শিরোনাম
◈ প্রবল বাতাস ৫০ ফুট উঁচুতে উড়িয়ে নিয়ে গেল টিনের চালাসহ এক ব্যক্তিকে, ভাঙল হাত-পা (ভিডিও) ◈ উপদেষ্টার কর্মকাণ্ডে উদ্বিগ্ন হয়ে ২০২৪ সালেই প্রশ্ন তুলেছিলাম: তাসনিম জারা ◈ সব ধরনের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ◈ মোদি কেন ভারতীয়দের এক বছর সোনা না কেনার আহ্বান জানালেন? ◈ বিশ্বকাপ দেখতে ফুটবল সমর্থকদের জন্য ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিল যুক্তরাষ্ট্র ◈ কারা কিভাবে পাবেন সবার আগে প্রবাসী কার্ড, যেসব সুবিধা থাকবে ◈ ‘গুলিতে স্ত্রী নিহত’ মামলা ভুয়া, তদন্তে বাদীর স্বীকারোক্তি, শেখ হাসিনাসহ ৮৪ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ ◈ দেশের বাজারে আবারও কমলো স্বর্ণের দাম ◈ অনলাইন জুয়ার ভয়ংকর ফাঁদ ◈ ইংল্যান্ড জাতীয় দ‌লের নির্বাচক হলেন অস্ট্রেলিয়ান মার্কাস নর্থ

প্রকাশিত : ১৫ মে, ২০২৬, ১১:৩১ দুপুর
আপডেট : ১৫ মে, ২০২৬, ১২:২৫ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

‘হত্যার ঘটনাই ঘটেনি’: পুলিশের প্রতিবেদন

‘গুলিতে স্ত্রী নিহত’ মামলা ভুয়া, তদন্তে বাদীর স্বীকারোক্তি, শেখ হাসিনাসহ ৮৪ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ

জুলাই আন্দোলনের ঢাকার মোহাম্মদপুরে গুলিতে স্ত্রী নিহত হওয়ার দাবি করে শেখ হাসিনাসহ ৮৪ জনকে আসামি করে মামলা করেছিলেন মো. সুমন নামে একজন। যদিও তদন্তে নেমে পুলিশ বলছে, সে রকম হত্যার কোনো ঘটনা ঘটেইনি।

আর ফাতেমা নামে সেই নারীর সঙ্গে বাদীর কোনো সম্পর্কও নেই। কেউ কাউকে চেনেন না। অনলাইন নিউজ পোর্টাল বিডিনিউজ২৪-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট গুলিতে স্ত্রী নিহতের বর্ণনা দিয়ে পরের বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি আদালতে মামলা করেন সুমন। গত ২৭ এপ্রিল এ ব্যাপারে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার এসআই শাহাদাত হোসেন।

প্রতিবেদনে মামলার সব আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছেন তিনি।

পুলিশ বলছে, ‘কিছু মানুষের প্ররোচনায় ও আর্থিক প্রলোভনে’ সুমন মামলা করেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ করে উল্টো সুমনের বিরুদ্ধে মামলার প্রার্থনা করা হয়েছে।

সুমনের করা মামলায় আসামি করা হয়– শেখ হাসিনা সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক হারুন-অর-রশীদ, সাবেক অতিরিক্ত যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার বিশ্বাসসহ ৮৪ জনকে।

মামলার তদন্তে নেমে এজাহারে নাম থাকা ছয়জনকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি আরো একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন– কামরুল ইসলাম, এ টি নিজাম উদ্দিন, রফিকুল ইসলাম, রাসেল মিয়া, সৈকত ইসলাম কামরুল ও আব্দুল মুকিত মজুমদার। বিল্লাল ওরফে ভাতিজা বিল্লাল নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে।

বিল্লাল জামিনে থাকলেও গ্রেপ্তার আসামিরা কারাগারে রয়েছেন। তাকেসহ ৮৫ জনকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

গত ১১ মে মামলার শুনানির দিন ধার্য ছিল। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম আগামী ২৪ জুন শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য রেখেছেন বলে পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মিজানুর রহমান জানিয়েছেন।

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শাহাদাত হোসেন বলেন, আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছি। তদন্তে যা পেয়েছি সেটাই ফাইনাল রিপোর্টে উল্লেখ করেছি। এর বেশি কিছু বলতে অনীহা প্রকাশ করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

বিডিনিউজ২৪-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী সুমনকে মামলাসংক্রান্ত বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার কাছ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র চাইলেও তিনি দিতে পারেননি। ফাতেমাকে আশুলিয়ার ইয়ারপুর কবরস্থানে দাফনের কথা এজাহারে লেখেন তিনি।

তবে সেখানে গিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পারে, কবরস্থানটি সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। যে কেউ চাইলেই সেখানে দাফন করতে পারে না। হত্যা, আত্মহত্যার লাশ সেখানে দাফন করা হয় না। সমাজভুক্ত না হলে সেখানে দাফনের সুযোগ নেই। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত কোনো ব্যক্তির লাশও সেখানে দাফন করা হয়নি বলে জানায় কবরস্থান কর্তৃপক্ষ।

তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে বলেন, ফাতেমাকে হাসপাতালে ভর্তির কোনো কাগজপত্র সরবরাহ করেননি সুমন। তার সঙ্গে বারবার মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি সাড়া দেননি। সুমনের দেওয়া ঠিকানায় গিয়েও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়া মোহাম্মদপুর এলাকায় আন্দোলনে ২৩ জন নিহত হলেও কোনো নারী নিহতের তথ্য নেই। সুমন ফাতেমার মৃত্যুসংক্রান্ত বিষয়ে কোনো সনদও সরবরাহ করতে পারেননি।

বাদী সুমনকে মামলাসংক্রান্ত জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে স্বীকার করেন, তিনি ফাতেমাকে চেনেন না। ওই নামে কেউ নিহত হয়েছে বলেও তিনি জানেন না।

সুমন পুলিশকে বলেন, কিছু ব্যক্তির প্ররোচনায় ও আর্থিক প্রলোভনে তিনি মামলা করেন। তবে নিজে জানতেনও কার বিরুদ্ধে কী মামলা করছেন।

প্রলোভনে পড়ে মামলার বিষয়টি বুঝতে পারলে সুমন সেসব ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তবে তারা সুমনকে বলেন, এখন পিছিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এরপর সুমন ভীত হয়ে আত্মগোপনে চলে যান। মামলার বিষয়ে আগ্রহ হারান। পরে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পুলিশ সুমনকে পায়নি।

‘মিথ্যা মামলার’ বিষয়টি তদন্তে উঠে আসায় আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ করেন তদন্ত কর্মকর্তা। সেই সঙ্গে বাদীর সুমনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদনও করেছেন।

মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার বিল্লালের আইনজীবী মোস্তফা আল মামুন বলেন, এমন মামলা ভূরি ভূরি হচ্ছে। যে সরকার ক্ষমতায় আসে, তারাই বিরোধীদের সঙ্গে এমনটা করে। আমরা এমনটা চাই না। অযথা আর কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন। এমন মামলার উদ্ভব যেন আর না হয়, সেই প্রত্যাশা থাকবে।

এ বিষয়ে মামলার বাদী সুমনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের জন্য তার মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিয়ে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়