শিরোনাম
◈ নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থান ◈ সাময়িকভাবে স্থগিত মালয়েশিয়ার ই-ভিসা কার্যক্রম ◈ ৪ কিমি গতির ঢাকা শহর! যানজট কমাতে এআই ও জিরো সিগন্যাল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার পথে বাংলাদেশ ◈ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের জোট সমীকরণ: কে কার সঙ্গে, কে কোথায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে? ◈ ভোটের দিন প্রার্থী, পোলিং এজেন্ট ও ভোটারদের যেসব বিধিনিষেধ মানতে হবে ◈ আমরা এককভাবে সরকার গঠনে সক্ষম হবো: ডয়চে ভেলেকে তারেক রহমান (ভিডিও) ◈ টি-‌টো‌য়ে‌ন্টি বিশ্বকা‌পে আরব আমিরাতের বিরু‌দ্ধে দাপু‌টে জয় নিউ জিল্যান্ডের ◈ নির্বাচনে টানা ছুটি: সরকারি চাকরি থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—কার কত দিন? ◈ বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে আওয়ামী লীগ নিয়ে ভারতের দোটানা! ◈ বিদায় নিয়ে কোথায় যাবেন, জাতিকে জানালেন প্রধান উপদেষ্টা

প্রকাশিত : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০১:৪৬ রাত
আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৯:২৫ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ডয়চে ভেলেকে দেয়া সাক্ষাৎকার

আমরা এককভাবে সরকার গঠনে সক্ষম হবো: ডয়চে ভেলেকে তারেক রহমান (ভিডিও)

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনের পর তারা এককভাবে সরকার গঠনে সক্ষম হবেন বলে আশা করছেন ৷ ডয়চে ভেলেকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন৷ সাক্ষাৎকারে তিনি নারীর ক্ষমতায়ন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক এবং গুম-খুনের বিচার নিয়েও কথা বলেছেন ৷

১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে মায়ের মৃত্যু এবং নির্বাচনি প্রস্তুতি - দুটোর সামঞ্জস্য রাখাই তার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বলে জানান তারেক রহমান। 

প্রশ্ন: জনাব তারেক রহমান৷ জার্মানির ডয়েচে ভেলে থেকে আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি ৷ ১২ই ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট৷ তো এই নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু হবে বলে আপনি আশাবাদী?

আমরা আশা করছি যে নির্বাচনটা সুষ্ঠু হবে ৷ মানুষেরও তাই প্রত্যাশা৷ আমরা আশাবাদী ৷ 

প্রশ্ন: ১৭ বছর পর আপনি এই বাংলাদেশে এসেছেন৷ আপনি নির্বাসনে ছিলেন নানা কারণে৷ এই ১৭ বছর পর আসার পরে আপনার দল গোছানো নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার ক্ষেত্রে আপনার কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কোনটা ছিল?

চ্যালেঞ্জটা হয়তো কিছুটা খুব সম্ভবত আমারই ছিল৷ এত বছর পরে এসেছি, আসার পরে মানুষের চোখেমুখে একটা প্রত্যাশা দেখেছি৷ এটা হলো রাজনৈতিক দিক, অন্যদিকে আসার পাঁচ দিন পরেই আম্মা মারা গেলেন৷ উনি অসুস্থ ছিলেন অনেক দিন ধরে৷ স্বাভাবিকভাবে এটাও একটা খুব কষ্টকর বিষয় আমাদের সবার জন্য৷ আমরা পরিবার যে একসাথে বসে নিজেদের কষ্টটা ভাগ করে নেবো, সেই সুযোগটা বা সময়টা হয়নি৷ কারণ আমরা একদম নির্বাচনের ডামাডোলের ভিতরে৷ একদিকে নির্বাচনি ডামাডোল অন্যদিকে ব্যক্তিগত বিষয়টা - দুটোর সামঞ্জস্য রেখে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, এটাই আসলে আমার কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিলো৷ আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি যে, হয়তো এই চ্যালেঞ্জটা মোটামুটিভাবে মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছি আমি৷

