শিরোনাম
◈ নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থান ◈ সাময়িকভাবে স্থগিত মালয়েশিয়ার ই-ভিসা কার্যক্রম ◈ ৪ কিমি গতির ঢাকা শহর! যানজট কমাতে এআই ও জিরো সিগন্যাল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার পথে বাংলাদেশ ◈ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের জোট সমীকরণ: কে কার সঙ্গে, কে কোথায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে? ◈ ভোটের দিন প্রার্থী, পোলিং এজেন্ট ও ভোটারদের যেসব বিধিনিষেধ মানতে হবে ◈ আমরা এককভাবে সরকার গঠনে সক্ষম হবো: ডয়চে ভেলেকে তারেক রহমান (ভিডিও) ◈ টি-‌টো‌য়ে‌ন্টি বিশ্বকা‌পে আরব আমিরাতের বিরু‌দ্ধে দাপু‌টে জয় নিউ জিল্যান্ডের ◈ নির্বাচনে টানা ছুটি: সরকারি চাকরি থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—কার কত দিন? ◈ বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে আওয়ামী লীগ নিয়ে ভারতের দোটানা! ◈ বিদায় নিয়ে কোথায় যাবেন, জাতিকে জানালেন প্রধান উপদেষ্টা

প্রকাশিত : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০২:৫৫ রাত
আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৯:২৫ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের জোট সমীকরণ: কে কার সঙ্গে, কে কোথায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে?

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ১৯ দিনের নির্ঘুম প্রচারণা শেষে এখন ফসল ঘরে তোলার অপেক্ষায় রাজনৈতিক দলগুলো। দীর্ঘ দৌড়ঝাঁপ, আসন নিয়ে দরকষাকষি এবং জোটের ভাঙা-গড়ার খেলা শেষে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত এই নির্বাচন ও গণভোট। আরপিও’র (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ) নতুন বাধ্যবাধকতার কারণে এবারের নির্বাচনে দল ও প্রতীকের সমীকরণে আমূল পরিবর্তন এসেছে। 

জোটের সমীকরণ : কার সঙ্গে গেলে বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত হবে— সেই সমীকরণ থেকেই গঠন হয়েছে একাধিক জোট। আবার আসন নিয়ে দরকষাকষিতে বনিবনা না হওয়ায় জোট থেকে সরে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। আরপিও’র বাধ্যবাধকতার কারণে অতীতের মতো বড় দলের প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ রাখেনি ইসি। তাই অনেক ছোট দলের শীর্ষ নেতারা নিজ দল বিলুপ্ত করে বা সেখান থেকে পদত্যাগ করে সরাসরি বড় দলে যোগ দিয়ে নির্বাচন করছেন।

নির্বাচনে আলোচনায় রয়েছে প্রধান দুই বড় দল বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট।

অবশ্য এবার বিগত আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলের কেউ সরাসরি দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন না। তবে তাদের অন্যতম মিত্র জাতীয় পার্টি ও একই দলের আরেকটি অংশ জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করছে। এর নাম জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট।

এছাড়া ভোটের মাঠে উল্লেখযোগ্য আরও দু’টি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি সুফিবাদী দলের সমন্বয়ে বৃহত্তর সুন্নি জোট ও বাম দলগুলোর জোট গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্ট। এর বাইরেও স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করছেন ২৭৫ জন।

আসন সমঝোতার বিরোধে হয়েছে ভাঙা-গড়ার খেলা। এসব কিছু অতিক্রম করেই শেষ পর্যন্ত টিকে রয়েছে কিছু জোট। ভোটের লড়াইয়ে রয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা। 

এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, অতীতেও নির্বাচনে একাধিক জোট গঠন হয়েছে। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। অনেকে নিজেদের আদর্শ বা সুবিধা মতো প্ল্যাটফর্মে উঠেছে। এবার আওয়ামী লীগসহ বেশ কয়েকটি দল ভোটে নেই। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন নিয়ে আগাম কিছু বলার সুযোগ নেই। 

ধানের শীষের বাইরে বিএনপি জোটের প্রার্থী কারা? : নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুসারে, এবার বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন ২৯১ জন প্রার্থী। অবশ্য শুরুতে দলটি ধানের শীষের মনোনয়ন দিয়েছিল ২৯২ জনকে। এর মধ্যে ঋণখেলাপির দায়ে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সির প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যায়।

এই জোটের অন্য ৮ দলের প্রার্থীর মধ্যে ৭ জন নিজ নিজ দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করছেন। এরা হলেন— ঢাকা-১২ আসনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক (হাতুড়ি), ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি (মাথাল), পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নূরুল হক নূর (ট্রাক), ভোলা-১ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ (গরুর গাড়ি)। আর জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ৪টি আসনে খেজুর গাছ প্রতীক নিয়ে নিয়ে নির্বাচন করছেন। এর মধ্যে সিলেট-৫ আসনে দলের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, নীলফামারী-১ আসনে দলের মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে সহ-সভাপতি জুনায়েদ আল হাবিব ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি মনির হোসেন কাসেমী। বিএনপির ছেড়ে দেওয়া আরেক আসনে ঢাকা-১৩ থেকে নির্বাচন করছেন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট (এনডিএম)’র চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ। 

দল বিলুপ্ত বা পদত্যাগ করে ধানের শীষ প্রতীক নিলেন যারা : বিগত সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎভাবে আন্দোলন করেছেন বেশ কয়েকটি দলের শীর্ষ নেতা। তাই আসন বণ্টনের ক্ষেত্রে তাদেরকে মূল্যায়ন করেছে দলটি। তবে নিজের প্রতীকে নির্বাচন করলে ঝুঁকির শঙ্কায় তারা সরাসরি ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ খুঁজছিলেন। কিন্তু আরপিও’র বিধান অনুসারে সে সুযোগ নেই। তাই অনেকে নিজ দল বিলীন বা পদত্যাগ করে সরাসরি বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন বেশ কয়েকজন নেতা।

