শিরোনাম
◈ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে যা চাইলেন ব্যবসায়ীরা ◈ চীনের আক্রমণের ভয়ে তাইওয়ান ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন অনেকে ◈ দলীয় নেতাকর্মীদের চাঙা করার চেষ্টা করছে বিএনপি ◈ নারী এশিয়ান কাপে চীনের কাছে ২-০ গো‌লে হারলো বাংলাদেশ ◈ ফুটবল ম্যাচ শুরুর আগেই সমর্থকের রহস্যময় মৃত্যু, আহত ৪৭ ◈ এলাকায় মাইকিং— ‘সাউন্ডবক্স বাজালে কবরস্থানে দাফন করতে দেওয়া হবে না’ (ভিডিও) ◈ কোচিং সেন্টার শতভাগ বন্ধ করতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী ◈ ড. ইউনূসকে মুখ খুলতে হবে, অর্জন ধরে রাখতে সব উপদেষ্টাদের মাঠে নামতে হবে: নাহিদ ইসলাম ◈ জুলাই সনদের সাথে গণভোট বাতিল হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই : আইনমন্ত্রী ◈ দলীয় পদ ছাড়লেন জোনায়েদ সাকি

প্রকাশিত : ১১ মার্চ, ২০২৬, ০২:০৮ রাত
আপডেট : ০৪ এপ্রিল, ২০২৬, ০৩:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

নতুন নোট বেশি দামে বিক্রি কি শরিয়তসম্মত?

সমাজে ঈদ, বিবাহ, পুরস্কার বা বিভিন্ন আনন্দঘন উপলক্ষে নতুন নোটের বিশেষ কদর দেখা যায়। এ কারণে অনেক সময় মানুষ ব্যাংক বা বাজার থেকে নতুন নোট সংগ্রহ করে এবং কেউ কেউ তা অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রয় করে। যেমন- ১০০০ টাকার নতুন নোট ১০৫০ বা ১১০০ টাকায় বিক্রি করা হয়। এই বিষয়টি শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ কি না? এ প্রশ্ন অনেকের মনে জাগে। ইসলামী শরিয়তের মূলনীতি ও কোরআন-হাদিসের আলোকে এর বিধান জানা প্রয়োজন।

টাকা ও মুদ্রার শরয়ি অবস্থান: ইসলামে টাকা মূলত একটি মাধ্যম। অর্থাৎ এটি পণ্য নয়, বরং পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের একটি উপায়। ইসলামী ফিকহে টাকা বা মুদ্রাকে রিবাভুক্ত বস্তু হিসেবে গণ্য করা হয়। অর্থাৎ এক ধরনের মুদ্রার সাথে একই ধরনের মুদ্রা বিনিময় করতে হলে তা সমপরিমাণ এবং তাত্ক্ষণিক হতে হবে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ, রৌপ্যের বিনিময়ে রৌপ্য সমপরিমাণে ও হাতে হাতে বিনিময় করতে হবে। যে বেশি নেবে বা বেশি দেবে সে সুদে লিপ্ত হবে।' (সহিহ মুসলিম)

এই হাদিসে মূলনীতি দেওয়া হয়েছে- যদি একই ধরনের মুদ্রা বা রিবাভুক্ত বস্তু বিনিময় করা হয়, তাহলে তা সমান পরিমাণে হতে হবে।

নতুন নোট বেশি দামে বিক্রির বিধান: এখন প্রশ্ন হলো- যদি কেউ নতুন নোট বেশি দামে বিক্রি করে, যেমন ১০০০ টাকার নতুন নোট ১০৫০ টাকায় বিক্রি করে, তাহলে এর বিধান কী? ইসলামী ফিকহের অধিকাংশ আলেমের মতে, এটি সুদের অন্তর্ভুক্ত। কারণ এখানে একই মুদ্রা বিনিময় হচ্ছে কিন্তু পরিমাণে পার্থক্য রাখা হচ্ছে। অর্থাৎ ১০০০ টাকার বিপরীতে ১০৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে, যা রিবার শামিল।