প্রশ্ন: এবার তো অনেক ভোটার যারা হচ্ছেন তরুণ এবং প্রথমবারের মতো ভোট দিতে যাচ্ছেন৷ গত তিনটি নির্বাচন বিতর্কিত নির্বাচন আপনি জানেন৷ ফলে মানুষের মধ্যে একটা বাড়তি আগ্রহ রয়েছে৷ তরুণদেরকে আগ্রহী করতে বা তরুণদের কাছে পৌঁছাতে, আপনার দলের পক্ষ থেকে কি আলাদা করে বা বিশেষ করে কোনো কিছু করা হয়েছে যেটাতে তরুণরা একটু আকৃষ্ট হতে পারে?

দেখুন আপনি যদি আমাদের মেনিফেস্টোটা দেখে থাকেন, যেটা আমরা কয়েক দিন আগে জাতির সামনে উপস্থাপন করেছি, সেখানে কিন্তু আমরা সমাজের তরুণদের জন্য, একইভাবে এখানে বয়স্ক যারা আছেন তাদের জন্য, একই সাথে যারা দেশে চল্লিশ লক্ষ প্রতিবন্ধী আছেন তাদের জন্য, একই সাথে বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর অর্ধেক যে নারী, তাদের ক্ষমতায়নের জন্য আমরা পরিকল্পনা রেখেছি৷ কর্মসূচি রেখেছি, বিশেষ করে শুধু তরুণদের জন্য না, সকলের জন্য৷ কারণ দেশটা গঠন করতে হবে সকলকে নিয়ে৷

প্রশ্ন: জুলাই গণ অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে এবং তারপর থেকে বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে সম্পর্কের ক্রমশ অবনতি হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন৷ এই যে সম্পর্ক এবং অতীতে দেখা গেছে যে গত এক দশকে অনেকে মনে করেন যে ভারতের সঙ্গে বিএনপির একটা দূরত্ব রয়ে গেছে এবং সেই দূরত্বটা ঘোচানো যায়নি৷ ভবিষ্যতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আপনার অবস্থান কী হবে?

দেখুন, আপনি যেটা বললেন যে দেখা গিয়েছে যে বিএনপির সাথে তাদের একটা দূরত্ব আছে৷ অবশ্যই আমরা যদি দেখি যে এমন কোনো চুক্তি হচ্ছে যেটা বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থের পরিপন্থি, বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থি, সেটা যে কোনো দেশের সাথেই হোক না কেন তাদের সাথে স্বাভাবিকভাবেই দূরত্ব হবে৷ কারণ আমি তো প্রতিনিধিত্ব করি আমার দেশের মানুষকে৷ কাজেই যে কোনো দুই দেশের মধ্যে যদি কোনো চুক্তি হয়, যেটা আমার দেশের স্বার্থের সাথে যাবে না, সেক্ষেত্রে যে কারো সাথেই আমাদের এরকম দূরত্ব হতে পারে৷

প্রশ্ন: ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, দেখা যাচ্ছে যে চীনের একটা বাড়তি আগ্রহ আছে বাংলাদেশ নিয়ে৷ আপনাদের কি চীনের জন্য কি আলাদা কোনো নীতি বা কোনো পদক্ষেপ আছে?

বর্তমান বিশ্বে যদি আমরা চিন্তা করি আমাদের সাথে বিভিন্ন দেশের সম্পর্ক থাকবে, আমরা একা বসবাস করতে পারব না৷ গ্লোবাল ভিলেজ বলা হয় এখন পৃথিবীকে৷ কাজেই আমাদের দেশের মানুষ বিভিন্ন দেশের সাথে ব্যবসা বাণিজ্য করবে৷ আমাদের দেশের মানুষ বিভিন্ন দেশে যাবে চাকরিবাকরি বিভিন্ন কারণে৷ কাজেই আমার দেশের স্বার্থ যেখানে বজায় থাকবে, দেশের মানুষের স্বার্থ যেখানে বজায় থাকবে, আমাদের সাথে তাদের সম্পর্ক ভাল হবে৷

প্রশ্ন: একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে আপনি কয়েকদিন আগেই বলেছেন যে, বিএনপি কোনোরকম ঐক্যের সরকার বা জাতীয় সরকার গঠনের পরিকল্পনা নেই জামায়াতের সঙ্গে৷ কিন্তু জামায়াত বলছে যে, তারা যদি সুযোগ পায় তারা বিএনপির সঙ্গে এখনও ঐক্যের সরকার করতে রাজি এবং তারা আমন্ত্রণ জানাবে৷ সেক্ষেত্রে কি আপনি সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করবেন?