এর মধ্যে নিজের দল বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেন। তিনি ধানের ধানের শীষ প্রতীকে কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে নির্বাচন করছেন। একই পদ্ধতিতে বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন সেলিম বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। 

অন্যদিকে এলডিপির মহাসচিব পদ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে কুমিল্লা-৭ আসনে রেদোয়ান আহমেদ ও গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক থেকে পদত্যাগ করে ঝিনাইদহ-৪ আসন থেকে নির্বাচন করছেন রাশেদ খান। 

বিএনপি জোট থেকে সড়ে গেছে আলোচিত তিন দল : আসন ছাড় না পেয়ে বিএনপির সঙ্গে ছিন্ন করেছেন দলটির যুগপতের অন্যতম তিন সঙ্গী আ স ম আবদুর রবের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য ও ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের বাংলাদেশ লেবার পার্টি। এর মধ্যে কোনও আসন ছাড় না পাওয়ায় আগেই সড়ে গেছে জেএসডি ও লেবার পার্টি। সর্বশেষ গত ২১ জানুয়ারি জোট ছাড়েন নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না। মূলত বগুড়া-২ আসনে তাকে ছাড় দেওয়ার পরও ধানের শীষের প্রার্থী থাকায় ক্ষোভে তিনি বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। তার দল এককভাবে ১১টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। 

কয় আসনে নির্বাচন করছে জামায়াত, সঙ্গী কারা? : আসন সমঝোতার অংশ হিসেবে জামায়াতের নেতৃত্বে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে ১১ দলীয় নির্বাচনি মোর্চা ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ। এ জোটের প্রধান দল জামায়াত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ২২৯টি আসনে। শুরুতে এর সঙ্গে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা ছিলো। তবে আসন বণ্টনে বনিবনা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তারা জোট থেকে বের হয়ে গেছে। অবশ্য পরবর্তীতে ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ লেবার পার্টি এই জোটে যোগ দিলে আবারও ১১ দলীয় জোট হয়। 

এই জোটের অন্যান্য দলের মধ্যে রয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলামী পার্টির একাংশ, বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)। 

এককভাবে নির্বাচন করছে জাতীয় পার্টি ও ইসলামি আন্দোলন : এবার কোনও জোটে না গিয়ে এককভাবে নির্বাচন করছে জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি। তারা প্রার্থী দিয়েছে ১৯৮টি আসনে। অপরদিকে জামায়াত জোট থেকে বের হয়ে গিয়ে চরমোনানাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন নির্বাচন করছে সর্বোচ্চ ২৫৮টি আসনে। 

জাতীয় পার্টির একাংশের নেতৃত্বে ১৮ দলীয় জোট এনডিএফ : জাতীয় পার্টি থেকে বের হয়ে গিয়ে নির্বাচন করছে নতুন জোট এনডিএফ। এ জোটের শরিক দলগুলো হলো— জাতীয় পার্টির (জাপা) আনিসুল ইসলামী নেতৃত্বাধীন অংশ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (জেপি), জনতা পার্টি বাংলাদেশ, তৃণমূল বিএনপি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট, গণফ্রন্ট, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (মহসিন রশিদ), জাতীয় ইসলামিক মহাজোট, বাংলাদেশ স্বাধীন পার্টি, বাংলাদেশ স্বাধীনতা পার্টি, অ্যালায়েন্স ডেমোক্রেটিক পার্টি, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আন্দোলন, ডেমোক্রেটিক পার্টি, জাতীয় সাংস্কৃতিক জোট, জাসদ (শাহজাহান সিরাজ), ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক পার্টি ও গণ আন্দোলন। 

বাম ঘরানার ৯ দল নিয়ে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট : নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশ নিয়েছে প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক ধারার ৯টি দলের সমন্বয়ে নতুন জোট ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’। এ জোটে রয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন, বাসদ (মার্ক্সবাদী), বাংলাদেশ জাসদ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ-মাহবুব) ও সোনার বাংলা পার্টি। এ ছাড়া আরও আছে প্রয়াত বামপন্থী নেতা পংকজ ভট্টাচার্য প্রতিষ্ঠিত ঐক্য ন্যাপ, গণমুক্তি ইউনিয়ন। 

সুফীবাদী তিন দল বৃহত্তর সুন্নি জোট লড়ছে ৭০ আসনে  : সুন্নি মতাদর্শী ৩টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বি এস পি) এর সমন্বয়ে ‘বৃহত্তর সুন্নি জোট’ নির্বাচনি মাঠে রয়েছে। তিন দল মিলে ৭০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

এর মধ্যে সৈয়দ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদীর বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ২৫, সৈয়দ সাইফুদ্দিন মাইজভাণ্ডারীর বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি ২৫ ও মাওলানা এম এ মতিনের ইসলামিক ফ্রন্ট ২০টি আসনে নির্বাচন করছে।   

নির্বাচনে নেই যারা : এবারের নির্বাচনে নেই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, তাদের মিত্র জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ও বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টিসহ ১৪ দল। এর বাইরে বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগও এবার নির্বাচনে নেই। 

এ বিষয়ে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “নির্বাচনি আদর্শিক বা ভোটের হিসেবে অনেক সময় জোট গঠন হয়ে থাকে। এবারও একাধিক জোট গঠন হয়েছে। আবার অন্যদিকে বড় কয়েকটি দল অংশগ্রহণ করেনি। এমন বাস্তবতায় ভোটের সমীকরণ কী হতে পারে সেটির জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই।”  উৎস: বাংলাট্রিবিউন।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়