শিরোনাম
◈ মিয়ানমার সীমান্তে আগের পরিস্থিতি আর সৃষ্টি হবে না: প্রত্যাশা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর  ◈ জাতীয় পার্টিতে কোনো বিভেদ নাই: রওশন এরশাদ ◈ সাংবাদিকরা চাষাবাদ করছেন কি না, দেখার দায়িত্ব পেলেন শাইখ সিরাজ ◈ কারামুক্ত বিএনপি নেতা আলালের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন মঈন খান ◈ গাজায় যুদ্ধ নয়, গণহত্যা চলছে: প্রধানমন্ত্রী ◈ শুক্রবার বিশ্বে বাতাস দূষণের তালিকায় ঢাকা ছিল সপ্তম ◈ মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে নির্বাচন  নিয়ে কেউ প্রশ্ন করেনি: প্রধানমন্ত্রী ◈ লোহিত সাগরে হামলায় ব্যবহার করা হবে সাবমেরিন অস্ত্র: হুথি নেতা  ◈ ২১ বলে সেঞ্চুরি করে বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন আসজাদ ◈ যারা সরকার উৎখাত করতে চায়, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি তাদেরই কারসাজি: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত : ০৬ ডিসেম্বর, ২০২৩, ০২:৫০ রাত
আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর, ২০২৩, ০২:৫০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

জাপানের প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষাক্রম, নীতি-পদ্ধতি ও দৃষ্টিভঙ্গি 

মঞ্জুরে খোদা টরিক

মঞ্জুরে খোদা টরিক: শিশুদের আনন্দময় ও উদ্দীপনাময় শিক্ষার জন্য যে বিষয়গুলোকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয় তা নিম্নরূপ : [১] সমাজের মানুষ ও আশপাশের পরিবেশ শিশুর শিক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুদের শিক্ষা, বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আঞ্চলিক প্রকৃতি ও পরিবেশ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়, [২]  ভবিষ্যতের সুষ্ঠু-সুন্দর-সমৃদ্ধময় সমাজ গঠনের লক্ষ্যে শিশুর আত্মিক-মানসিক, শারীরিক পরিপূর্ণতা দান ও বিকাশে সহায়তা করা হয়, [৩] শিশুরা জন্মের পর থেকে শিখতে থাকবে। তার মানে এই নয় যে, তারা কেবল পড়বে আর মুখস্ত করবে। বরং তারা গল্পবলা, বর্ণনা ও বাস্তব জগৎ থেকেই অধিক শখিবে। শিশুদের প্রতিভার স্বতন্ত্র বিকাশ, ব্যক্তি স্বাধীনতার চর্চা, পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব, অন্যের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ প্রভৃতি শেখানো হয়। [৪] সমাজের সবার সঙ্গে যোগাযোগের দক্ষতা, পারিপাশির্^কতার প্রতি সংবেদনশীল ও সদয় মনোভাব গড়ে তোলা হয়। [৫] বিদ্যালয়, প্রকৃতি, পরিবেশ, সমাজ ও প্রতিদিনের জানাশোনা থেকে তাদের মধ্যে সৃজনশীলতা, মননশীলতা জাগ্রত করা হয়। 

