শিরোনাম
◈ অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন ও বৃহৎ শক্তির ভারসাম্যের চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ ◈ বিশ্বকা‌পের প্রস্তু‌তি ম‌্যা‌চে ‌রোববার সকা‌লে মিশরের মুখোমুখি ব্রাজিল ◈ অপরাধী শনাক্তে ঢাকায় এআই প্রযুক্তি: ২ লাখ অপরাধীর তথ্য যুক্ত হচ্ছে, মুখমণ্ডল শনাক্ত করে পাঠাবে তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা ◈ এবা‌রের বিশ্বকা‌পে আ‌র্জেন্টিনা ক‌তোটা শ‌ক্তিশালী, রোববার সকা‌লে পরীক্ষা নে‌বে হন্ডুরাস ◈ দেশের শিশুস্বাস্থ্যে গবেষণার কেন্দ্র বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল, তবু শয্যা ও প্রযুক্তি সংকট ◈ কাল শুরু হচ্ছে সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন, বাজেটের সম্ভাব্য আকার ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা ◈ 'অনেক কষ্টে এসএসসি পাস করেছে' কুমিল্লা জেলা পরিষদ প্রশাসককে নিয়ে আসিফের কড়া মন্তব্য; দিলেন বরাদ্দের ব্যাখ্যা ◈ তুরস্ক কেন বাংলাদেশের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বাড়াতে চাইছে? ◈ ট্রাম্পের জন্য ‘বিশ্বাসের পরীক্ষা’: জব্দকৃত ২৪ বিলিয়ন ডলার ফেরত চায় ইরান ◈ বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাকান ফিদানের বৈঠক

প্রকাশিত : ১৭ নভেম্বর, ২০২৫, ০৫:৫০ বিকাল
আপডেট : ২৭ মে, ২০২৬, ০৫:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

দি‌ল্লি‌কে বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি মে‌নে মৃত‌্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হা‌সিনা ও আসাদুজ্জামান কামাল‌কে ফেরত দি‌তে বল‌লো ঢাকা  

এল আর বাদল : মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনাকে ফাঁসির আ‌দেশ দি‌য়ে‌ছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল। শুধু একা হাসিনা নন, একই সাজা হয়েছে প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামা‌লেরও। সাজা ঘোষণার পরই এবার তাঁদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে তোড়জোড় শুরু করলো দে‌শের অন্তর্বর্তী সরকার। 

সাজাপ্রাপ্ত দুই ‘পলাতককে’ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের জন্য ভারত সরকারের কাছে আবেদন করা হল। বাংলাদেশের পররাস্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতি দিয়ে নরেন্দ্র মোদী সরকারকে মনে করাল প্রত্যর্পণ চুক্তির কথাও! --- সূত্র, আনন্দবাজার

হিংসায় উস্কানি দেওয়া, হত্যার নির্দেশ এবং দমনপীড়ন আটকানোর ক্ষেত্রে পুলিশকে নিষ্ক্রিয় করে রাখা— এই তিন অভিযোগে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে ট্রাইবুনাল। সঙ্গে আসাদুজ্জামান কামাল‌কে একই অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাঁরা দু’জনেই ভারতে রয়েছেন। যদি তাঁদের বিচারের সম্মুখীন হতে হয়, তবে দু’জনকেই বাংলাদেশে ফিরতে হবে। 

প্রশ্ন উঠছে, মোদী সরকার কি আদৌ হাসিনাদের বাংলাদেশের হাতে তুলে দেবে? তবে তার মধ্যেই ড.মহম্মুদ ইউনূস প্রশাসন হাসিনাদের প্রত্যপর্ণ নিয়ে ভারত সরকারের আবেদন করল। বাংলাদেশের পররাস্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতি জারি করে বিষয়টি উত্থাপিত করে।

বিবৃতিতে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত এই ব্যক্তিদের (হাসিনা ও আসাদুজ্জামান) দ্বিতীয় কোনও দেশ আশ্রয় দেয়, তবে তা ‘অত্যন্ত অবন্ধুসুলভ আচরণ’ হবে, যা ন্যায়বিচারের প্রতি অবজ্ঞার শামিল! 

বিবৃতি অনুযায়ী, আমরা ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, যাতে তারা যেন অনতিবিলম্বে দণ্ডপ্রাপ্ত এই দুই ব্যক্তিকে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন।

 বিবৃতির শেষে বাংলাদেশের পররাস্ট্র মন্ত্রণাল‌য়ের তরফে ভারত সরকারকে মনে করিয়ে দেওয়া হয় প্রত্যর্পণ চুক্তির কথা। বলা হয়, ‘দুই দেশের মধ্যে বিরাজমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুসারে’ এটি ভারতের অবশ্যই পালন করা দায়িত্ব।

পররাস্ট্র মন্ত্রণালয় ছাড়াও বাংলাদেশের অন্তর্বর্তিকালীন সরকারও বিবৃতি জারি করে হাসিনাদের সাজার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেয়। 

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের রায়কে ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করেছে ইউনূস প্রশাসন। পাশাপাশি, দেশের সকলকে শান্ত, সংযত থাকার আহ্বানও জানিয়েছে তারা।

সব দিক বিবেচনা করে বাংলাদেশের সরকার জনগণকে সহিংসতা বা আইনবিরোধী কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ইউনূস সরকার আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যে কোনও ধরণের অরাজকতা, বিশৃঙ্খলা কঠোর হাতে দমন করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে একটি বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে। তখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন হাসিনাই। ওই চুক্তি অনুযায়ী আদালতের রায়ে প্রত্যর্পণ করানোর মতো অপরাধ করে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে এক দেশ অপর দেশের হাতে তুলে দেবে। ২০১৬ সালে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করতে চুক্তি সংশোধন করা হয়। সংশোধিত চুক্তিতে বলা হয়, কারও নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকলেই তাঁকে প্রত্যর্পণ করা যাবে। 

এ ক্ষেত্রে অপরাধের প্রমাণস্বরূপ কোনও তথ্যপ্রমাণ দাখিল করতে হবে না। হাসিনার বিরুদ্ধেও একাধিক মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। সংশোধিত চুক্তি অনুসারেই তাঁকে প্রত্যর্পণ করার আর্জি জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়