শিরোনাম

প্রকাশিত : ০১ এপ্রিল, ২০২৩, ১২:৪৪ রাত
আপডেট : ০১ এপ্রিল, ২০২৩, ১২:৪৪ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

৭০ লাখ টাকার জন্য বিদেশে খেলতে যেতে পারবে না আমাদের মেয়েরা! 

কাজী এম মুর্শেদ

কাজী এম মুর্শেদ: আমাদের নারী ফুটবল টিম সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়ে গর্বে মাথা উঁচু করিয়েছিলো। খোলা বাসে সম্বর্ধনায় কাউকে ডাকতে হয়নি, ভালোবেসে জনগণ রাস্তায় উপচে পরে। বাসের ভেতরে ব্যাগ থেকে ডলার, মোবাইল চুরি হলেও বাইরের উচ্ছ্বাস, মানুষের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। তারা পুরোটাই মানুষের মন জয় করে নিয়েছে। মিয়ানমারে বিশ্বকাপ বাছাইতে মালডিভ, ইরান আর মিয়ানমারের সঙ্গে বাছাই পর্বের খেলা ছিলো। অর্থাভাবে যেতে পারছে না। টিকেটের ২০ লাখ আর আনুষঙ্গিক ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়ার কেউ নেই। ৭০ লাখ টাকার জন্য যেতে পারবে না আমাদের মেয়েরা। 

বাফুফের টাকা নেই, তাদের চিন্তায় মেসির আর্জেন্টিনাকে আনতে ৭০ কোটি টাকার চিন্তা আগে। বসুন্ধরা নারী ফুটবল স্পন্সর করে, তাদের বলা হয়নি। মন্ত্রণালয় লাল ফিতায় আটকে গেছে। অথচ কয়দিন আগে ফিফার ১৯২ তম দেশ বাংলাদেশ আফ্রিকার এক ছোট দেশ, ফিফার ১৯৯ তম দেশ সেইচেলসের সঙ্গে খেলে। প্রথম ম্যাচে ১-০ জিতলেও পরের ম্যাচে ০-১ এ হারে। সেই ম্যাচ খেলার আগে প্রাকটিসের জন্য সৌদি আরব গিয়ে সাতদিনে ১ কোটি টাকা খরচ করেছে। পুরুষ দলের কোনো বলার মতো ফলাফল নেই, টাকা আছে। নারীদের জন্য টাকা নেই, তারা জয় আনছে, চ্যাম্পিয়ন হচ্ছে, আমাদের কলাম লেখকরা আমাদের মেয়ে বলে গড়াগড়ি খাচ্ছে। এই মেয়েরা মাসে বেতন পায় কতো ধারণা আছে? তিন ক্যাটাগরিতে ১২ হাজার, ১০ হাজার এবং ৮ হাজার। আর কতো লজ্জা দিলে কাজী সালাহউদ্দিন বলবেন, থাক যথেষ্ট হয়েছে, আমি অক্ষম আমি এই চেয়ারের যোগ্য না? 
বাফুফের মাহফুজা কিরণকে সম্মান জানাই, উনি যে পরিশ্রম করেছেন তা কোচ ছোটন এবং ম্যানেজার মানিকের মতনই দুর্দান্ত। উনি কোনো পলিটিক্সে জড়ায় মেয়েদের এই খবর দিলেন জানা নেই, শুধু একবার যদি উনি নিজে বা কোচ ছোটন নিজে থেকে সামাজিক মাধ্যমে ক্রাউড ফান্ডিংয়ের জন্য আবেদন করে দেখাতেন কতো টাকা লাগবে আর কতো টাকা আসছে, ঢাকা শহরেরই অনেক মানুষ আছে যারা ৫ কেজি গরুর মাংস না কিনে টাকাটা দান করতো, ১২ হাজার টাকার বুফে ইফতার কাম ডিনার ফেলে কম করে ১০০ জন টাকা দিতো। 

ক্রাউড ফান্ডিংয়ে জনগণ টাকা দেয়। কারণ তারা পরিষ্কার দেখতে পারে কতো লাগবে, কতো জমা হয়েছে। সেই হিসাব গোপন থাকলে দিতো না। আইডিয়া দিলাম, সাবিনাদের বলেন কোচ ছোটনসহ সামাজিক মাধ্যমে আপিল করতে, টাকা আসবেই। এটা মাত্র ৭০ লাখ টাকা। আমাদের মহামান্য রাষ্ট্রপতি ৪৯ জন সফর সঙ্গী নিয়ে ৯ দিনের জন্য সিঙ্গাপুর গেছেন ২৮ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত, এর মধ্যে তিনজন ড্রাইভারও আছে, এই প্লেজার ট্রিপের খরচের টাকা ব্যবস্থা করতে সমস্যা হয়নি। তিনি ইতালি যেতেন, যেজন্য হোটেল বুকিং ফি দিয়েছিলেন, যার ৫০ শতাংশ কেটে রাখলে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা জামানত হিসাবে উড়ে গেছে। এইসব টাকা ঠিকই ব্যবস্থা হয়, শুধু আমাদের নারী ফুটবল দলের জন্য হয় না। ঢাকা শহরে ১০০০০ টাকা করে দেওয়ার মতো মানুষ নেই? মাত্র ৭০০ জন মানুষ দরকার ছিলো, কিরণ-ছোটন-মানিক-সাবিনারা শুধু চায়নি। ২৪ ঘণ্টার কম সময়ে এই ৭০ লক্ষ টাকা যোগাড় সম্ভব।
লেখক: অর্থনৈতিক পর্যবেক্ষক

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়