মহসিন কবির: প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত প্রতিনিয়ত প্রশংসিত হচ্ছে। এক এক পদক্ষেপ বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ। কিছু সিদ্ধান্তে দ্বিমত থাকলেও এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। আর কয়েকদিন পরই সরকারের সিদ্ধান্তের সুফল পাবে জনগণ।
প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর ও স্বদেশে প্রত্যাবর্তনকালে বিমানবন্দরে অনুসরণীয় রাষ্ট্রাচারে পরিবর্তন আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি ও রাষ্ট্রীয় সফরে বিদেশযাত্রা এবং স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকবেন নির্দিষ্ট কয়েকজন উচ্চপদস্থ ব্যক্তি। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উপস্থিত থাকবেন মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠতম একজন মন্ত্রী, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ চারজন কর্মকর্তাই এখন থেকে প্রধানমন্ত্রীর সফরকালীন বিদায় ও স্বাগত জানানোর আনুষ্ঠানিক প্রটোকলে অংশ নেবেন। এ পরিবর্তনের মাধ্যমে পূর্ববর্তী বিস্তৃত প্রটোকল ব্যবস্থা সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এর আগে প্রচলিত প্রটোকল অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর বিদেশযাত্রা ও দেশে প্রত্যাবর্তনের সময় বিমানবন্দরে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা উপস্থিত থাকতেন। এছাড়া সামরিক ও অসামরিক বাহিনীর প্রধানগণ- যেমন সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধানসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারাও সেখানে উপস্থিত থাকতেন।
পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বিদায়ী ও স্বাগত অনুষ্ঠানে অংশ নিতেন। এতে করে বিমানবন্দরে একটি বড় সরকারি প্রতিনিধি দল উপস্থিত থাকত।
তবে নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে এ প্রটোকল সীমিত করা হয়েছে। এখন থেকে নির্ধারিত চারজন কর্মকর্তাই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর সফরকালীন বিদায় ও অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে এ নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। নতুন এ রাষ্ট্রাচার অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও জানানো হয়েছে।
সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা কিছুটা সংক্ষিপ্ত ও সীমিত আকারে পরিচালিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী দেশের সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় জাঁকজমকপূর্ণ ইফতার মাহফিল এড়িয়ে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এবার এতিম ও আলেম-উলামা এবং কূটনীতিকদের সম্মানে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় দু’টি ইফতার মাহফিলে থাকবেন তিনি।
আজ (বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ) তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ কথা জানান। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী দেশের সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে ৬ মার্চ শুক্রবার কূটনীতিকদের সম্মানে একটি এবং ৭ মার্চ এতিম ও আলেম-উলামাদের সম্মানে আরেকটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করছেন প্রধানমন্ত্রী। এই দুই ইফতার মাহফিল যমুনায় অনুষ্ঠিত হবে।
আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের আসন্ন প্রথম অধিবেশনকে সামনে রেখে দলীয় সংসদ সদস্য বিশেষ করে প্রথমবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং প্রথমবারের মতো হওয়া মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। সংসদীয় কার্যক্রম, বিল-বাজেট, স্থায়ী কমিটির কাজসহ বিভিন্ন বিষয়ে ধারণা দিতে তাদের জন্য দু-দিনের এই কর্মশালার আয়োজন করেছে দলটি।
অভিজ্ঞ সাবেক আমলা, একাডেমিশিয়ান ও সাবেক সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে এমপিদের দায়িত্ব, মন্ত্রিসভার সদস্যদের সংসদীয় রেওয়াজ ও মন্ত্রণালয় পরিচালনায় দক্ষ করে তুলতে কৌশলগত ভূমিকা কেমন হবে, তা তুলে ধরা হবে এই কর্মশালায়। কর্মশালাটি শুক্র ও শনিবার (৬-৭ মার্চ) অনুষ্ঠিত হবে।
বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে সচিবালয়ে নিজের কক্ষের অর্ধেক লাইট ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে সবাইকে মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ে এসে এ উদ্যোগ নেন।
তিনি বলেন, ‘সকাল ৯টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে আসেন। তিনি অফিসে এসে নিজের কক্ষের ৫০ শতাংশ লাইটের সুইচ অফ করে দেন এবং এসির মাত্রা ২৫ দশমিক ১-এ নামিয়ে আনেন। এই মাত্রা নিলে বিদ্যুৎ খরচ কম হয়।’
বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সব সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থাকে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে সরকার
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) এ-সংক্রান্ত জরুরি পরিপত্র জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এতে স্বাক্ষর করেছেন উপসচিব তানিয়া আফরোজ।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, বৈশ্বিক এই পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাশ্রয়ী ও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
দলের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী, সরকার ও দলের কার্যক্রম সমন্বয় রেখে সংসদীয় কৌশল ও করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে বৈঠকে বসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজধানীর গুলশানে চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দুদিনের কর্মসূচির মধ্যে আগামীকাল শুক্রবার মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করবেন তারেক রহামান। পরের দিন শনিবার সংসদ সদস্যদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে দলীয় প্রধান হিসেবে তারেক রহমান মন্ত্রীদের সরাসরি দিকনির্দেশনা দেবেন। পরের দিন এমপিদের বৈঠকে দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রীর বার্তা পৌঁছে দেবেন তার উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহসহ সিনিয়র নেতারা। বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর ও ময়মনসিংহ-১০ আসনের সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান বাচ্চু।
বিএনপি সূত্র জানা গেছে, মূলত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন সামনে রেখে নিজেদের সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের সংসদীয় রেওয়াজ পালন ও মন্ত্রণালয় পরিচালনায় দক্ষতা বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। রাষ্ট্রপতি
মো. সাহাবুদ্দিন আগামী ১২ মার্চ বেলা ১১টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন। এই অধিবেশন কেন্দ্র করেই মূলত নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও মন্ত্রীদের জন্য এই নিবিড় প্রশিক্ষণব্যবস্থার উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি।
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, গুলশান কার্যালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন। তবে এমপিদের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী থাকছেন না। শুক্র ও শনিবার দুই দিনে চারটি সেশন রয়েছে।
জনগণের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ‘ই-হেলথ’ কার্ড চালুর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে স্বাস্থ্য মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন।
বৈঠক শেষে তার অতিরিক্তি প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য সাংবাদিকদের জানান।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ই-হেলথ কার্ড চালু করার কাজ শুরু করতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে যথাযথ নির্দেশনা দিয়েছেন। সরকারের নীতি হচ্ছে স্বাস্থ্য সেবা জনগনের দ্বারগোড়ায় পৌঁছাতে হবে। এইব্যাপারে মন্ত্রণালয়কে আরও সক্রিয় হওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রী বলেছেন। বৈঠকে সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার পরিত্যক্ত ভবনসমসূহ চিহ্নিত করে সেগুলোকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এসে স্বাস্থ্য কেন্দ্র করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ জানিয়েছেন, পয়লা বৈশাখের মধ্যে কৃষক কার্ড কার্যক্রম শুরু করা হবে। তবে এটি প্রাথমিকভাবে পাইলট আকারে ৮ থেকে ৯টি উপজেলায় চালু হবে। বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মিটিং হয়েছে। আমরা যারা ওই কমিটিতে ছিলাম, আমরা আশা করছি যে, ইনশাআল্লাহ পয়লা বৈশাখের মধ্যে আমরা শুরু করতে পারব। আশা করি পয়লা বৈশাখের মধ্যে আমরা শুরু করার চিন্তা করছি এবং আশা করি পারব।’
একটি কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা কী ধরনের সুবিধা পাবেন—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যারা প্রান্তিক কৃষক আছে, একেবারে প্রান্তিক কৃষক; তাদেরকে কিছু বেনিফিট দেব ফ্যামিলি কার্ডের মতো। আর পরে একচুয়ালি আমাদের এই কার্ডের মূল উদ্দেশ্য যেটা আছে সেটা হলো উৎপাদন, ভোক্তা, কৃষি জমি, কৃষির পণ্য, ভ্যারাইটি—সবকিছু যেন নিয়মতান্ত্রিকভাবে কৃষক পেতে পারে এবং গভর্মেন্টের কাছে যেন সমস্ত তথ্য সঠিকভাবে আসতে পারে।’বিনামূল্যে সার-বীজের কথা বলা হয়েছিল। বিনামূল্যে সার-বীজ কি পাবে কৃষকরা-এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিনামূল্যে সার বোধহয় প্রান্তিক কৃষকদের ব্যাপারে বা একেবারে গরিব কৃষকদের প্রশ্নে বোধহয় ছিল। এটা নিয়ে আজকে আমাদের আলোচনা হয়নি।’
সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত বাধ্যতামূলকভাবে নিজ নিজ অফিসে অবস্থানের নির্দেশ দিয়ে পরিপত্র জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
গতকাল সোমবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
পরিপত্র থেকে জানা যায়, কিছু ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিসে আসার পথে দাপ্তরিক বা ব্যক্তিগত বিভিন্ন কাজে (যেমন: সেমিনার, কর্মশালা, সিম্পোজিয়াম প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে অতিথি বক্তা হিসেবে অংশগ্রহণ কিংবা ব্যাংক, হাসপাতাল ও বিদ্যালয়ে যাওয়া) ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এর ফলে তারা নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত থাকেন না।
এই অবস্থায় জনসেবা নিশ্চিত ও দাপ্তরিক কাজে গতি আনতে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত অবশ্যই নিজ অফিস কক্ষে থাকতে হবে। দাপ্তরিক অন্যান্য কর্মসূচিও এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে এই সময়টুকু বিঘ্নিত না হয়।
পরিপত্রে আরও জানানো হয়, ‘সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯’ এবং ‘সচিবালয় নির্দেশমালা, ২০২৪’ অনুযায়ী সকল সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্ধারিত সময়ে অফিসে আসা ও যাওয়া বাধ্যতামূলক।
১০ মার্চ রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে এমন তথ্য জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ বি এম জাহিদ হোসেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রীর ১০ মার্চ বগুড়ায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বগুড়া-৬ (সদর) আসনের আসন্ন উপনির্বাচনের কারণে তার বগুড়া সফর স্থগিত করা হয়েছে।
বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান জানান, ১০ মার্চের কর্মসূচিটি স্থগিত করা হয়েছে এবং পরে নতুন তারিখ ঘোষণা করা হবে। জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের বলেন, বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন চলায় ভোটের আগে প্রধানমন্ত্রী কোনো কর্মসূচি রাখেননি।
রাজধানীতে নারীদের নিরাপদে যাতায়াতের কথা চিন্তা করে আগামী ৬ মাসের মধ্যে ইলেকট্রিক বাস নামানোর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে বুয়েট অধ্যাপক ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. এম শামসুল হক সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
ড. এম শামসুল হক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জনগণের জন্য জনবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে-এই বিষয়গুলো নিয়ে তার সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টা আলোচনা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী খুব আহত হন যখন নারীরা নিরাপদ গণপরিবহন পান না। এজন্য আগামী ৬ মাসের মধ্যে নারীদের জন্য ইলেকট্রিক বাস নামানো কথা জানিয়েছেন এবং যার চালকও হবে নারীরা।’
বুয়েটের অধ্যাপক আরও জানিয়েছেন, ‘জনগণের জন্য সর্বোৎকৃষ্ট মাধ্যম মেট্রোরেল। এ ছাড়া মনোরেল করার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী, যা অনেক সাশ্রয়ী এবং দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায়। দ্রুতগতির রেলভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।’
নতুন সরকার নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের প্রথম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে দেশের প্রায় ১২ লাখ কৃষক মোট এক হাজার ৫৫০ কোটি টাকার ঋণভার থেকে মুক্তি পাবেন।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, কৃষকদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কৃষি খাতকে চাঙ্গা করতে সরকার এই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যেসব কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ বকেয়া রয়েছে, তাদের আসলের পাশাপাশি সুদও মওকুফ করা হবে। এতে করে প্রান্তিক পর্যায়ের ১২ লাখ কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গঠন’ বিষয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার বেলা ৩টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সভাকক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষাব্যবস্থাকে আনন্দমুখর ও কর্মমুখী করে গড়ে তোলা, কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ সুবিধা সম্প্রসারণের বিষয়ে সভা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।