শিরোনাম
◈ অর্থনীতিকে গণতন্ত্রায়ণের লক্ষ্যেই এবারের বাজেট: অর্থমন্ত্রী ◈ করের ক্ষেত্রে যে আটটি পরিবর্তন আসছে ◈ "ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষের ঘোষণা ট্রাম্পের, সামরিক অভিযান থেকে সরে এসে বললেন, চুক্তি ‘প্রায় চূড়ান্ত’, ইউরোপে সই হবে" ◈ ধৃষ্টতা সকল সীমা ছাড়িয়েছ’; অভিনেত্রী শাওনকে নিয়ে তাজুল ইসলামের ক্ষোভ ◈ উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন, ভালো চাকরির ফাঁদে বিদেশে গিয়ে সাইবার স্ক্যামে বাধ্য, দেশে ফিরলেন ৩৭ বাংলাদেশি ◈ জুনের প্রথম ১০ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১২০ কোটি ৩১ লাখ মার্কিন ডলার ◈ দক্ষিণ আফ্রিকায় ঢুকতে গিয়ে বিপাকে ৯ বাংলাদেশি, মিলল ভুয়া পাসপোর্ট-ভিসার প্রমাণ ◈ বিশ্বকাপে দ‌ক্ষিণ কো‌রিয়ার দারুণ সূচনা ◈ আদ্-দ্বীনের হাসপাতাল নয়, বাতিল হয়েছে প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স: দাবি আইনজীবী শিশির মনিরের ◈ স্বাস্থ্য খাত ধ্বংস ও হামে শিশুমৃত্যুর জন্য ড. ইউনূসের বিচার চাইলেন শেখ হাসিনা

প্রকাশিত : ১২ জুন, ২০২৬, ০৩:১৪ দুপুর
আপডেট : ১২ জুন, ২০২৬, ০৬:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : আর রিয়াজ

"ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষের ঘোষণা ট্রাম্পের, সামরিক অভিযান থেকে সরে এসে বললেন, চুক্তি ‘প্রায় চূড়ান্ত’, ইউরোপে সই হবে"

আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ার দাবি করে ইরানে বৃহস্পতিবার রাতের পূর্বনির্ধারিত হামলা এবং খারগ দ্বীপ দখলের পরিকল্পিত অভিযান আচমকাই বাতিল করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্য নিউইয়র্ক পোস্টকে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার ব্যাপারে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চুক্তি 'সব দিক থেকে প্রায় চূড়ান্ত'। তেহরানের শীর্ষ নেতৃত্ব খসড়া চুক্তিতে 'অনুমোদন' দিয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। সূত্র: টিবিএস

ট্রাম্প বলেন, এই উইকএন্ডেই ইউরোপের কোথাও চুক্তি সই হবে; তিনি নিজে সেখানে উপস্থিত থাকতে না পারলেও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স উপস্থিত থাকবেন।

এই চুক্তির শর্ত মেনে চললে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়বে, অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি আবার উন্মুক্ত হবে ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ৬০ দিনের নতুন আলোচনাপর্ব শুরু হবে।

বুধবার রাতেই কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের কাছে সম্ভাব্য চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া জমা দিয়েছিল ইরান—নিউইয়র্ক পোস্টে এমন খবর প্রকাশিত হওয়ার পরপরই ট্রাম্প এই ঘোষণা দিলেন। 

নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া সংক্ষিপ্ত টেলিফোন সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, 'সবকিছু প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গেছে।'

অবশ্য এর আগেও বেশ কয়েকবার 'চুক্তি প্রায় হয়েই গেছে' বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। এমনকি তার এই সর্বশেষ দাবিও ইতিমধ্যেই খারিজ করে দিয়েছে ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি। 

তবে এ আলোচনার ব্যাপারে অবগত তিনটি নির্ভরযোগ্য সূত্র সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে বলেছে, বুধবার ইরানি কর্মকর্তা ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যকার রুদ্ধদ্বার বৈঠকে দুই পক্ষের মূল মতপার্থক্যগুলো অনেকটাই ঘুচে এসেছে।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, 'ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং তারা এতে অনুমোদন দিয়েছে। এই বাস্তবতার ভিত্তিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি আজ সন্ধ্যায় ইরানের ওপর পূর্বনির্ধারিত সব বিমান ও বোমা হামলা বাতিল করেছি।'

তিনি আরও লিখেছেন, 'যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান, বাহরাইন, কুয়েত, জর্ডান, মিশরসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ চুক্তির প্রতিটি খুঁটিনাটি ও মূল ধারণায় সম্পূর্ণ সম্মতি দিয়েছে।'

