শিরোনাম
◈ চট্টগ্রামে ফেরিতে উঠতে গিয়ে কর্ণফুলীতে নদীতে পড়ে গেল ট্রাক ◈ মগবাজারের বৃদ্ধকে প্রধানমন্ত্রীর ফোন ◈ দুই জাহাজ কেনায় উধাও ১০ মিলিয়ন ডলার ◈ মৌসুমের প্রথম তাপপ্রবাহ শুরু, তাপমাত্রা পৌঁছাতে পারে ৪১ ডিগ্রিতে ◈ বাংলাদেশ ব্যাংক-এর নতুন নির্দেশ: খেলাপি ঋণ ও ঝুঁকি শনাক্তে তদারকি জোরদার ◈ দুই যুদ্ধ এক সুতোয়: ইউক্রেন-ইরান সংঘাতে বাড়ছে বৈশ্বিক ঝুঁকি—গার্ডিয়ান ◈ চাই‌নিজ তাই‌পে‌কে হা‌রি‌য়ে এশিয়ান গেমস হকির বাছাইপর্ব শুরু কর‌লো বাংলাদেশ ◈ সরকারি-বেসরকারি অফিস চলবে অফিস ৯টা–৪টা, সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ দোকানপাট- শপিংমল: মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত ◈ মার্চ মাসে রপ্তানি ঘাটতি ২০ শতাংশ ◈ ফুটপাত হকারমুক্ত করতে ঢাকায় ৮ নৈশ মার্কেট চালুর পরিকল্পনা ডিএসসিসির

প্রকাশিত : ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬, ১২:২১ রাত
আপডেট : ২৫ মার্চ, ২০২৬, ০৮:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায়ে ট্রাইব্যুনাল: শেখ হাসিনা খুব সহজেই আন্দোলনের অবসান ঘটাতে পারতেন 

বৈষম‍্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে জুলাই গণহত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত‍্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন জনের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ রায়ের লিখিত অনুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ৪৫৭ পৃষ্ঠার রায়ে মামলার সাক্ষীদের বক্তব্য, তথ্য-প্রমাণাদি পর্যালোচনাসহ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল তার রায়ের শেষাংশে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী (শেখ হাসিনা) শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ অভিভাবক হিসেবে, আন্দোলনের একেবারে শুরুতেই তাদের সঙ্গে সংলাপে বসে খুব সহজেই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের অবসান ঘটাতে পারতেন।

২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেন। এর ঠিক ৯ দিন পর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করে ট্রাইব্যুনাল। তবে প্রাথমিকভাবে রায়ের অনুলিপি মামলা সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের সরবরাহ করা হয়েছিল। সেই রায়ের অনুলিপি প্রায় ৫৬ দিন পর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করলেন ট্রাইব্যুনাল। 

লিখিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেছেন, ট্রাইব্যুনালের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে যে অভিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে সরকারি নিয়োগে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাধানে পৌঁছানোর পর্যাপ্ত সুযোগ ছিল—বিশেষ করে যখন তিনি পূর্বে একবার সম্পূর্ণরূপে কোটা ব্যবস্থা বাতিল করেছিলেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে ট্রাইব্যুনাল লক্ষ করেছে যে একই বিষয়টি কোনও না কোনও রূপে পুনরায় উত্থাপিত হয়। এমন পুনরুজ্জীবন সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ অভিভাবক হিসেবে, আন্দোলনের একেবারে শুরুতেই তাদের সঙ্গে সংলাপে বসে খুব সহজেই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের অবসান ঘটাতে পারতেন। কিন্তু তিনি শিক্ষার্থীদের অবমূল্যায়ন এবং বিষয়টি উপেক্ষা করতে পছন্দ করেছেন—যার ফলে বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীনভাবে আলোচ্য নৃশংস ঘটনাগুলো সংঘটিত হয়েছে।

রায়ে আরও বলা হয়েছে, শিশু, নারী ও বৃদ্ধসহ আন্দোলনকারীদের ওপর চালানো নিষ্ঠুরতার প্রকৃতি ও ব্যাপ্তি সারা বিশ্বের মানুষের হৃদয়কে আলোড়িত করেছে। আদালত কক্ষে প্রদর্শিত ভিডিওতে নিহত ও আহত আন্দোলনকারীদের দৃশ্য এবং তাদের আর্তনাদ প্রত্যক্ষ করে, পাশাপাশি আদালতে উপস্থিত সেই ভুক্তভোগী সাক্ষীদের দেখে—যারা মাথার খুলি, চোখ, নাক, হাত ও পা হারিয়েছেন, যেকোনও মানুষই স্বাভাবিক মানসিক অবস্থায় থাকতে ব্যর্থ হবে। এ ধরনের নৃশংসতা যেকোনও মূল্যে স্থায়ীভাবে অবসানের দাবি রাখে। ন্যায়বিচার ব্যর্থ হতে পারে না।

গত ১৭ নভেম্বর শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের পাশাপাশি ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে দেশে থাকা তাদের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া পাঁচ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।

এ মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ এনেছিল প্রসিকিউশন। কিন্তু রায়ে মোট দুটি অভিযোগের ছয়টি ঘটনা তুলে ধরেন ট্রাইব্যুনাল-১। এর মধ্যে অভিযোগ-১-এ তিনটি ঘটনা আনা হয়। এর প্রথমটি ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারীদের রাজাকার বলে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া। দ্বিতীয়ত, ওই রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মাকসুদ কামালের সঙ্গে শেখ হাসিনার কথোপকথনে আন্দোলনকারীদের রাজাকার বলে ফাঁসি দেবেন বলে উসকানি ও আদেশ। এছাড়া অপরাধ সংঘটনে আসামিরা নিজেদের অধীনস্থদের কোনও বাধা দেননি। তৃতীয়ত, এরই ফলশ্রুতিতে রংপুরে আবু সাঈদকে গুলি ছুড়ে হত্যা করে পুলিশ। এসব অপরাধে শেখ হাসিনা ও কামালের আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

দ্বিতীয় অভিযোগেও তিনটি ঘটনা আনেন ট্রাইব্যুনাল। এক নম্বর ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই শেখ হাসিনার সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপস ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর ফোনালাপ পাওয়া যায়। এসব কথোপকথনে ড্রোনের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের অবস্থান নির্ণয়, ছাত্র-জনতাকে হেলিকপ্টার ও মারণাস্ত্র ব্যবহার করে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন শেখ হাসিনা। এ অপরাধ সংঘটনে অধীনস্থদের কোনও বাধা দেননি আসামিরা।

যার ফলশ্রুতিতে একই বছরের ৫ আগস্ট চানখারপুলে ছয় জন আন্দোলনকারীকে গুলি ছুড়ে হত্যা করে পুলিশ। যা এ অভিযোগের দুই নম্বর ঘটনা। তিন নম্বর ঘটনা- ওই দিন তথা ৫ আগস্ট সাভারের আশুলিয়ায় ছয় জনকে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এসব অপরাধে হাসিনা-কামালের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাদের সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়। যা জুলাইয়ের ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণ করবে সরকার। এছাড়া উভয় অভিযোগে পাঁচ বছরের সাজা পান সাবেক আইজিপি মামুন।

তবে গত ১৫ ডিসেম্বর বৈষম‍্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের যে অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড হয়েছিল, তার বিরুদ্ধে সাজা বৃদ্ধি তথা মৃত্যুদণ্ডাদেশ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ)। সে আবেদনটি শুনানির জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে। উৎস: বাংলাট্রিবিউন।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়