শিরোনাম
◈ ট্রাম্পের জন্য ‘বিশ্বাসের পরীক্ষা’: জব্দকৃত ২৪ বিলিয়ন ডলার ফেরত চায় ইরান ◈ বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাকান ফিদানের বৈঠক ◈ বিদ্যুৎ খাতে হযবরল, অলস সক্ষমতার বিপুল ভার মানুষের ওপর  ◈ মূল্যবৃদ্ধির চাপ ধনীদের ওপর, ৬৫ শতাংশ সাধারণ মানুষ সুরক্ষিত: তথ্যমন্ত্রী ◈ জুয়া নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দাদের বাড়তি ক্ষমতা, সন্দেহ হলেই তল্লাশি ও গ্রেপ্তার করতে পারবে, অপব্যবহারের আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের ◈ অনলাইন ঝড় থেকে রাজপথে: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভ, থাকছেন সোনম ওয়াংচুক-ও ◈ ১১ দলীয় জোটে আবার ভাঙনের গুঞ্জন, বেরিয়ে গেছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ১০ জুন আসতে পারে ঘোষণা ◈ পোষা বিড়াল কি বাড়ায় মানসিক রোগের ঝুঁকি? নতুন গবেষণায় আলোচনার ঝড়! ◈ দেশের বাজারে টানা দুই দফায় স্বর্ণের দাম কমেছে ভরিপ্রতি ৮ হাজার ৭৪৮ টাকা ◈ প্রথম সফরে মালয়েশিয়া কেন বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান? : ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন

প্রকাশিত : ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:০১ দুপুর
আপডেট : ০৬ জুন, ২০২৬, ০৬:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কেন চোখে কাজল দিতেন প্রাচীন মিশরের যোদ্ধারা?

ইতিহাস-ঐতিহ্য নিজে যারা ঘাটতে ভালোবাসেন তারা মিশরের ইতিহাস ঘাঁটলে হয়তো খেয়াল করেছেন মিশরীয় সেনাদের চোখজুড়ে কালো কাজলের প্রলেপ। কিন্তু কেন? কাজল তো নারীদের প্রসাধনী অংশ। সেসময় পুরুষরা কেন এটি ব্যবহার করতেন? এর পেছনে কী কারণ রয়েছে? চলুন বিস্তারিত জেনে নিই- 

প্রাচীন মিশরীয় সংস্কৃতিতে কাজল (Kohl) পরিচিত ছিল 'মেসডেমোট' নামে। এটি কেবল প্রসাধনী হিসেবে ব্যবহার হতো না। মিশরীয় রাজপরিবার, সাধারণ মানুষ এবং বিশেষ করে যোদ্ধারা চোখের চারপাশে ঘন কালো রঙের এই প্রলেপ ব্যবহার করতেন। এর পেছনে ছিল গভীর ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, বৈজ্ঞানিক ও সামরিক কারণ।

সামরিক এবং ব্যবহারিক সুবিধা 
চোখে কাজল ব্যবহারের প্রধান কারণ ছিল সূর্যের তীব্রতা থেকে চোখকে রক্ষা করা। যুদ্ধক্ষেত্রে যা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল। মিশরীয়রা সাধারণত মরুভূমি বা উজ্জ্বল আলো ঝলমলে পরিবেশে যুদ্ধ করত। তারা কালো রঙের কাজল দিয়ে চোখের চারপাশে এক ধরনের ম্যাট বা নিস্তেজ স্তর তৈরি করত, যা সূর্যের তীব্র আলো এবং বালি থেকে প্রতিফলিত হওয়া ঝলকানি (Glare) শোষণ করে নিত।

লক্ষ্যভেদ সহজ করার ক্ষেত্রেও কাজল ভূমিকা রাখত। ঠিক যেমন ফুটবল খেলোয়াড়রা চোখের নিচে কালো স্ট্রিপ ব্যবহার করেন, তেমনি কাজলের এই গ্লেয়ার-বিরোধী বৈশিষ্ট্য সেনাদের দূরের জিনিস বা শত্রুর ওপর লক্ষ্য স্থির করতে এবং তাদের চোখকে আরাম দিতে সাহায্য করত।

চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্যগত কারণ 
প্রাচীন মিশরীয়দের কাজলে ব্যবহৃত উপাদানগুলো ছিল অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল এবং রোগ প্রতিরোধী। সংক্রমণ প্রতিরোধে যা সাহায্য করে। নীল নদ সংলগ্ন এলাকায় মশা ও মাছিবাহিত চোখের সংক্রমণ (Eye Infections) যেমন কনজাংটিভাইটিস (Conjunctivitis) ছিল একটি সাধারণ সমস্যা। কাজলে থাকা লেড-ভিত্তিক যৌগ, যেমন গ্যালেনা (Galena) এবং অন্যান্য সালফাইডের উপস্থিতি অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যযুক্ত ছিল।

কাজলে উপস্থিত এই উপাদানগুলো যখন ত্বকের সংস্পর্শে আসে, তখন এটি নাইট্রিক অক্সাইড (Nitric Oxide) তৈরি করে। এটি শ্বেত রক্তকণিকার (White Blood Cells) মাধ্যমে চোখের সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করত।

ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য
কাজল ব্যবহারের পেছনে ধর্মীয় বিশ্বাসও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মিশরীয়রা বিশ্বাস করত, চোখ হলো আত্মার প্রবেশদ্বার। কাজল ব্যবহার করলে সূর্য দেবতা এবং আকাশ দেবতা তাদের চোখের সুরক্ষা দেবে এমনটাই মনে করতেন তারা। কাজলের চোখ ছিল হোরাস দেবতার (আকাশ দেবতা) চোখের প্রতীক (Eye of Horus)। তারা আরও মনে করত, দুষ্ট আত্মা এবং অমঙ্গলজনক নজর থেকে কাজল তাদের রক্ষা করবে। 

প্রাচীন মিশরীয় সেনারা কেবল সৌন্দর্যের জন্য নয়, বরং বহুমুখী সামরিক কৌশল হিসেবে কাজল ব্যবহার করতেন। সূর্যের ঝলকানি থেকে চোখকে বাঁচানো এবং সংক্রমণ প্রতিরোধ করা— এই দুটি ব্যবহারিক কারণই কাজলের ব্যবহারকে যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য অপরিহার্য করে তুলেছিল। 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়