শিরোনাম
◈ ‘খেলার মাঠে রাজনীতি নয়’: বাংলাদেশের পক্ষে সংহতি জানিয়ে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করেছি : পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ◈ নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের তাণ্ডব: এক গ্রামেই ১৬২ জনকে হত্যা, পুড়িয়ে দেওয়া হলো রাজপ্রাসাদ ◈ জরিপ: আওয়ামী লীগের ৪৮ শতাংশ ভোটার এবার বিএনপির পক্ষে, ৯০ শতাংশের ভোট দেওয়ার আগ্রহ ◈ কেন দেশে ফিরছেন না আ.লীগ নেতারা জানালেন সাদ্দাম ◈ বিদ্রোহীতে ক্লান্ত ধানের শীষ প্রার্থীরা, আলোচনায় বসতে পারেন তারেক ◈ ‌ক্রিকেটার জাহানারার আনা যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে স্বাধীন তদন্ত কমিটি ◈ মিরসরাই বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে কোরিয়া–চীনের ১,২০০ কোটি টাকার নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সাড়ে ১২ হাজার ◈ মাত্র ২১ দিনের মধ্যে প্রচারণা আমার রাজনৈতিক জীবনে প্রথম অভিজ্ঞতা: মির্জা আব্বাস ◈ যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক নীতি: রফতানি বাজার হারানোর ঝুঁকিতে বাংলাদেশের পোশাক খাত ◈ জামায়াতের ৪১ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা

প্রকাশিত : ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৮:৫৪ রাত
আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৮:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

নিয়মিত দুঃস্বপ্ন দেখলে অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি তিন গুণ বাড়ে

দীর্ঘমেয়াদি এক নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে দুঃস্বপ্ন নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য। গবেষকদের মতে, যারা প্রতি সপ্তাহে নিয়মিত দুঃস্বপ্ন দেখেন, তাদের অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হতে পারে। এতে ঘুমের সমস্যাকে সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সপ্তাহে অন্তত একবার দুঃস্বপ্নে ভোগেন, তাদের ৭৫ বছরের আগেই মৃত্যুর ঝুঁকি দুঃস্বপ্ন খুব কম দেখা মানুষের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি।

এই ফলাফল এসেছে যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত চারটি বড় ও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার সম্মিলিত তথ্য বিশ্লেষণ থেকে। এসব গবেষণায় ২৬ থেকে ৭৪ বছর বয়সি ৪ হাজারের বেশি মানুষকে দীর্ঘ সময় ধরে অনুসরণ করা হয়।

গবেষণার শুরুতে অংশগ্রহণকারীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, তারা কত ঘন ঘন দুঃস্বপ্নে ঘুম ভাঙেন। এই তথ্যকে ভিত্তি ধরে পরবর্তী বিশ্লেষণ করা হয়।

এরপর প্রায় ১৮ বছর ধরে তাদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। এ সময়ের মধ্যে ২২৭ জন অংশগ্রহণকারী ৭৫ বছর বয়সের আগেই মারা যান।

গবেষকরা বয়স, লিঙ্গ, মানসিক স্বাস্থ্য, ধূমপান ও ওজনের মতো সাধারণ ঝুঁকির বিষয়গুলো হিসাবের বাইরে রেখেও ফলাফল বিশ্লেষণ করেন। তবুও দেখা যায়, নিয়মিত দুঃস্বপ্ন দেখা ব্যক্তিদের অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় তিন গুণই থেকে যায়।

গবেষকদের মতে, এই ঝুঁকি মাত্রা ভারী ধূমপানের ফলে যে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়, তার সঙ্গে তুলনীয়।

গবেষণায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরীক্ষা করা হয়—এপিজেনেটিক ক্লক। এটি ডিএনএ-তে থাকা কিছু রাসায়নিক চিহ্নের মাধ্যমে একজন মানুষের প্রকৃত জৈবিক বয়স বোঝাতে সাহায্য করে।

তিন ধরনের এপিজেনেটিক ক্লক বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন, যারা ঘন ঘন দুঃস্বপ্ন দেখেন, তাদের শরীরের জৈবিক বয়স বাস্তব বয়সের তুলনায় বেশি। অর্থাৎ, নিয়মিত দুঃস্বপ্ন শরীরের দ্রুত বার্ধক্যের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।

দুঃস্বপ্নে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে হৃদস্পন্দন দ্রুত বেড়ে যায় এবং শরীরে চাপ বা স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। গবেষকদের ধারণা, এ ধরনের বারবার রাতের চাপ শরীরের ওপর দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এ গবেষণাটি এখনো স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গভাবে পর্যালোচিত হয়নি। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও গবেষণা ও বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

নিয়মিত দুঃস্বপ্ন শুধু মানসিক অস্বস্তির বিষয় নয়, এটি শরীরের গভীর কোনো সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে। ঘুমের গুণগত মান ঠিক রাখা তাই সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: যুগান্তর

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়