স্পোর্টস ডেস্ক : ফুটবল বিশ্বকাপে ব্রাজিল, জার্মানি কিংবা আর্জেন্টিনার মতো পরাশক্তিদের গল্পই বেশি শোনা যায়। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত গল্পগুলোর একটি এসেছে ক্যারিবীয় সাগরের ছোট্ট দ্বীপ কুরাসাও থেকে। মাত্র ৪৪৪ বর্গকিলোমিটার আয়তন ও ১ লাখ ৫৮ হাজার জনসংখ্যার এই দেশই বিশ্বকাপ ইতিহাসে আয়তন ও জনসংখ্যার বিচারে সবচেয়ে ছোট অংশগ্রহণকারী।
পূর্ণ স্বাধীন রাষ্ট্রও নয় কুরাসাও। ২০১০ সাল থেকে এটি নেদারল্যান্ডস রাজ্যের একটি স্বায়ত্তশাসিত দেশ। একই বছর নেদারল্যান্ডস অ্যান্টিলিস ভেঙে যাওয়ার পর আলাদা জাতীয় দল হিসেবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে যাত্রা শুরু করে তারা। মাত্র ১৬ বছরের মধ্যেই বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়ে ফুটবল ইতিহাসে নিজেদের নাম লিখিয়েছে ক্যারিবীয় এই দেশটি।
এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা প্রবাসী ফুটবলারদের। বিশ্বকাপের ২৬ সদস্যের দলে মাত্র একজন-- তাহিথ চং কুরাসাওতে জন্মেছেন। বাকি ২৫ জনই নেদারল্যান্ডসে জন্ম নেওয়া কুরাসাও বংশোদ্ভূত। তাদের মধ্যে ১৮ জন নেদারল্যান্ডসের বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলে খেলেছেন। রিচেডলি বাজুর ও জশুয়া ব্রেনেট সিনিয়র দলেও প্রতিনিধিত্ব করেছেন। কিন্তু শিকড়ের টানেই তারা বেছে নিয়েছেন কুরাসাওকে।
২০১৫ সালে কিংবদন্তি ডাচ ফরোয়ার্ড প্যাট্রিক ক্লুইভার্ট কোচ হওয়ার পর থেকেই প্রবাসী ফুটবলারদের জাতীয় দলে যুক্ত করার পরিকল্পনা শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে দলটির মান বাড়তে থাকে। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে দায়িত্ব নেন অভিজ্ঞ ডাচ কোচ ডিক অ্যাডভোকেট। তার অধীনেই বদলে যায় কুরাসাওর মানসিকতা ও খেলার ধরন। ৭৮ বছর বয়সে তিনি এবার বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক কোচ হিসেবেও নতুন রেকর্ড গড়তে যাচ্ছেন।
দলের নেতৃত্বে আছেন সাবেক অ্যাস্টন ভিলা ও কার্ডিফ সিটির মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো বাকুনা। ২০১৬ সালে কুরাসাওয়ের জার্সি গায়ে তোলা এই মিডফিল্ডার শুরু থেকেই বিশ্বাস করেছিলেন, একদিন এই দল বিশ্বকাপে খেলবে। ২০১৯ সালে জাতীয় দলে যোগ দেন তার ছোট ভাই জুনিনহো বাকুনাও। দুই ভাইয়ের একসঙ্গে বিশ্বকাপ খেলা এখন কুরাসাও ফুটবলের অন্যতম বড় অর্জন।
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেও ছিল কুরাসাওয়ের দারুণ আধিপত্য। ১০ ম্যাচে ৭ জয় ও ৩ ড্রয়ে অপরাজিত থেকেই তারা নিশ্চিত করে ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ। যোগ্যতা অর্জনের দিন পুরো দ্বীপে নেমে আসে উৎসবের আমেজ। রাস্তায় থেমে যায় যান চলাচল, বাড়ি ও গাড়িতে উড়তে থাকে নীল পতাকা। ছোট্ট এই দ্বীপের মানুষের কাছে এটি শুধু একটি ক্রীড়া সাফল্য নয়, জাতীয় গর্বেরও উপলক্ষ।
বিশ্বকাপে অবশ্য কুরাসাওয়ের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন পরীক্ষা। ‘ই’ গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি, দক্ষিণ আমেরিকার শক্তিশালী ইকুয়েডর এবং আফ্রিকার অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী আইভরি কোস্ট। কাগজে-কলমে কুরাসাওকে পিছিয়েই রাখা হচ্ছে। তবে বাছাইপর্বে অপরাজিত থাকা দলটি প্রতিপক্ষের জন্য সহজ চ্যালেঞ্জ হবে না।
বিশ্বকাপে অভিষেকের মধ্য দিয়েই ইতিহাস গড়লো কুরাসাও। এবার সেই ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ হলো। তারা চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিরুদ্ধে গোল করে ইতিহাস গড়লো।