এম এইচ বাচ্চু : দেশের কয়েক জেলায় মাজারে হামলা ঘটনা ঘটেছে। দুষ্কৃতকারীরা ভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে এ হামলা চালিয়েছে। মাজার ভাংচুরের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনতে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে অন্তর্র্বতী সরকার। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এমটাই জানানো হয়েছে। সম্প্রতি ঢাকা, সিরাজগঞ্জ, গাজীপুর, নোয়াখালী, সিলেট, শরীয়তপুরসহ আরও কয়েক জেলায় এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। কি উদ্দেশ্যে মাজারে হামলা চালানো হয়েছে এখনো জানা যায়নি। তবে জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে মাজারে হামলার ব্যাপারে ভিন্ন মত রয়েছে।
রাজধানীর গুলিস্তানের গোলাপ শাহ মাজারে আজ বুধবার হামলা হতে পারে, এমন আশঙ্কায় গতকাল মঙ্গলবার বিকেল থেকে সেখানে কয়েক শ ভক্ত অবস্থান নেন। একই সঙ্গে তাঁরা সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন মাজারে হামলা ও ভাঙচুরের প্রতিবাদ জানান।
মাজারে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বিচার দাবি করেছেন দেশের ৪৬ নাগরিক। হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তারা বলেছেন, “গত কয়েকদিনে দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘোষণা দিয়ে সংগঠিত হয়ে মাজারসহ আধ্যাত্মিক স্থাপনায় হামলা হচ্ছে। মাজারে হামলার কোনো ঘটনায়ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়নি। তাদের এই নিষ্ক্রিয়তা সমাজের গভীরের ক্ষতকে বিস্তৃত করবে। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ভেতর বিভাজন আরও বাড়াবে। যা আগের মত অগণতান্ত্রিক শক্তির হাতে বাংলাদেশকে ছেড়ে দেওয়ার ক্ষেত্র তৈরি করবে।
মাজার ভাঙ্গা নিয়ে যে ধরনের ক্যাম্পেইন চলছে, সেটিকে অন্যায় মনে করছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। এই সংস্থার হালাল সনদ বিভাগের উপপরিচালক মো. আবু সালেহ পাটোয়ারীর সাথে এ নিয়ে বিবিসি বাংলার কথা হয়। তিনি জানান, মাজার শব্দের অর্থ জিয়ারতের স্থান।
“কিন্তু আমাদের দেশে মাজার বলতে বোঝা যায়, যেখানে পীর-বুজুর্গর কবর। সেটিকে পাকা-টাকা করে অনেকে ওভাবে রাখছে। মানুষ সেখানে জিয়ারতের জন্য যায়।”তবে ইসলামের মৌলিক বিধান অনুযায়ী কবরের পর সেটিকে পাকা করে “গম্বুজ করা বৈধ না, শরিয়তে অনুমতি নাই, কিন্তু আমাদের দেশে অনেকে করে এগুলা,” বলছিলেন তিনি। এখন, ইসলামে বৈধ না বলে কেউ ওইসব স্থাপনার ওপর আক্রমণ করতে পারে না বলেও তিনি জানান।
মাজার ও অন্যান্য ধর্মীয় স্থাপনায় হামলাকারী ব্যক্তিরা ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পরাজিত ফ্যাসিস্ট সরকারের মতোই আচরণ করছেন। কোনো বিবেকবান মানুষ এমন অপরাধ ও অন্যায়কে সমর্থন করেন না। অবিলম্বে হামলাকারী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা এ দাবি জানান। সারা দেশে মাজার ও ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার প্রতিবাদে ও বাংলাদেশে বিদ্যমান ধর্মীয় বহুত্ববাদের প্রতি সংহতি জানিয়ে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে একতার বাংলাদেশ নামের একটি সংগঠন।
রাজশাহী মহানগরীর নওদাপাড়ায় অবস্থিত আল মারকাজুল ইসলামি আস সালাফি মাদ্রাসা পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, “মাজার ভাঙ্গা হোক, মসজিদ ভাঙ্গা হোক, মন্দির ভাঙ্গা হোক; এগুলো গর্হিত কাজ। যেগুলো যেভাবে আছে, সেগুলো সেভাবে থাকা দরকার।
মসজিদ-মাদ্রাসা-মাজারে হামলার বিচারসহ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আতের ৯ দাবি জানিয়েছে। শনিবার (৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তরা বলেন, দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এ উগ্রবাদী হামলা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্তপূর্বক দোষীদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।
দেশব্à¦