আমরা কনফিডেন্ট যে, ইনশাল্লাহ বাংলাদেশের মানুষের রায় আমরা পাবো৷ আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হবো - এককভাবে৷ সেক্ষেত্রে তো কাউকে অপজিশনে থাকতে হবে৷ কারণ একটা ব্যালেন্সড রাষ্ট্র যদি হতে হয়, ব্যালেন্সড সরকার যদি হতে হয় তাদের সেক্ষেত্রে অপজিশনে থাকতে হবে কাউকে৷ সবাই সরকারে চলে আসলে কেমন করে দেশ চলবে?

প্রশ্ন: বাংলাদেশে প্রায় ১৩ কোটি ভোটার এবং তার অর্ধেকের মতোই নারী৷ কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি যে রাজনৈতিক দলগুলো যে প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছেন তার মধ্যে নারীর সংখ্যা খুবই কম এবং এটা নিয়ে একটা আলোচনা হচ্ছে দেশে বিদেশে যে নারীকে কেন এতটা কম সুযোগ দেয়া হচ্ছে ভোটের রাজনীতিতে? কারণ যে জুলাই বিপ্লবের কথা বলা হয়, গণঅভ্যুত্থানের কথা বলা হয়, সেখানেও তারা বিশেষভাবে অবদান রেখেছেন৷ বিষয়টা কীভাবে দেখছেন?

বিষয়টাকে আমি অন্যভাবে দেখি৷ বেগম খালেদা জিয়া যখন এর আগে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তখন উনি একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছিলেন এবং সেটা হচ্ছে মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থা৷ ক্লাস ওয়ান থেকে টুয়েলভ পর্যন্ত উনি ফ্রি করে দিয়েছিলেন৷ এটি হচ্ছে নারী সমাজকে এমপাওয়ার করার প্রথম একটি পদক্ষেপ৷ অর্থাৎ আপনি একজনের শিক্ষার সুযোগ তৈরি করলেন৷ আমরা সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে নারীদের এই শিক্ষার সুযোগটা আরও হায়ার ক্লাস পর্যন্ত আমরা নিয়ে যাব৷ এটা হলো এক নম্বর৷ দ্বিতীয়ত, আপনি নিশ্চয়ই শুনেছেন বা জানেন আমরা দেশের প্রত্যেক হাউসওয়াইফ এর জন্য, বিশেষ করে শুরু করবো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর থেকে, আমরা একটি ফ্যামিলি কার্ড দিতে চাই যার মাধ্যমে আমরা তাকে একটি রাষ্ট্র বা সরকার থেকে একটা সহযোগিতা দেবো৷ এই ফ্যামিলি কার্ডটা যখন পাবে সে মানসিকভাবে সে এমপাওয়ার্ড ফিল করবে৷ এবং সহযোগিতা যখন বজায় থাকবে আস্তে আস্তে অর্থনৈতিকভাবে সে স্বাবলম্বী হবে৷ একদিকে আমরা চেষ্টা করছি নারীদেরকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে৷ একই সাথে আমরা তাদেরকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলছি৷ আমরা শুধু কথার কথা বলে কিছু নমিনেশন বা কিছু গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কিছু নারীকে দিয়ে দিলাম না৷ কিন্তু আপনি যদি সত্যিই নারীদের ক্ষমতায়নের কথা বলেন তা এভাবে আনতে হবে৷ তাদেরকে শিক্ষা এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে হবে৷ আমরা চাইছি শিক্ষার পাশাপাশি নারীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে৷ তাহলে সে তার নিজ যোগ্যতাতেই যে কোনো পর্যায়ের নির্বাচন হোক - স্থানীয় হোক বা জাতীয় নির্বাচন, সে তার নিজ যোগ্যতাবলে নমিনেশন আদায় করেই নিতে সক্ষম হবে৷ বিষয়টিকে আমরা লংটার্মে নিয়ে যেতে চাইছি৷ ধীরে ধীরে স্থায়ীভাবে জিনিসটাকে গড়ে তুলতে চাইছি আমরা৷

