শিরোনাম

প্রকাশিত : ৩০ নভেম্বর, ২০২২, ১২:৫৫ রাত
আপডেট : ৩০ নভেম্বর, ২০২২, ১২:৫৫ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

এসএসসির ফলাফল এবং মানুষের জীবন

শামীম আহমেদ

শামীম আহমেদ: এসএসসি পরীক্ষায় সফল পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানাই। সফলতার মাপকাঠি একেকজনের কাছে একেকরকম। যে যার নিক্তিতে সফল হয়েছে, সবাইকে শুভেচ্ছা। পরীক্ষায় ভালো ফল করার বিকল্প আছে, খারাপ করলেই জীবন ধ্বংস হয়ে যায় এমনটা নয়। তবে ভালো ফল করার সুবিধা অনেক। আমার কাছে পড়ালেখা বিষয়ে কেউ পরামর্শ চাইলে আমি বলি, আপনি যদি পরীক্ষায় ফার্স্ট হতে পারেন সবচেয়ে ভালো। পরীক্ষায় ফার্স্ট হওয়া খারাপ কোনো জিনিস নয়। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সাথে সাথে পশ্চিমায়নের প্রভাবে আমরা ইদানীং এমন একটা ভাব ধরি যে পরীক্ষায় ভালো করা খুব খারাপ ব্যাপার। তা তো না আসলে। আপনি যদি পরীক্ষায় ফার্স্ট হন, আপনার চলার পথ অনেক মসৃণ হবে, সফলতা সহজ হবে। তবে ফার্স্ট না হলেও সে সফলতা পাওয়া সম্ভব। সে ক্ষেত্রে আপনাকে আরও ১০টা বিষয়ে খুব ভালো হতে হবে। দুর্দান্ত ইংরেজি জানতে হবে, চমৎকার বাংলায় কথা বলতে হবে, উপস্থাপনার মঞ্চে দাপটের সাথে হেঁটে বেড়াতে হবে, যোগাযোগ দক্ষতায় অনন্য হতে হবে, সামাজিকতায় ঈর্ষণীয় হতে হবে, প্রয়োজনের চাইতে বেশি কাজ করে যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে। এমন নয় যে যারা ভালো করবে তাদের এইসব গুণাবলী থাকা লাগবে না, কিন্তু তাদের চাইতে আপনার এগুলোর প্রয়োজন হবে অনেক বেশি।  

যারা এসএসসিতে খুব ভালো করল, তাদের প্রথম ধাপটা মসৃণ হলো, তারা এখন সহজে ভাল কলেজে ভর্তি হতে পারবে, সেখানে উন্নত শিক্ষার প্রয়োজনীয় উপকরণ পাবে, নিজের মানের বা তার চাইতেও ভালো শিক্ষার্থীদের সাথে মিশে নিজেকে আরও শাণিত করতে পারবে, হয়ত এখন থেকে উচ্চ শিক্ষার্থে বড় স্বপ্নের বাস্তবায়ন করতে পারবে। যারা এসএসসিতে অতো ভালো করল না বা খারাপ করল, তাদের জীবনে কিছুই থেমে যায়নি। শুধু ওই মসৃণ পথে পৌঁছানোর জন্য তাদের আরও দুই বছর অপেক্ষা করতে হবে। এই দুই বছর মানসিক সুস্থতাকে গুরুত্ব দিয়ে নিয়মমাফিক পড়ালেখা করলে এইচএসসিতে তারা নিশ্চয় সফল হবে। অনেকের খারাপ ফলাফলের পেছনে অনেক কারণ থাকে, পড়ালেখা না করাটাই একমাত্র কারণ না। তারাও এইসব অচেনা বিপদ কাটিয়ে আবার ফিরে আসার সুযোগ দাবি করে। যারা ভালো ফলাফল করল তাদের সে পথে এগিয়ে যাবার জন্য, বিপথগামী না হবার জন্য এবং যারা অতো ভালো করল না, তাদের সাফল্যের পথে ফিরিয়ে আনার জন্য, ছিটকে না পড়ার জন্য অভিভাবক ও পারিপার্শিকতার ভূমিকা অনেক বেশি। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদেরও নিশ্চিত করা উচিৎ খুব বেশি ভালো ফলাফল না করা ছেলেমেয়েরা যাতে এমন মানুষের সান্নিধ্যে না আসে যারা তাদের সরাসরি বা আকারে-ইঙ্গিতে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে আরও কষ্ট দেয়। জীবনে বেঁচে থাকার জন্য অসংখ্য মানুষের প্রয়োজন নেই, বিরাট সার্কেলেরও দরকার নেই। 

খুব কাছের, নির্ভর করা যায় এমন ৫-৭ জন মানুষ এক জীবনে যথেষ্ট। যারা ভাল করল না, আগামী দুবছর তারা এই সঙ্গ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অনেকের চাইতে এগিয়ে যাবার সুযোগটা নিতে পারে। জীবন থেকে ‘অহেতুক যাতনা’র উপদ্রবকারী মানুষকে ছেঁটে ফেলার এটি একটি অনন্য সুযোগ। আমরা বাংলায় একটা কথা প্রায় বলি '‘লেগে থাকা’। এই লেগে থাকা মানে সারাক্ষণ ‘বসিং’ করা না আসলে। এই লেগে থাকা হচ্ছে প্রিয়জনের ব্যর্থতার সময় তার পাশে থাকা। সফলতার সময় সঙ্গীর অভাব হয় না, দরকার হয় ব্যর্থতার সময়। ব্যর্থতা এক সময় কেটে যায়। কারও দুই বছরে, কারও পাঁচ, কারওবা দশ বছরে। কিন্তু ওই দু:সময়ে কে পাশে ছিলো, কে ছিলো না সেটা মনে থাকে আজীবন। আরেকটা কথা- সফলতা ভাল, কিন্তু তার চাইতেও ভাল সুখ, আর সুখের চাইতেও ভাল শান্তি। আপনার সন্তানের পাশে থাকুন। আপনার পরিবারের পাশে থাকুন। আপনার বন্ধুর পাশে থাকুন। একদিন সে ঘুরে দাঁড়াবে। সেই ঘুরে দাঁড়াবার পথের সঙ্গী হবেন আপনিও। সবাইকে ভালোবাসা। লেখক: জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়