গরমে রোদে বেরোলেই মাথা ঘোরা মূলত পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন, শরীরে লবণের ঘাটতি এবং মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। চড়া রোদে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বেড়ে যায়। ফলে মস্তিষ্কে রক্ত ও অক্সিজেনের সরবরাহ কমে যায় এবং মাথা ঘোরে।
আবার গরম থেকে ঠান্ডা ঘরে ঢোকার পরেই অনেকের মাথা ঘোরা এবং গা গোলানো ভাব দেখা যায়। প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ হলেও অফিস-আদালত, কাছারি-রান্নাঘরে যাওয়া— কিছুই বাদ দেওয়া যায় না। কাজের প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে যাওয়া তাই বন্ধ রাখা যাচ্ছে না। আবার গরমে ঘাম অস্বস্তি বাড়াচ্ছে। কারও খাবার হজম হতে অসুবিধা হচ্ছে, আবার কেউ মাথার ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছেন। দীর্ঘক্ষণ এসি চালালে আবার অন্য সমস্যা হচ্ছে। এই সময় শরীর ভালো রাখতে কিছু বাড়তি যত্ন নেওয়া দরকার।
এ বিষয়ে চিকিৎসকরা বলছেন, চড়া রোদে বেশিক্ষণ থাকলে মাথা ঘোরা, গা গোলানো, বমি বমি ভাব— এমনকি শ্বাসের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই এ সময়ে শরীর ঠান্ডা রাখতে যা যা করণীয়, তা জেনে নেওয়া উচিত।
গরমে রোদে বেশি হাঁটাহাঁটি কিংবা দৌড়োদৌড়ি করলে শরীরের পানি শুকিয়ে যায়। এককথায় পানিশূন্যতা দেখা দেয়। প্রচণ্ড গরমে একটানা কাজ করলেও এমনটি হয়। আপনার শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। বাইরের তাপ আর শরীরের ভেতরের তাপের মধ্যে ভারসাম্য থাকে না। যার কারণেই শরীর আনচান করতে থাকে, নানা রকম অস্বস্তি শুরু হয়। তাই শরীর ঠান্ডা রাখা দরকার। প্রাকৃতিকভাবেই সেটা করা যায়। এমন পরিস্থিতিতে কী খাওয়া উচিত, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।
১. সহজপাচ্য খাবার খাওয়া উচিত। বিশেষ করে বাড়িতে রান্না করা খাবার খাওয়া উচিত। পাতে রাখুন সবুজ শাকসবজি। পটোল, ঝিঙের মতো সবজি বেশি করে খান, যাতে পানির ভাগ বেশি। প্রথম পাতে একটু ঘি খেতে পারেন।
২. ডাবের পানি খান পরিমাণমতো।
৩. রোদ থেকে ফিরে কিছুক্ষণ বসে শরীরের তাপমাত্রা একটু কমার সময় দিন। তারপর লেবু আর বিট লবণের শরবত খেতে পারেন।
৪. শরীর ঠান্ডা রাখতে খুব ভীষণ উপকারী দই। দই দিয়ে ফলের স্মুদি খান। সেই সঙ্গে দইয়ের ঘোল বাড়িতেই বানিয়ে নিন। সকালের নাশতায় দই-চিড়া। দুপুরে খাওয়ার পর শেষ পাতে বাড়িতে পাতা টকদই খান। আবার দই দিয়ে ভাতও খেতে পারেন। তবে অতিরিক্ত ঝাল, লবণ ও টকজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন।
পানির তৃষ্ণা পেলে ডাবের পানি পান করুন। আপনার শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ করে দেবে। শরীরকে পানিশূন্যতা থেকে দূর করবে। এ ছাড়া খেতে পারেন তরমুজের শরবত। তরমুজের শাঁস মিক্সিতে বেটে তার সঙ্গে পানি আর মধু মেশান। তাতে অল্প বরফ ফেলে খেয়ে নিন। আর শসার শরবতও উপকারী। শসা মিক্সিতে বেটে নিয়ে তাতে একটু বিট লবণ ছড়িয়ে খেয়ে নিন। ওজন কমাতেও এটি ভালো কাজ দেয়। শরীরও ভালো রাখে।
সূত্র: যুগান্তর