শিরোনাম

প্রকাশিত : ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:৩৮ দুপুর
আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৬:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

যে কারণে কারাবন্দি ডেপুটি স্পিকার শপথ পড়াতে রাজি হননি

সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের (এমপি) শপথ পড়ানোর কথা জাতীয় সংসদের স্পিকারের। দ্বাদশ সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তাকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। এমন প্রেক্ষাপটে সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানোর জন্য গত রবিবার জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের আইন প্রণয়ন শাখা-১ থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকুকে চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি শপথ পড়াতে রাজি হননি। যে কারণে আজ সিইসির মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানোর বিকল্প পথ বেছে নিয়েছে সরকার। সূত্র: দৈনিক আমাদের সময়

শামসুল হক টুকুকে লেখা সংসদ সচিবালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫-এর অনুচ্ছেদ ৫ অনুসারে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৯৭টি নির্বাচনী এলাকার ফলাফল এবং গণভোটের ফলাফল সরকারী গেজেটে ১৩-০২-২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী সংসদ-সদস্যদের শপথগ্রহণ সম্পর্কিত বিধান হচ্ছেÑ

‘১৪৮ (২ক)। ১২৩ অনুচ্ছেদের (৩) দফার অধীন অনুষ্ঠিত সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপিত হবার তারিখ হতে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে এই সংবিধানের অধীন এতদুদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা তদুদ্দেশ্যে অনুরূপ ব্যক্তি কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোন ব্যক্তি যে কোন কারণে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ পাঠ পরিচালনা করতে ব্যর্থ হলে বা না করলে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার উহার পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে উক্ত শপথ পাঠ পরিচালনা করবেন, যেন এই সংবিধানের অধীন তিনিই এর জন্য নির্দিষ্ট ব্যক্তি।’

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, বিদায়ী স্পিকার শপথ পাঠ পরিচালনার জন্য অনুপস্থিত বা শপথ পাঠ করাতে অসমর্থ, বিধায় নির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের শপথ পাঠ পরিচালনা করবেন বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার।

সংশ্লিষ্টসূত্রে জানা গেছে, সংসদ সচিবালয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রবিবারই কারা কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেয়। কারা কর্তৃপক্ষ কেরানীগঞ্জের বিশেষ কারাগারে বন্দি বিদায়ী স্পিকার শামসুল হক টুকুকে শপথ পড়ানোর বিষয়ে সংসদ সচিবালয়ের চিঠিটি হস্তান্তর করে। চিঠি পেয়ে তিনি প্যারোলে মুক্ত হয়ে সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রবিবারই বিষয়টি চিঠি দিয়ে সংসদ সচিবালয়কে জানিয়ে দেয়।

২০১৬ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা কারাবন্দিদের প্যারোল নীতিমালায় বলা হয়েছে, ভিআইপি/অন্যান্য সব শ্রেণির কয়েদি/হাজতি বন্দিদের নিকট আত্মীয় যেমন বাবা-মা, শ্বশুর-শাশুড়ি, স্বামী-স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি এবং আপন ভাই-বোন মারা গেলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া যাবে; ভিআইপি/অন্যান্য সব শ্রেণির কয়েদি/হাজতি বন্দিদের নিকট আত্মীয়ের মৃত্যুর কারণ ছাড়াও কোনো আদালতের আদেশ কিংবা সরকারের বিশেষ সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্যারোলে মুক্তি দেওয়া প্রয়োজন হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্দিকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া যাবে।

এদিকে সংসদ সদস্য ও নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার শপথ উপলক্ষে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে সংসদ ভবন ও আশপাশ এলাকায়। গতকাল পুরো সংসদ ভবন এবং সংলগ্ন এলাকা ডগ স্কোয়াড ও মেটাল ডিটেকটর দিয়ে সুইপিং করা হয়। এ ছাড়া মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য ৩৭টি গাড়িও প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। প্রস্তুত রাখা হচ্ছে ৩৭টি পুলিশ এস্কর্ট গাড়ি এবং ৩৭ জন গানম্যান। মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যরা সেখানে যাবেন ফ্ল্যাগ ছাড়া ব্যক্তিগত গাড়িতে। আর বের হবেন ফ্লাগ স্টান্ড লাগানো সরকারি গাড়িতে। নতুন প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করবে এসএসএফ।

সূত্র জানায়, শপথ নিতে মন্ত্রিসভার সদস্যরা ৪ জন করে অতিথি সঙ্গে নিতে পারবেন। আর সংসদ সদস্যরা সঙ্গে নিতে পারবেন দুজন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টারা শপথ অনুষ্ঠানে যাবেন ফ্লাগ স্টান্ড লাগানো গাড়িতে। আর বের হবেন ফ্লাগ ছাড়া ব্যক্তিগত বাহনে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়