প্রশ্ন: আমরা যখন কথা বলি নারী ভোটারদের সঙ্গে, তাদের কারও কারও মধ্যে একধরনের ভয় বা উৎকণ্ঠাও কাজ করছে যে, ১২ তারিখের পরে কী হবে, তারা কতটা নিরাপদ থাকতে পারবেন বা তাদের উপরে কোনো ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ হবে কিনা, তাদের জীবন সংকুচিত করার কোনো রকম পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিনা৷ এরকম একধরণের ভয়, একধরণের উৎকণ্ঠা কাজ করছে৷ তাদের উদ্দেশ্যে আপনার কি কোনো বার্তা আছে?

আপনি যেই বিষয়গুলো বললেন এটি অবশ্যই আমাদের পক্ষ থেকে নয়৷ এটি বাংলাদেশে কিছু কিছু অন্য রাজনৈতিক দল আছে যাদের বিভিন্ন কথাবার্তা বা সোশ্যাল মিডিয়াতে তাদের বিভিন্ন স্টেটমেন্টের মাধ্যমে এই ধারণাগুলো জন্ম নিয়েছে মানুষের মাঝে বা নারীদের মাঝে৷ আমরা সবসময়ই নারীদের এম্পাওয়ারমেন্ট এর কথা বলেছি৷ কারণ আমরা যত যাই পরিকল্পনাই করি না কেন, যখন দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী হয়ে থাকেন, তাদেরকে আলাদা রেখে আমরা দেশকে সামনে নিতে পারব না৷ আমাদের সকলকে নিয়েই নিতে হবে৷ সেজন্যই আমরা তাদের শিক্ষার আরও এমন ব্যবস্থা করতে চেয়েছি যাতে তারা আরও উচ্চ শিক্ষা লাভ করতে পারে সহজে৷ আমরা এমন ব্যবস্থা করতে চাইছি যাতে তারা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে৷ অর্থাৎ তাদের কনফিডেন্স আমরা আরও স্ট্রং করতে চাইছি৷ তাদের আত্মবিশ্বাসটা আমরা দৃঢ় করতে চাইছি৷ শুধু তাই নয়, আমরা এরই মধ্যে বলেছি যে, আমরা দেশে সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে আমরা দেশে এমন শিল্পও নিয়ে আসতে চাই যেখানে নারীরা তাদের কর্মসংস্থানে বেশি হবে৷ কর্মসংস্থানে নারীরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করতে পারেন, সেই জন্য কেয়ার সেন্টারসহ অন্যান্য বিষয়গুলো আমরা নিশ্চিত করার চেষ্টা করব আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে৷ আমরা এটাও বলেছি যে, নারীরা যাতে নিরাপদে যাতায়াত করতে পারেন, ঢাকা শহরসহ বড় শহরগুলোতে আমরা নারীদের জন্য ইলেকট্রিক বাস ইন্ট্রোডিউস করব, যেটা শুধু নারীরাই ব্যবহার করবেন এবং সেই বাস পরিচালনাও করবেন নারীরা৷ কাজেই আমাদের দলীয় অবস্থান থেকে আমরা পরিকল্পনা রেখেছি যেগুলো আমরা ইনশাল্লা বাস্তবায়ন করব সুযোগ পেলে যাতে করে নারীরা তাদের জন্য যত বেশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়৷

প্রশ্ন: গণঅভ্যুত্থানের পর সন্ত্রাস বিরোধী আইনে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে৷ রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না এবং কোন কোন বিশেষজ্ঞ এরকম মত দিচ্ছেন যে, আওয়ামী লীগ অংশ না নেয়ায় এই নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হচ্ছে না৷ এই বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন?

