শিরোনাম
◈ সংঘাতের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে ◈ দেশজুড়ে সহিংসতার ঘটনায় অভিযান, গ্রেপ্তার ২৭৪৭ ◈ আজ বিদেশি কূটনীতিকরা ধ্বংসযজ্ঞ পরিদর্শনে যাবেন ◈ চলমান সংকটে রাজশাহীতে কৃষিখাতে দিনে ২০ কোটি টাকার ক্ষতি ◈ কারফিউ শিথিল সময়ে চলবে দূরপাল্লার বাস ◈ প্রাণহানি ও ধ্বংসাত্মক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছে সম্পাদক পরিষদ ও নোয়াব ◈ ড. ইউনূস রাষ্ট্রদ্রোহী কাজ করেছেন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ বাংলাদেশের সহিংসতা বন্ধে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি জরুরি আহ্বান জানিয়েছেন ড. ইউনূস ◈ নরসিংদী কারাগার থেকে পালানো ১৩৬ কয়েদির আত্মসমর্পণ ◈ কতজন শিক্ষার্থী মারা গেছেন, জানতে সময় লাগবে: শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশিত : ২৩ মার্চ, ২০২৩, ০২:২৫ রাত
আপডেট : ২৩ মার্চ, ২০২৩, ০২:২৫ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

শওকত মাহমুদ বহিষ্কার করা হয়েছে কেন?

জিল্লুর রহমান

জিল্লুর রহমান: নির্বাচনের আগে জাতীয় সরকার নাকি নির্বাচনের পর জাতীয় সরকার এই বিতর্কে বহিষ্কার হলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সাংবাদিক শওকত মাহমুদ। বিএনপি বলছে, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজে লিপ্ত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে শওকত মাহমুদকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার। ওইদিন রাজধানীর একটি হোটেলে নৈশভোজের আয়োজন করেছিল জাতীয় ইনসাফ কায়েম কমিটি। কমিটির আহ্বায়ক কবি ও প্রাবন্ধিক ফরহাদ মজহার, সদস্য সচিব শওকত মাহমুদ। তারা নৈশভোজ অনুষ্ঠানে নির্বাচনপূর্ব একটি জাতীয় সরকারের প্রস্তাবনা দেয়, অন্যদিকে বিএনপি বহু পূর্বেই নির্বাচন পরবর্তী জাতীয় সরকারর কথা বলে আসছে। বহিষ্কার প্রসঙ্গে শুধু দুঃখজনক শব্দ ছাড়া আর বেশি কিছু বলেননি শওকত মাহমুদ।

নির্বাচনের আগে জাতীয় সরকার না নির্বাচনের পর বিষয়টি আসলে এ পর্যন্তই নয়, অনেকেই ধারণা করছেন এর গভীরে আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জড়িত রয়েছে। বিএনপির সর্বোচ্চ নেতৃত্ব চাচ্ছে আগামী নির্বাচনেই যেন ক্ষমতায় যাওয়া যায়, অন্যদিকে বর্তমান সরকার এর উল্টো অবস্থানে আছেন, অর্থাৎ তারা চলে গেলেও সেই অবস্থানে কোনোভাবেই  বিএনপিকে দেখতে চায় না।

বিএনপি মনে করছে, জাতীয় ইনসাফ কমিটি সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে, তাই এই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত। নির্বাচনের আগে একটি জাতীয় সরকার এলে আওয়ামী লীগ সেইফ জোনে থাকবে, জাতীয় সরকার অন্তত দুই বছর সরকার পরিচালনা করবে, সেই সময়ের ভেতর আওয়ামী লীগ জনগণের আস্থায় এনে আবারও ক্ষমতায় আসবে বলে বিশ্বাস করে।

বেশকিছু উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সত্ত্বেও সরকার তার দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা কর্মীদের কর্মকাণ্ড জনগণের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রনে ব্যর্থতা, টাকা পাচারসহ বেশ কিছু কারণে সরকার ইমেজ সঙ্কটে রয়েছে, এই মুহূর্তে  একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতায় আসবে না বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে বিভিন্ন মহল থেকে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের চাপ ক্রমাগত বাড়ছে, আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে বর্তমান সরকার আরো বেশি চাপের মুখে পড়তে হবে, যা সামলানো সহজ হবে না, এটি সরকারর নীতিনির্ধারকরা জানেন।

বিএনপির এখনই ক্ষমতায় যাওয়ার নীতিই মূলত শওকত মাহমুদকে বহিষ্কারের মূল কারণ মনে করা হচ্ছে। বিএনপি কোনোভাবেই মাঝখানে আর অন্য কিছুকে মেনে নেবে না। এই মেনে না নেওয়া বর্তমান সরকারের জন্যে আশীর্বাদ হিসেবে বিবেচনা করা যায়, আর বিএনপির এই নীতি তাদের জন্যে কতোটুকু সফলতা বয়ে আনবে, তার জন্যে অপেক্ষা করতে হবে আরো বেশকিছু দিন।

বিএনপি কার্যত এখনো সরকারের বিরুদ্ধে কোনো আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি, অন্যদিকে আওয়ামী লীগকে নির্ভার মনে হচ্ছে। বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচন আসলে কোন ফরমেটে হবে তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। বালাদেশের রাজনীতি এখন জাতীয় নির্বাচনকে নিয়েই ঘুরপাক খাচ্ছে, এর মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শওকত মাহমুদের বহিষ্কার কিছু কিছু বিষয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনার সুযোগ করে দিচ্ছে। লেখক: সংবাদকর্মী

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়