শিরোনাম
◈ রাষ্ট্রপতিকে সংসদের প্রথম অধিবেশনে অভিসংশন করতে হবে, এরপর গণহত্যার দায়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে হবে: নাহিদ ইসলাম ◈ পাসপোর্টের 'দালাল' নিয়ে নতুন সিদ্ধান্তে সমালোচনা কেন ◈ দেশের রিজার্ভে বড় সুখবর, ছাড়াল ৩৫ বিলিয়ন ডলার ◈ ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটিতে বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী যারা ◈ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এবার পাঁচ কর্মকর্তা বদলি ◈ দেশে আবারও মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত ◈ আলমারি ভর্তি রুপি মিলল সরকারি কর্মকর্তার বাড়িতে ◈ আহসান এইচ মনসুরকে সরানো নিয়ে যা বললেন অর্থমন্ত্রী ◈ বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনে উপনির্বাচন ঘিরে ইসির বিশেষ আদেশ ◈ এবার নগদে বিনিয়োগ নিয়ে ব্যারিস্টার আরমান যা বললেন

প্রকাশিত : ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬, ১০:১৭ দুপুর
আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ: সন্তানের মনের ক্ষত মুছে যেভাবে তাকে সাহসী করে তুলবেন

দুটি মানুষ একসময় ভালোবেসে ঘর বেঁধেছিলেন। একছাদে বসবাস শুরু করেন। দিন গড়িয়ে মাস, আর মাসে মাসে বছর গড়ায়। এরপর একটা সময় দুই থেকে তিনজনে হয়ে যান। কত হাসি, কত সুন্দর মুহূর্তের স্মৃতি জমা পড়ে ফেসবুকের পাতায়। এভাবে কয়েক বছর পর সম্পর্কে নেমে আসে শীতলতা। দেখা যায়, সেই ভালোবাসার ছাদ বিষাদে পরিণত হয়েছে।

শুরু হয় নিত্য়দিনের অশান্তি। যে মানুষটা ছিল একসময় সবচেয়ে কাছের। আজ সেই মানুষটাই যেন অচেনা হয়ে যায়, চোখের বালি হয়ে যায়। আর কিছুতেই একসঙ্গে থাকা যায় না। মনে হচ্ছে— বিচ্ছেদই একমাত্র সঠিক পথ, সঠিক সিদ্ধান্ত। 

কিন্তু খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে থাকা সম্পর্ককে টেনে নিয়ে যেতে হচ্ছে শুধু সন্তানের মুখ চেয়ে। বারবার মনে হচ্ছে, বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ কীভাবে নেবে সে? স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ চাওয়া বহু মা-ই এ দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন। 

এ বিষয়ে মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, বাবা-মায়ের শীতল দাম্পত্য মোটেও ভালোভাবে মানতে পারে না শিশুরা। বহুক্ষেত্রেই দেখা যায়, মানসিক অবসাদে ভুগে থাকে তারা। আপনিও কি ‘একলা মা’? একই টানাপোড়েন ভুগছেন? 

চলুন জেনে নেওয়া যাক, কীভাবে আপনার সন্তানকে বোঝাবেন—

আপনার সন্তানকে বড় করে তোলার জন্য় বাবা-মাকে সমানভাবে প্রয়োজন হয়। তার জীবনে দুজনেরই গুরুত্ব অনেক। তবে অসুখী দাম্পত্য মোটেও ভালো কথা নয়। তাই বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বারবার ভেবে নিন, যা করছেন তা ঠিক করছেন তো? ভবিষ্যতে এ সিদ্ধান্তের জন্য আফসোস করবেন না তো। মনে রাখবেন, সম্পর্ক ভাঙা খুবই সহজ। কিন্তু সম্পর্ক গড়তে সময় লাগে অনেক বেশি। সে জন্য আপনার দাম্পত্য অশান্তি আপনার শিশুসন্তান থেকে দূরে রাখাই ভালো। তার সামনে চিৎকার, চেঁচামেচি এবং একে অপরকে দোষারোপ করবেন না। এতে আপনার শিশুর আতঙ্ক তৈরি হয়, যা মানসিক অবসাদ তৈরিরও কারণ হয়ে উঠতে পারে।

আর যদি বিচ্ছেদই যে আপনাদের দাম্পত্য সম্পর্কের ভবিষ্যৎ, তা আপনার শিশুসন্তানকে স্পষ্টভাবে বোঝান। তাকে কিছু লুকাবেন না। ধীরে ধীরে মানসিক প্রস্তুতি নিতে দিন। তাকে জিজ্ঞাসা করুন, আপনার সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত কিনা। আর এ বিচ্ছেদ প্রক্রিয়া নিয়ে তার নানা কৌতূহল তৈরি হতে পারে। সে আপনাকে নানা প্রশ্নও করতে পারে। কখনো বিরক্ত হবেন না। যা হচ্ছে, সহজভাবে তার মতো করে বুঝিয়ে বলুন।

অনেক শিশুসন্তান ভাবে, বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের জন্য সে দায়ী। তাকে বোঝান এ ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। দুটি মানুষের বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়। এ ছাড়া আর কেউ দায়ী নয়। তাকে বোঝান স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদ হলেও আজীবন তারা তার বাবা-মা থেকে যাবেন। তাই সে চাইলে পাশে পাবে দুজনকেই।

এটাও বলুন, আপনি তার দুঃখ বুঝতে পারছেন। তাতে সে বুঝতে পারবে আপনিও তার যন্ত্রণার সঙ্গী। এরপর তাকে বোঝান এ সমস্যা নিয়ে ভেবেচিন্তে দিন কাটালে হবে না। ধীরে ধীরে এ বিষয়ে ভাবনাচিন্তা কমাতে হবে। আর বাবা-মায়ের বিচ্ছেদে অনেক শিশুসন্তানের আচরণগত পার্থক্য তৈরি হয়। আচমকা বাবা-মায়ের সম্পর্কের সমীকরণ বদলে সন্তান খিটখিটে হয়ে যায়। কেউ কেউ হিংস্রও হয়ে ওঠে। তাই তাকে বেশি করে সময় দেওয়ার চেষ্টা করুন।

সূত্র: যুগান্তর

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়