হাদিসে এসেছে- যে ব্যক্তি স্বর্ণ বা রৌপ্যের বিনিময়ে অতিরিক্ত গ্রহণ করে, সে সুদ গ্রহণ করে।' (সহিহ মুসলিম)

বর্তমান যুগে কাগজের নোটও স্বর্ণ-রৌপ্যের মতোই মুদ্রা হিসেবে গণ্য হয়। তাই একই নোট বেশি দামে বিক্রি করা শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ নয়। কেন না এটি সুদের অন্তর্ভুক্ত।

নতুন নোট বিক্রির ক্ষেত্রে মূলত দুটি বিষয় ঘটে

১. একই মুদ্রা বিনিময় করা হচ্ছে। ২. কিন্তু সমপরিমাণ নয়। এই দুই কারণে এটি সুদের অন্তর্ভুক্ত হয়। ইসলামে সুদ একটি বড় গুনাহ। কোরআনে আল্লাহ তাআলা কঠোরভাবে সুদকে নিষদ্ধি করেছেন। আল্লাহ বলেন- হে মুমিনরা! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সুদের যা বাকি আছে তা ছেড়ে দাও, যদি তোমরা মুমিন হও।' (সুরা বাকারা, আয়াত : ২৭৮) এই আয়াত সুদের ভয়াবহতা ও কঠোর নিষেধাজ্ঞা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে।

অনেক সমসাময়িক ইসলামী ফিকহবিদ ও মুফতিরা বলেছেন- নতুন নোটের প্রতি মানুষের আগ্রহ থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু এর কারণে অতিরিক্ত মূল্য নেওয়া শরিয়তসম্মত নয়। কারণ টাকা দিয়ে টাকা বিনিময় করলে সমান হতে হবে। তবে কেউ যদি ব্যাংক থেকে সংগ্রহ করে বিনা মূল্যে বা সমান মূল্যে দেয়, তাহলে এতে কোনো সমস্যা নেই। আবার কেউ যদি অন্য কোনো পণ্য বা সেবার সাথে নোট দেয়, সেটি আলাদা বিষয় হতে পারে।

বিকল্প বৈধ পদ্ধতি

নতুন নোট সংগ্রহের ক্ষেত্রে শরিয়তসম্মত কিছু পদ্ধতি আছে-

১. সমপরিমাণে বিনিময় করা : যেমন- ১০০০ টাকার নতুন নোটের বদলে ১০০০ টাকার পুরনো নোট দেওয়া।

২. ব্যাংক থেকে সংগ্রহ করা : ব্যাংকগুলো সাধারণত ঈদের সময় নতুন নোট বিতরণ করে।

৩. উপহার হিসেবে দেওয়া : কেউ যদি ভালোবাসা বা সৌজন্যবশত নতুন নোট উপহার দেয়, তাহলে তা বৈধ।

সামাজিক দৃষ্টিকোণ: নতুন নোটের ব্যবসা অনেক সময় কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে। কিছু মানুষ ব্যাংক থেকে প্রচুর নতুন নোট সংগ্রহ করে পরে তা বেশি দামে বিক্রি করে। এতে সাধারণ মানুষ কষ্টে পড়ে এবং অর্থনৈতিক অন্যায় সৃষ্টি হয়। ইসলাম এমন সব কাজ থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছে যা সমাজে অন্যায় বা কষ্ট সৃষ্টি করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- যে ব্যক্তি প্রতারণা করে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।' (সহিহ মুসলিম)

অতএব, মানুষের চাহিদাকে পুঁজি করে অন্যায়ভাবে লাভ করা ইসলামের দৃষ্টিতে নিন্দনীয়।

নতুন নোটের প্রয়োজন হলে তা সমান মূল্যে বিনিময় করা অথবা ব্যাংক থেকে সংগ্রহ করা উত্তম। ইসলামের শিক্ষা হলো- অন্যায় লাভ থেকে বিরত থাকা এবং হালাল উপার্জনের পথে চলা। এভাবেই ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ই কল্যাণ লাভ করতে পারে। উৎস: নিউজ২৪

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়