১,৭০০ রিঙ্গিত ◈ মার্কিন নির্বাচনে রেকর্ড ৩৬ মুসলিম প্রার্থীর জয় ◈ যুদ্ধবিরতি চাইলে সৌদিকে গুনতে হবে সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা! ◈ শ্রমিক বিক্ষোভ না থামলে কারখানা বন্ধের চিন্তা পোশাকমালিকদের

প্রকাশিত : ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৩ দুপুর
আপডেট : ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৩ দুপুর

প্রতিবেদক : এল আর বাদল

তৃণমূলে কোন্দল, স্থানীয় সরকার নির্বাচ‌নে একক প্রার্থী বাছাইয়ে হিমশিম খা‌চ্ছে বিএনপি

এল আর বাদল: আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতিটি এলাকায় একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে চায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এ বিষয়ে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কঠোর নির্দেশনাও রয়েছে। তবে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, আধিপত্য বিস্তার এবং মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সেই উদ্যোগ বাস্তবায়নে হিমশিম খাচ্ছে দলটি। কোথাও সমঝোতা, কোথাও অভ্যন্তরীণ ভোটের উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রার্থী বাছাইয়ের পদ্ধতি নিয়ে এখনো একমত হতে পারেননি স্থানীয় নেতারা। এরই মধ্যে প্রার্থী হওয়া নিয়ে সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।

গত ১০ অক্টোবর তারেক রহমানের নির্দেশনায় স্থানীয় পর্যায়ের বিরোধ মেটাতে বিশেষ কমিটি গঠন করে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটি। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদের মোট ৫ হাজার ৪৮০টি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন সামনে রেখে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে চেয়ারম্যান, সদস্য, মেয়র ও কাউন্সিলর পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। --- সূত্র, নিউএজ 

প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ছয় জেলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া নিয়ে সংঘর্ষে অন্তত ৬১ জন আহত হয়েছেন। এসব সংঘর্ষে কোথাও কোথাও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ঘটনাও ঘটেছে। নারায়ণগঞ্জে বিএনপির এক নেতাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনাও ঘটেছে।

ফেনীর পঞ্চগাছিয়া ইউনিয়নে একক প্রার্থী নির্ধারণে স্থানীয় নেতারা আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেননি। পরে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশনা অনুযায়ী দলীয় সদস্যদের ভোটে একক প্রার্থী বাছাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে ভোটের এই প্রক্রিয়াও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

Advertisement

ইউনিয়নটির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী কামাল উদ্দিন আহমেদের অভিযোগ, ভোটের প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে। অতীতে বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করলেও তাঁকে ভোটের বাইরে রাখা হয়েছে। ভোটের কয়েক দিন পর প্রার্থী ঘোষণাকে কেন্দ্র করে তাঁর ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের স্থানীয় এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একাধিক প্রার্থী থাকায় বাছাইপ্রক্রিয়ায় অনেকে নিজেদের বঞ্চিত মনে করছেন। এখন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হস্তক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয় নেতারা।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, দলের চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রার্থী বাছাইয়ে তিনটি পদ্ধতি অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা; দ্বিতীয়ত, আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি; আর তাতেও সমাধান না হলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হস্তক্ষেপ নেওয়া।

 কথা বলেছেন বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার সম্ভাব্য ২০ জন প্রার্থী এবং দলীয় নেতা। তাঁদের অধিকাংশই সমঝোতার ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাইয়ের পক্ষে মত দিয়েছেন। কয়েকজনের মতে, প্রার্থী নির্বাচনে অর্থনৈতিক প্রভাব নয়, বরং দলের জন্য সাংগঠনিক অবদানকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, পরিস্থিতি তত জটিল হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও চেয়ারম্যান পদপ্রত্যাশী নোমান উদ্দিন মুরাদ বলেন, কোনো কোনো এলাকায় পাঁচ থেকে ১১ জন পর্যন্ত প্রার্থী হতে আগ্রহী। প্রথমে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা করা হবে। তাতে কাজ না হলে ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটির নেতাদের ভোটে প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে।

সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন জানান, অভ্যন্তরীণ ভোটের বিষয়ে তাঁদের কাছে আনুষ্ঠানিক কোনো নির্দেশনা নেই। প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক অবদান ও জনগ্রহণযোগ্যতা যাচাইয়ে জরিপ করার বিষয়টি বিবেচনা করছেন তাঁরা। তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হওয়ায় বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও স্বীকার করেন তিনি। তাঁর আশা, আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবার এমন ঘটনা কম ঘটবে।

ফেনীতে অবশ্য প্রার্থী বাছাইয়ে অভ্যন্তরীণ ভোটের প্রক্রিয়া শুরু করেছে জেলা বিএনপি। ফেনী সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। একটি ইউনিয়নে সর্বোচ্চ ১৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

ফেনী জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে কমিটি গঠন করে জেলা পর্যায়ে নির্দেশনা দিয়েছে। তবে যেসব এলাকায় সাত থেকে ২৫ জন পর্যন্ত নির্বাচনে আগ্রহী, সেখানে একক প্রার্থী নির্ধারণ করা কঠিন হবে।

প্রার্থী চূড়ান্ত করার ক্ষমতা কার হà¦