নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে বসছে জাতীয় পে কমিশন। আজ সোমবার (২৪ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় জাতীয় বেতন কমিশনের সম্মেলন কক্ষে এই বৈঠক শুরু হবে।
কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পর্যালোচনা করে নতুন সুপারিশ প্রণয়নের অংশ হিসেবেই এই বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করবেন জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫-এর সভাপতি জাকির আহমেদ খান।
সচিবদের এই বৈঠককে ঘিরে কর্মচারীদের মাঝে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। তাদের ধারণা, পে কমিশন ইতোমধ্যে যে খসড়া তৈরি করেছে, সেটিই সচিবদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তি হবে। সচিবদের ইতিবাচক মতামত মিললে দ্রুতই সুপারিশ চূড়ান্ত করে কমিশন প্রতিবেদন জমা দিতে পারবে বলে মনে করছেন তারা। শেষ মুহূর্তের এই বৈঠককে কর্মচারী নেতারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
কমিশনের সূত্রগুলো জানায়, নতুন পে স্কেলের সুপারিশ খসড়ার কাজ অর্ধেকের বেশি এগিয়েছে। এর আগে বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনের মতামত নেওয়া হয়েছিল এবং সেগুলো বিশ্লেষণ করে খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। নতুন বেতন কাঠামো কী রূপ পেতে পারে, কবে থেকে কার্যকর হতে পারে এবং কী ধরনের আর্থিক কাঠামো দরকার হবে—এসব নিয়েই সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হবে। পাশাপাশি নতুন সুবিধা-অসুবিধা নিয়েও সচিবদের মতামত নেওয়া হবে।
কমিশনের এক সদস্য একটি গণমাধ্যমকে জানান, কর্মচারীদের প্রস্তাব বিশ্লেষণের পাশাপাশি বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিবেদনও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে এনবিআর সংস্কারের কার্যক্রম বিবেচনায় রাখা হয়েছে। কারণ নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে যে অতিরিক্ত বাজেট প্রয়োজন হবে, তার বড় অংশই আয়কর থেকে জোগাড়ের পরিকল্পনা রয়েছে। তাই সুপারিশ চূড়ান্ত করার আগে অর্থের উৎসও গুরুত্বের সঙ্গে ভাবা হচ্ছে।
এদিকে, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সুপারিশ চূড়ান্ত করে জমা দিতে কমিশনকে আল্টিমেটাম দিয়েছেন সরকারি কর্মচারী নেতারা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুপারিশ না জমা দিলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে আগামী ৫ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশের ঘোষণাও দিয়েছেন কর্মচারীরা।