শিশুদের আদব-কায়দা, বিনয়-ভদ্রতা, নিয়ম-শৃঙ্খলা, সুন্দর জীবন, আত্মনির্ভরশীলতা, সততা, নৈতিকতাসহ নানা বিষয়ের জ্ঞান ও চর্চার বিষয়টি শেখানো হয়। [৬] শিশুদের জন্য আনন্দময় ও আগ্রহ-কৌতূহলের নানা কাজ-তৎপরতার পাশাপাশি নিয়ম করে ভাষাশিক্ষা, পাঠাভ্যাস ও গণিতের জ্ঞান দান করা হয়। [৭] শিশুরা রং-পেনসিল, পশু-পাখি ও প্রাণ-প্রকৃতি-ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে পরিচিত হয়। খেলাধুলার মাধ্যমে ধীরে ধীরে জাপানি বর্ণমালার সঙ্গে পরিচিত হয়। পার্কে, বিজ্ঞান জাদুঘরে, বন, পাহাড় ও প্রকৃতির কাছে নিয়ে যাওয়া হয় এগুলোর পরিচিত হতে। [৮] প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ক্লাস ও লেখাপড়ার পাশাপাশি পরিবেশ, ইতিহাস-ঐতিহ্য, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, সংস্কৃতি, সৌন্দর্য ও বাস্তব জীবনের নানা বিষয় ও প্রসঙ্গের সঙ্গে স্তরে স্তরে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। [৯] জীববৈচিত্র্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে তাদের চিড়িয়াখানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তারা খায়, গল্প করে, ছুটোছুটি করে, পশু-পাখির নানা বিষয় জানতে-বুঝতে শেখে। চিড়িয়াখানা থেকে নিরীহ প্রাণী, যেমন : খরগোশ, ছাগল, ভেড়া, হাঁস-মুরগি প্রভৃতি স্কুলে আনা হয়। সেখানে অতি ছোট শিশুদের সঙ্গে তাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়, সময় কাটানোর সুযোগ করে দেওয়া হয়। 

[১০] ধান খেত, আলু খেতে, শাকসবজির খেতে, ফলের বাগানে নিয়ে যাওয়া হয়। শুধু নিয়ে যাওয়াই হয় না, তাদের হাতে-কলমে দেখানো হয় এবং স্বশরীরে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দেওয়া হয়। চাষাবাদ ও উৎপাদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। কারখানা ফ্যাক্টরিতে নিয়ে যাওয়া হয়, কীভাবে খাবার অন্যান্য সামগ্রী তৈরি হয়। [১১] দোকানে নিয়ে দেখানো হয় কীভাবে বেচা-কেনা হয়। তাদের লজ্জা-জড়তা ভেঙে আত্মনির্ভরশীলতার চর্চা করানো হয়। কীভাবে জামা-কাপড় পরতে হয়, গোছাতে, সুন্দর করে সাজিয়ে রাখতে হয় প্রভৃতি। [১২] নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা-গবেষণার মাধ্যমে শিশু শিক্ষার্থীরা কাগজ-লতা-পাতা-বোর্ড-সোলা দিয়ে গাড়ি-বাড়ি, ফুল-পাখি, নানা খেলার সামগ্রী বানানোর মাধ্যমে সৃষ্টি ও আবিষ্কারের আনন্দে আগ্রহী হয়ে ওঠে। [১৩] জাপানি শিশুদের জন্য প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

কারণ, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের ১৫ বছর বয়সের শিক্ষার্থীদের মধ্যে গবেষণা চালিয়ে দেখা গেছে, যেসব শিক্ষার্থী প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যায়নি, তাদের চেয়ে যেসব শিক্ষার্থী প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাধ্যমে তাদের ধারাবাহিকতায় উচ্চতর পর্যায়ে লেখাপড়া করেছে, তারা অনেক ভালো করেছে। যে কারণে দেখা যায়, জাপানের প্রায় ৯৯ শতাংশ শিশু যেকোনো ধরনের (১ থেকে ৫ বছর সময়ে) প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাধ্যমে স্কুল জীবনে প্রবেশ করে। শিশুদের শিক্ষার এই সব নীতিমালা ও দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে পাঠ্যক্রম তৈরি করা হয়। বিদ্যালয়গুলোতে সেই ধারা-কাঠামো অনুসরণ করে তাদের পরিচালনা করা হয়, শেখানো হয়। প্রাক-প্রাথমিকে শিশুদের কোনো পরীক্ষা দিতে হয় না। জাপানের উন্নয়নে শিক্ষার ভূমিকা, ড. মঞ্জুরে খোদা, দ্যু প্রকাশন, পৃষ্ঠা: ৪৭-৪৯। 
 লেখক: গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়