নতুন এই চুক্তির বিস্তারিত রূপরেখা তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ্যে না এলেও ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, চুক্তি সই হলেই ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে প্রায় দু-মাস ধরে চলা মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া হবে। 

এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছিলেন, ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দিলেই কেবল এই অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে।

তবে ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প বলেছেন, 'এই চুক্তি চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত নৌ-অবরোধ সম্পূর্ণ বহাল থাকবে।' তিনি আরও বলেন, দুই পক্ষের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি স্বাক্ষরের 'সময় ও স্থান...খুব শিগগিরই ঘোষণা করা হবে।'

মধ্যস্থতার সঙ্গে যুক্ত একাধিক মার্কিন ও আঞ্চলিক সূত্র নিউইয়র্ক পোস্টের কাছে দাবি করেছে, আমেরিকার সঙ্গে প্রস্তাবিত চুক্তির সর্বশেষ খসড়া চূড়ান্ত করে ফেলেছে ইরান। ওয়াশিংটনে পৌঁছে দেওয়ার জন্য কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের হাতে সেই খসড়া তুলেও দিয়েছে তেহরান। 

ইরানি নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ এক আঞ্চলিক সূত্রের বরাতে নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, 'বুধবার সন্ধ্যায় চুক্তির টেক্সট চূড়ান্ত করা হয়েছে। চুক্তিটি সফল করতে দোহা নিয়মিত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগ রাখছে।'

'চূড়ান্ত অনুমোদন মিললেই এই সমঝোতা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে' বলে জানিয়েছে ওই সূত্র।

তবে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসের কোরের (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ আধাসরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স ইরানের আলোচনা দলের একটি অবগত সূত্রকে উদ্ধৃত করে বলেছে, 'যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রাথমিক সমঝোতা স্মারকের কোনো খসড়াই এখনো অনুমোদন করা হয়নি।'

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার বাকি থাকা মতপার্থক্যগুলো ঘুচিয়ে আনতে বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত তেহরানে রুদ্ধদ্বার বৈঠক চলে। আলোচনা করেন কাতারের বিশেষ দূত আলি আল-থাওয়াদি ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

এই আলোচনার ব্যাপারে অবগত তিনটি সূত্র বলেছে, কাতারি ও ইরানি পক্ষ বুধবার রাতেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল যে তারা এমন একটি চুক্তির 'টেক্সট' তৈরি করতে পেরেছে যা যুক্তরাষ্ট্রও গ্রহণ করবে। 

সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, তিনটি মূল ইস্যুতে দুই পক্ষের মতপার্থক্য কমেছে। ইস্যু তিনটি হচ্ছে: ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ ছাড় করার প্রক্রিয়া—যা তেহরানের কাছে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির সময় হরমুজ খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা এবং এই যুদ্ধবিরতির মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার রূপরেখা কীভাবে নির্ধারিত হবে।

সূত্রমতে, ইরানি কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবার বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রকে জানিয়েছেন যে তেহরানের বৈঠকে একটি নীতিগত চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া এখনো বাকি।

তবে সূত্র জানিয়েছে, কাতার ও ইরান উভয় পক্ষই জোর দিয়ে বলেছে, আচমকা চালানো মার্কিন হামলা ট্রাম্পের আসল উদ্দেশ্য নিয়ে ইরানিদের মনে সন্দেহের জন্ম দিয়েছে।

সোমবার রাতে হরমুজ প্রণালির কাছে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার গুলি করে ভূপাতিত করে ইরান। তার জবাবে ইরানের উপকূলজুড়ে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। 

এরপর বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকালে ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেন, তেহরান যদি চুক্তিতে রাজি না হয়, তবে ইরানের তেল শোধনাগারের মূল কেন্দ্র খারগ দ্বীপ দখল করে নেবে মার্কিন সেনা।

হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং পারমাণবিক আলোচনা শুরুর লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক প্রস্তুতের চেষ্টা করছে দুই পক্ষ। এ প্রক্রিয়ায় কাতারের পাশাপাশি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যোগাযোগের মূল মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে পাকিস্তান।

চুক্তি বাস্তবায়নে ইসলামাবাদের এই ব্যাপক দৌড়ঝাঁপের কারণে ট্রাম্প এর আগে আভাস দিয়েছিলেন, চূড়ান্ত চুক্তি সই কিংবা আগামী দিনের মুখোমুখি বৈঠকগুলো পাকিস্তানেই হতে পারে। পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানের এই 'শাটল ডিপ্লোম্যাসি' এখন মূলত তিনিই সামলাচ্ছেন।

অবশ্য চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে এর আগে তুরস্ক, সুইজারল্যান্ড ও কাতারের নামও আলোচনায় এসেছিল।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়