এস ডি অয়ন: [২] ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ ছুটে আসে তার স্বজনের কাছে। তবে সরকারি শিশু পরিবার, শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন বালক-বালিকা কেন্দ্রের শিশু-কিশোররা খুব অল্প বয়সেই পরিবার থেকে দূরে । মা-বাবা ছাড়া এবার ঈদ কাটবে আশ্রয়কেন্দের শিশুদের ।
[৩] আশ্রয়কেন্দে থাকা শিশু-কিশোরদের কারও বাবা নেই, কারও বাবা-মা দুজনেই নেই। স্বজনহারা শিশুদের ঈদের দিন কাটছে চার দেয়ালের মাঝেই। এখানকার শিশু-কিশোরদের কাছে প্রতিবছর ঈদ উৎসব মানেই অন্য সব দিনগুলোর মতোই। ঈদে বাড়িতে যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও তাদেও স্বপ্ন কখনো পূরণ হয় না। বাংলাট্রিবিউন
[৪] আশ্রয়কেন্দে থাকা শিশু-কিশোরদের খোঁজ নেওয়ার মতো কেউ নেই। প্রায় ছয় বছর বয়স থেকে এখানে জীবন যাপন করছে তারা।
[৫] বরগুনা সরকারি শিশু পরিবার কেন্দ্রে মোট আসনসংখ্যা শতাধিক বর্তমানে এখানে রয়েছে বিভিন্ন বয়সের ৫১ জন শিশু-কিশোর। তাদের মধ্যে মা-বাবা নেই ৮ জনের। অনেকের শুধু মা আছেন। কিন্তু থাকলেও অন্যত্র বিয়ে করে সংসার করছেন। আর ৪৫ জন ঈদ করবে এই শিশু পরিবারে। তাদের ঈদের দিন বাড়ি যাওয়ার সুযোগ থাকার পরেও আপনজন না থাকায় যেতে পারে নি। বুকে একরাশ চাপা কষ্ট নিয়ে ঈদের দিন পার করছে তারা।
[৬] বরগুনা সরকারি শিশু পরিবারে বসবাসরত ইমাম হাসান ও ইমাম হোসেন যমজ ভাই। তারা প্রথম শ্রেণিতে পড়ালেখা করে। তারা বলে, বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই আমরা এখানে আমাদের যাওয়ার জায়গা নাই, তাই এখানেই আমরা ঈদ করবো।
[৭] বরগুনা সরকারি শিশু পরিবারের বালক আবদুল্লাহ বলে, আমার বাবা নাই। আমাদের এখানে ঈদের দিন ভালো মানের খাওয়া-দাওয়া হবে। আমি এখানে ঈদ করে বাড়ি যাবো। এখানে ঈদ করলে ভালো মন্দ খাইতে পারি।
[৮] শিশু পরিবারের এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া মেহেদী হাসান বলে, বাবা মারা যাওয়ার পর মা এখানে ভর্তি করিয়েছিলেন। তবে কিছুদিন পর মা-ও মারা গেছেন। এখন আমার কেউ নাই। এখানের স্যারেরাই আমার মা-বাবা। অশ্রুসিক্ত চোখে মেহেদী বলে, ঈদের নামাজ পড়ে বাড়িতে গিয়ে মা-বাবার কবর জিয়ারত করে আবার চলে আসবো।
[৯] বরগুনা শিশু পরিবার কেন্দ্রের সহকারী শিক্ষক নাদিমুর রহমান বলেন, এখানে শতাধিক আসন রয়েছে। তার মধ্যে বর্তমানে রয়েছে ৫১ জন শিশু-কিশোর। সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি শিশু-কিশোরের জন্য নতুন জামাকাপড়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঈদের দিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত স্পেশাল খাবারের ব্যবস্থা আছে। যাতে তারা পরিবারে যেতে না পারার কষ্টটা ভুলে যায়।
[১০] পুনর্বাসন কেন্দ্রের পরিচালক আবু জাফর বলেন, আমাদের এখানে ১৮০ জন বালক-বালিকা রয়েছে, এর মধ্যে অনেকেই স্বজনদের সাথে ঈদ কাটাতে বাড়িতে চলে গেছে। তবে যাদের যাওয়ার মতো জায়গা নাই, তারা এখানেই ঈদ কাটাবে। সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া তাদের জন্য সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন খাবারের মেনু রয়েছে।
[১১] জাফর বলেন, যাদের কেউ নাই, আমরা সব সময় তাদের পাশে রয়েছি। বরগুনা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, শিশুরা যাতে মন খারাপ না করে, সে জন্য ঈদের দিন তাদের পছন্দমতো কাপড়, ভালো খাবারসহ ঈদের দিনটিকে আনন্দময় করতে নানা প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। সম্পাদনা: কামরুজ্জামান