শিরোনাম
◈ গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের ১০০ দিন: স্থিতিশীলতা, সংস্কার ও প্রবৃদ্ধির নতুন সমীকরণ ◈ ভূমি কর্মকর্তাদের ২৫ জুনের মধ্যে সম্পদের হিসাব দেওয়ার নির্দেশ ভূমি মন্ত্রণালয়ের ◈ দ. এশিয়ার স্থিতিশীলতা ও শান্তির জন্য বাংলাদেশ ‘কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ’ দেশ: তুরস্ক ◈ ইউরোপের মাটিতে ইতিহাস, সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় ◈ স্বর্ণের দামে বড় পতন বিশ্ববাজারে ◈ ডিপফেক-মিথ্যা তথ্য রোধে এআই নীতিমালা আনছে সরকার ◈ গুলশানে দুটি স্পা সেন্টারে পুলিশের অভিযান, ২৮ জন আটক ◈ হাদি হত্যা মামলায় জাবেরকে বাদী করার কারণ জানতে চান বোন মাসুমা ◈ বাজেট অধিবেশন ঘিরে সংসদ ভবন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র বহন ও মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ ◈ এশিয়ান গেমস ক্রিকে‌টে বাংলা‌দেশসহ ১০ দল চূড়ান্ত, অ‌ক্টোব‌রে খেলা হ‌বে জাপা‌নে 

প্রকাশিত : ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:২৯ দুপুর
আপডেট : ০৫ জুন, ২০২৬, ০৬:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

প্রোটিন পাউডার কি কিডনি ও লিভারের ক্ষতি করে? আসল তথ্য জানালেন বিশেষজ্ঞ

আমাদের শরীরের জন্য কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাটের মতোই অপরিহার্য এক পুষ্টি উপাদান প্রোটিন। শুধু জিম বা পেশি গঠনের মধ্যেই এর ভূমিকা সীমাবদ্ধ নয়, প্রতিদিনের সুস্থ জীবনের জন্যও প্রোটিন অত্যন্ত জরুরি। পেশি, হাড়, ত্বক, চুল ও হরমোন তৈরির পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো, ক্ষত সারানো এবং সুস্থ বিপাক বজায় রাখতেও প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে এক ভিডিওতে দিল্লির অ্যাপোলো হাসপাতালের সার্জিক্যাল গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট ডা. অংশুমান কৌশল প্রোটিন পাউডার নিয়ে প্রচলিত ভয় ও ভুল ধারণার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

কী বলেছেন এই বিশেষজ্ঞ, চলুন জেনে নেওয়া যাক—
প্রোটিনের নাম শুনলেই কেন ভয়

ডা. কৌশলের মতে, কথাবার্তায় ‘প্রোটিন’ শব্দটি উঠলেই অনেকেই কিডনি ফেল, লিভারের ক্ষতি বা হরমোনের গোলমালের আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কিন্তু বাস্তবে, সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এই ভয় বেশিরভাগ সময়েই ভিত্তিহীন। সঠিক পরিমাণে ও সঠিকভাবে গ্রহণ করলে হুই প্রোটিন সাধারণত নিরাপদ।

তার কথায়, সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন কেউ দ্রুত পেশি তৈরির লোভে শরীরের প্রতি কেজি ওজনের জন্য ৩ গ্রাম পর্যন্ত প্রোটিন খেতে শুরু করেন।

এই অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক গ্রহণই আসলে ভয়ের মূল কারণ।

অতিরিক্ত প্রোটিন কি কিডনির ক্ষতি করে?

ডা. কৌশল ব্যাখ্যা করেন, গবেষণা অনুযায়ী অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণে কিডনিতে হাইপারফিল্ট্রেশন হতে পারে। কিন্তু এটি কোনো রোগ নয়, বরং শরীরের একটি স্বাভাবিক অভিযোজন প্রক্রিয়া।

সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতি কেজি ওজনের জন্য প্রতিদিন ১.২ থেকে ১.৬ গ্রাম প্রোটিনই যথেষ্ট।

৪০ বছরের ঊর্ধ্বদের ক্ষেত্রে পেশি ক্ষয় রোধ করতে এই মাত্রা ১.৮ গ্রাম পর্যন্ত হতে পারে।

আসল বিপদ কোথায়

ডা. কৌশলের মতে, বিপদ প্রোটিনে নয়, বিপদ নকল ও নিম্নমানের সাপ্লিমেন্টে। জাতীয় পুষ্টি ইনস্টিটিউটের রিপোর্ট উদ্ধৃত করে তিনি জানান, বাজারে পাওয়া প্রায় ৬০ শতাংশ প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট মান পরীক্ষায় ফেল করেছে। অনেক ক্ষেত্রে লেবেলে যা লেখা থাকে, বাস্তবে তার সঙ্গে মিল নেই—কম প্রোটিন, বেশি চিনি, এমনকি ক্ষতিকারক উপাদানও পাওয়া যায়।

তাই তিনি সার্টিফায়েড ব্র্যান্ড বেছে নেওয়ার এবং অত্যধিক সস্তা প্রোটিন পাউডার থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন।

কিডনি নিয়ে দুশ্চিন্তা কতটা যুক্তিসংগত

প্রোটিন নিয়ে সবচেয়ে বড় মিথ হলো, এটি কিডনি নষ্ট করে। ডা. কৌশল বলেন, যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন না, তাদের ক্ষেত্রে কখনো কখনো প্রোটিন নেওয়ার পর ক্রিয়েটিনিন বা লিভার এনজাইম সামান্য বাড়তে পারে। কিন্তু এটি সাধারণত পেশির কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত, কোনো রোগের লক্ষণ নয়।

তবে যাদের আগে থেকেই কিডনি রোগ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস বা গুরুতর ফ্যাটি লিভার রয়েছে, তাদের অবশ্যই প্রোটিন গ্রহণ বাড়ানোর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

মোটকথা, প্রোটিন পাউডার নিজে কোনো ভয়ংকর জিনিস নয়। সঠিক পরিমাণ, ভালো মানের পণ্য এবং নিজের শারীরিক অবস্থার কথা মাথায় রাখলেই প্রোটিন হতে পারে সুস্থ শরীরের এক শক্তিশালী সহায়ক।

সূত্র : আজতক বাংলা

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়