শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৭ অক্টোবর, ২০২২, ০৪:৩৯ দুপুর
আপডেট : ০৭ অক্টোবর, ২০২২, ০৫:১২ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ভারতে গরু পাচার মামলায় তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের নামে চার্জশিট

রাশিদুল ইসলাম: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের ডাকসাইটে নেতা অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিল দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে রাজ্যের আসানসোল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় সিবিআই। অনুব্রতকে গ্রেপ্তারের ৫৭ দিনের মাথায় গরু পাচার মামলায় ৩৫ পাতার অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। গত ১১ আগস্ট অনুব্রত মণ্ডল তার বীরভূমের বাসভবন থেকে সিবিআইর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। অনুব্রত মণ্ডলের ১৮ কোটি টাকার ফিক্সড ডিপোজিটের উল্লেখ করা হয়েছে সিবিআই চার্জশিটে। এছাড়াও তার ৫৩টি দলিল থাকার কথাও সিবিআই উল্লেখ করেছে চার্জশিটে। অনুব্রত মণ্ডলের নামে থাকা একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত বিবরণও পেশ করা হয়েছে আসানসোল আদালতে।

চার্জশিটে দুর্নীতি দমন আইনের একাধিক ধারার উল্লেখ রয়েছে। অনুব্রত মণ্ডলের নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির হদিশ মিলেছে। অভিযোগ, গরু পাচারের টাকাতেই এই সম্পত্তির পাহাড় গড়েছেন কেষ্ট মণ্ডল। বর্তমানে আসানসোল সংশোধনাগারে রয়েছেন বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ এই তৃণমূল নেতা।

এর আগে গরু পাচার মামলায় তিনটি চার্জশিট জমা পড়েছিল। এবার চতুর্থ চার্জশিট জমা পড়ল এই মামলায়। প্রায় ১০০ জন সাক্ষীর বয়ানের উপর ভিত্তি করে বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের নামে এই চার্জশিট দিয়েছে সিবিআই। পাশাপাশি কলকাতা ও বীরভূমে অনুব্রতর প্রয়াত স্ত্রী ছবি মণ্ডল ও কন্যা সুকন্যা মণ্ডলের নামে একাধিক সম্পত্তির বিষয়ে তদন্ত করছে সিবিআই।

অনুব্রত-ঘনিষ্ঠদের নামে একাধিক চালকলেরও সন্ধান পেয়েছেন তদন্তকারীরা। তবে অনুব্রত মণ্ডল দাবি করেছেন, তার নামে কোনো বেনামি সম্পত্তি নেই।

ভারতের কেন্দ্রীয় একাধিক তদন্ত সংস্থার তৎপরতার পর থেকে এ পর্যন্ত একাধিক তৃণমূল মন্ত্রী ও নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন। শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগে আর একটি কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ইডি বা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট গত ২২ জুলাই তৃণমূলের সাবেক মন্ত্রী ও দলটির মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে তার বেহালার বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে।

একই সময় গ্রেপ্তার হন অর্পিতা মুখার্জিও। অর্পিতাও আলিপুর মহিলা কারাগারে বন্দী রয়েছেন। বারবার তারা জামিনের আবেদন করলেও আদালত তা খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে পার্থ, অর্পিতাসহ কারাগারে বন্দী ৫ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত কারাগারে থাকতে হবে।

পার্থ চট্টোপাধ্যায়সহ ১৬ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গত ৩০ সেপ্টেম্বর আলিপুরের সিবিআইর বিশেষ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে সিবিআই। অভিযোগপত্রে পার্থসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

পার্থ ছাড়া অন্যদের মধ্যে আছেন রাজ্যের মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সাবেক চেয়ারম্যান কল্যাণময় বন্দ্যোপাধ্যায়, স্কুল সার্ভিস কমিশন বা এসএসসির সাবেক সহকারী সচিব অশোক সাহা, এসএসসির সাবেক উপদেষ্টা শান্তি প্রসাদ সিনহা, এসএসসির প্রোগ্রাম অফিসার সমরজিৎ আচার্য, এসএসসির সাবেক চেয়ারম্যান সৌমিত্র সরকার প্রমুখ।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়