শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১০:৪০ দুপুর
আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ০১:৩৩ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ভারতে ‘আরএসএস’কে নিষিদ্ধ করার দাবি জানালেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা

রাশিদুল ইসলাম: ভারতে পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়াকে ৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধই করার ঘটনার পর এবার কংগ্রেস, সিপিএম, আরজেডি, এসডিপিআই ও অন্যরা উগ্রহিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ বা ‘আরএসএস’কে নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছেন। পারসটুডে

কেরালার কংগ্রেস নেতা কোডিকুন্নিল সুরেশ এমপি তার বিবৃতিতে বলেছেন, ‘কেন শুধুমাত্র পিএফআইয়ের উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে? ‘আরএসএস’কেও নিষিদ্ধ করা উচিত।’ তিনি বলেন, ‘পিএফআইয়ের উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা কোনও সমাধান নয়। আমরা আরএসএসের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা জারি করার দাবি জানাচ্ছি। ‘আরএসএস’ সারা দেশে হিন্দু সাম্প্রদায়িকতা ছড়াচ্ছে। পিএফআই এবং আরএসএস একই, তাই সরকারের উচিত উভয়কেই নিষিদ্ধ করা।’

অন্যদিকে, সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা ‘এসডিপিআই’ কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে একটি বিবৃতিতে বলেছে, ‘পিএফআইকে নিষিদ্ধ করা ভারতীয় সংবিধান ও গণতন্ত্রের ওপর আক্রমণ। দেশে ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’ জারি রয়েছে’ বলেও মন্তব্য করা হয়েছে।   

এ প্রসঙ্গে মানবাধিকার সংস্থা ‘বন্দিমুক্তি কমিটি’র সাধারণ সম্পাদক ছোটন দাস আজ রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘আমরা যেকোনো সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার বিরোধী। সরকার কোনও সংগঠনের কাজকর্ম নিয়ে অভিযোগ জানাতেই পারেন, কিন্তু সেটা আদালতের বিচার্য বিষয়। এক্ষেত্রে সংগঠনের সঙ্গে রাজনৈতিক মতাদর্শগত সংগ্রামে না এটে উঠতে পেরে প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করছে। এই ধরনের নিষিদ্ধকরণ গণতন্ত্রকে দুর্বল করে, ক্ষতিগ্রস্ত করে। অবশ্য আরএসএস পরিচালিত কেন্দ্রীয় সরকার তো আর গণতন্ত্রের ধার ধারে না, তারা ফ্যাসিজম কায়েম করতে চাচ্ছে। তাই বিরুদ্ধ মত, ভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় সামাজিক সংগঠনের উপরে আক্রমণ নামিয়ে এনেছে।’  

তিনি আরও বলেন, ‘আমি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে অনুরোধ করব তারা শ্বেতপত্র প্রকাশ করে ‘পিএফআই’ এবং যেসব সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে তারা কী কী কাজে যুক্ত তা জানাতে। কখনও যদি বিরোধী সরকার ক্ষমতায় এসে আরএসএ বা তাদের কোনও সংগঠনকে নিষিদ্ধ করে আমরা তারও বিরোধিতা আগাম করে রাখছি। আমরা মানবাধিকার সংগঠন, সর্বদাই নিষিদ্ধকরণের বিরুদ্ধে। একইভাবে ‘সিমি’র নিষিদ্ধকরণের বিরুদ্ধে আমরা আজও সংগ্রাম করছি। এবং সিপিআই মাওবাদী এবং তার সঙ্গে যুক্ত করে অন্য সংগঠনেরও আমরা নিষিদ্ধকরণের আজও বিরোধিতা করছি।

‘পিএফআই’ এবং তার সঙ্গে যুক্ত করে যাদের নিষিদ্ধ করা হয়েছে তারমধ্যে একটি ‘মানবাধিকার সংগঠন’  আছে তাদেরকেও নিষিদ্ধ করেছে। আমরা এর তীব্র বিরোধিতা করছি এবং অবিলম্বে এই নিষিদ্ধকরণের নির্দেশ প্রত্যাহার করা হোক।’  

‘সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন- গণতন্ত্রের উপরে এই আক্রমণ, এটা কোনও নির্দিষ্ট কোনও সংগঠনের উপরে নয়, এর বিরুদ্ধে সকলকে প্রতিবাদে শামিল হওয়ার আবান জানাচ্ছি’ বলেও মন্তব্য করেন ‘বন্দিমুক্তি কমিটি’র সাধারণ সম্পাদক ছোটন দাস। 

বিহারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও ‘আরজেডি’ প্রধান লালুপ্রসাদ যাদব এক বার্তায় বলেছেন, ‘পিএফআইয়ের মতো, ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়ানো সব সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা উচিত, যার মধ্যে ‘আরএসএস’ও রয়েছে। সবার আগে ‘আরএসএস’কে নিষিদ্ধ করুন, এটা ওর  চেয়েও খারাপ সংগঠন। এর আগেও দু’বার নিষিদ্ধ হয়েছে আরএসএস। আরএসএস প্রথম নিষিদ্ধ করেছিলেন লৌহমানব সর্দার প্যাটেল।’  

এদিকে, উত্তর প্রদেশের  সম্ভলের সমাজবাদী পার্টির সংসদ সদস্য শফিক উর রহমান বার্ক বলেছেন, পিএফআইয়ের উপর নিষেধাজ্ঞা ভুল সিদ্ধান্ত। বিজেপি যেভাবে কাজ করছে, ২০২৪ সালের নির্বাচনে মানুষ তাদের শিক্ষা দেবে।      

ভারতীয় সংসদে নিম্নকক্ষ লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা ও পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী এমপি বলেছেন, ‘বিভিন্ন রাজ্যে রাহুল গান্ধির পদযাত্রায় ভিড় এবং জনসমর্থনের ভয়ে কেন্দ্রীয় সরকার পিএফআইকে নিষিদ্ধ করেছে।

অধীর রঞ্জনের মতে, রাহুল গান্ধি যখন কেরালায় সফর করছিলেন, তখনই পিএফআই-এর উপর আঘাত শুরু হয়েছিল এবং এখন যখন তিনি কর্ণাটকে প্রবেশ করতে চলেছেন এবং কর্ণাটকের লোকেরা তার অপেক্ষায় আছে,  তখন পিএফআই নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং এটি ছিল সুপরিকল্পিত। এটি গেম প্ল্যানের অধীনে করা হচ্ছে যাতে কংগ্রেস এবং পিএফআইকে সংযুক্ত করা যায়। উভয়কে যুক্ত করে যাতে কংগ্রেসের মানহানি করা যায়।’

কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী আরও বলেন, ‘মহাত্মা গান্ধিকে হত্যার পর আরএসএস নিষিদ্ধ হয়েছিল। একই আরএসএস ও হিন্দু সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেফতার করা হয়েছে কখনও ট্রেন বিস্ফোরণ মামলায়, কখনও মসজিদে বিস্ফোরণে। কেন তখন আরএসএস নিষিদ্ধ করা হয়নি? এমতাবস্থায় যারা নীতির কথা বলছেন, তাদের অতীতের দিকে তাকাতে হবে। পিএফআই নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই।’  

সিএপিআই (এম) নেতা সীতারাম ইয়েচুরি বলেছেন, ‘আমরা মনে করি যে পিএফআই-এর চরমপন্থী কার্যকলাপের অবসান হওয়া উচিত। কেরালায় পিএফআই এবং আরএসএস কর্মীদের হত্যা এবং প্রতিশোধমূলক হত্যার কারণে সহিংসতা হয়েছে। দুটোই বন্ধ করা উচিত। তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা সমাধান নয়। গান্ধি হত্যার পর  আরএসএসকে তিনবার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, কিন্তু তাতে কী কিছু বন্ধ হয়েছে?’

কেরালার সিপিআইএম নেতা ও রাজ্য সম্পাদক এমভি গোবিন্দন বলেছেন,  ‘যদি কোনো সংগঠনকে নিষিদ্ধ করতে হয় সেটা হল আরএসএস। এটি সাম্প্রদায়িক কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রধান সংগঠন। এটা কী নিষিদ্ধ হবে? একটি চরমপন্থী সংগঠনকে নিষিদ্ধ করে সমস্যার সমাধান হবে না। অতীতে আরএসএস নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সিপিআইকেও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’  একটি সংগঠনকে নিষিদ্ধ করলে তার আদর্শের অবসান হবে না এবং এটি একটি নতুন নামে অস্তিত্বে আসবে বলেও সিপিআইএম নেতা ও রাজ্য সম্পাদক এমভি গোবিন্দন মন্তব্য করেন। 

অন্যদিকে, বিজেপি নেতা ও বিভিন্ন রাজ্যের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীরা পিএফআইয়ের উপরে নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করে সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়