দেখুন এটা তো পুরো রাজনীতি৷ আমরা রাজনীতি করি মানুষের জন্য, মানুষের সমর্থন নিয়ে৷ কাজেই আমি মনে করি, রাজনীতিতে মানুষ যাকে গ্রহণ করবে তাকে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না৷ আর যাকে মানুষ গ্রহণ করবে না, যত শক্তিই থাকুক না কেন, শক্তি প্রয়োগ করে সে ধরে রাখতে পারে না, ৫ই অগাস্ট যার উদাহরণ৷

প্রশ্ন: দুর্নীতি দমনের যে উদ্যোগের কথা আপনি বলছেন এবং আপনার ম্যানিফেস্টোতে সেটা রয়েছে, ইশতেহারে রয়েছে৷ কিন্তু টিআইবি এবং একাধিক সংগঠন নানারকম পরিসংখ্যান দিচ্ছে এবং তাতে দেখা যাচ্ছে যে বিএনপির বেশ কয়েকজন প্রার্থী ঋণখেলাপি৷ তারা আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে তারপরে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন এবং অনেকে আছেন যারা ঋণগ্রস্ত৷ এই বিষয়ে আপনার মতামত কী?

দেখুন দুর্নীতি এবং ঋণগ্রস্ত বা ব্যাংক ডিফল্ট দুটো ভিন্ন জিনিস৷ আমাদের দলের লক্ষ নেতাকর্মীর নামে বিগত স্বৈরাচার সরকার কেস দিয়েছিল৷ আমাদের দলের মধ্যে যারা আছেন, যারা আমাদের দলীয় রাজনীতির সাথে আছে, যারা ব্যবসা বাণিজ্য করে তাদেরকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে৷ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে তাদেরকে বঞ্চিত করা হয়েছে৷ তাদের ব্যবসা বাণিজ্য চলতে দেয়া হয়নি৷ তাদেরকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে৷ তাদের ন্যায্য ব্যাংক লোন যেটা আছে সেটা তাদেরকে দেওয়া হয়নি৷ কাজেই এরকম একটি অবস্থার মধ্যে আমাদের লোকজন, আমাদের ব্যবসায়ীরা, আমাদের নেতা কর্মীরা যারা ব্যবসা বাণিজ্য করতেন তাদের জন্য তো এরকম ডিফল্ট হওয়াটা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার৷ দুর্নীতি এবং ডিফল্ট হয়ে যাওয়ার মধ্যে সম্পর্ক তো নেই৷ দুটো একদম ভিন্ন জিনিস৷

প্রশ্ন: সম্পূর্ণভাবে গণঅভ্যুত্থানের কথা আপনি যেটা বলছেন যে, বিএনপির অনেক নেতাকর্মী হতাহত হয়েছেন বলে আপনার দল থেকে জানানো হয়েছে৷ গত ১৫-১৬ বছরে গুম খুনের শিকার হয়েছেন অনেকে৷ যারা ভুক্তভোগী তাদের পরিবারকে বা তাদের বিচার নিশ্চিত করার জন্য আপনার কোনো পরিকল্পনা আছে কি?

অবশ্যই আমাদের পরিকল্পনা আছে, কারণ আমাদের নেতাকর্মীরা যেরকম গুম খুনের শিকার হয়েছে, অন্যান্য গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল যারা আমাদের সাথে আন্দোলন সংগ্রামে ছিল তারা গুম খুনের শিকার হয়েছে৷ হয়তো সংখ্যা কম বেশি হবে৷ এমনকি অনেক মানুষ আছেন যারা রাজনীতির সাথে জড়িত না৷ কিন্তু তারা অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়েছে, গুম খুনের শিকার হয়েছে৷ এটি একটি অন্যায় ব্যাপার৷ একটি সভ্য দেশে মানুষ গুম হয়ে যাবে, দেশের মানুষ খুন হয়ে যাবে কিন্তু তার কোনো বিচার হবে না এটা তো হতে পারে না৷ কাজেই দেশের আইন অনুযায়ী অবশ্যই প্রত্যেকটা মানুষ কারো সাথে যদি অন্যায় হয়ে থাকে তার বিচার পাবার অধিকার আছে৷ উৎ:: ডয়চে ভেলে।

 

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়