বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘ আট মাস চরম অনিশ্চয়তা আর আতঙ্কে দেশের মাটিতেই আত্মগোপনে ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে সক্ষম হয়ে টাইম টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেই দুঃসহ সময়ের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে আব্দুল মোমেন জানান, নিজেকে আড়াল করতে তিনি তার বাহ্যিক চেহারায় ব্যাপক পরিবর্তন এনেছিলেন। তিনি তার মাথার চুল পুরোপুরি ফেলে দেন এবং লম্বা দাড়ি রাখেন যাতে সাধারণ মানুষ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে চিনতে না পারে। এক বাসা থেকে অন্য বাসায় যাতায়াতের সময় তিনি কালো গ্লাসের গাড়ি ব্যবহার করতেন এবং সাধারণত রাতের আঁধারে যাতায়াত করতেন।
আত্মগোপনকালীন সময়ে তিনি কোনো আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে যাননি। পরিবর্তে ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় তৈরি পোশাক ব্যবসায়ীদের গেস্ট হাউস বা এয়ারবিএনবি (Airbnb) বাসায় অবস্থান করেছেন। বায়ারদের জন্য রাখা এই খালি বাসাগুলো তিনি সাপ্তাহিক বা দৈনিক ভিত্তিতে ভাড়া নিতেন। এভাবে প্রায় ৪ থেকে ৫টি বাসা পরিবর্তন করেছেন তিনি।
খাবারের কষ্টের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, নিউ ইয়র্ক থেকে তার মেয়ে বা ভাগ্নি অনলাইনের মাধ্যমে খাবারের অর্ডার দিতেন এবং সেই খাবার ডেলিভারি আসত। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে তিনি খুব কমই দরজা খুলতেন।
গোয়েন্দা নজরদারি এড়াতে তিনি মোট ৬টি মোবাইল ফোন এবং একাধিক সিম কার্ড পরিবর্তন করেছেন। নিজের নামে সিম ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অন্যের নামে সংগ্রহ করা সিম কার্ড ব্যবহার করতেন তিনি।
আব্দুল মোমেন দাবি করেন, তিনি যখন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন, তখনও তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে ডজনখানেক হত্যা ও সন্ত্রাসবিরোধী মামলা দেওয়া হয়েছে, যেগুলোকে তিনি সম্পূর্ণ 'বানোয়াট' ও 'ভুয়া' বলে অভিহিত করেন। বর্তমানে তিনি নিউ ইয়র্কে তার পরিবারের সঙ্গে অবস্থান করছেন।
সাবেক এই মন্ত্রীর মতে, তার এই পালিয়ে বেড়ানোর গল্পটি যেকোনো থ্রিলার সিনেমার কাহিনীকেও হার মানায়।