ডেস্ক রিপোর্ট: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে বিশ্বের নেতৃত্ব নিয়ে দুই পরাশক্তির মধ্যে শীতল যুদ্ধ দেখেছে বিশ্ববাসী। তখন বিশ্ব দুই মেরুতে বিভক্ত হয়ে পড়ে। তখন দুই পরাশক্তি বলতেই৳ মানুষ বুঝে নিত যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়নকে। পৃথিবীটা পশ্চিম ও পূর্বের মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
দুই মেরুর সেই বিশ্বে কে কোথায় রাজত্ব করবে, কার অধীনে কে থাকবে, তা নিয়ে চলত টানাটানি। কখনো কখনো দুই পরাশক্তির মধ্যে এই ছড়ি ঘোরানোর কর্তৃত্ব নিয়ে টানাটানি এমন মাত্রায় দেখা যেত, মনে হতো যুদ্ধ বুঝি শুরু হয়ে গেল। যা হোক, দুই শক্তির ব্যালেন্স অব পাওয়ার বা শক্তির ভারসাম্য থাকায় কেউই আর চূড়ান্ত পথ গ্রহণ করত না। এ কারণেই বিশ্ব অনেক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েও শেষ পর্যন্ত শুভবুদ্ধির পরিচয় দিয়ে ধ্বংস থেকে পৃথিবীটা রক্ষা পেয়েছে।
কিন্তু গত শতকের নব্বই দশকে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে পড়লে বিশ্বটার সামনে আবার সংকট দেখা দেয়। তখন বিশ্বের মোড়ল কেবলই যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রকে তখন সব দেশ এবং সব দেশের নেতাকেই সমীহ করে চলতে হয়। কিন্তু প্রকৃতির নিয়মটাই বুঝি এমন, সে কখনো কারও একক কর্তৃত্ব দেখতে চায় না। তাই যুক্তরাষ্ট্রের একক কর্তৃত্বের মধ্যেও চীন সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তিতে এতটাই বলীয়ান হয়ে উঠে যে তাকে বিশ্বের দ্বিতীয় শক্তি হিসেবে গণ্য করতে সবাই বাধ্য হয়ে উঠতে থাকে। চীন কখনো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে, আবার কখনো যুক্তরাষ্ট্রকে ছেড়ে রাশিয়া, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে মৈত্রী সম্পর্ক গড়ে জোর কদমে চলে। সে চলা এখনো অব্যাহত আছে। --- ঠিকানা/নিউইয়র্ক
এদিকে ভারতও আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সবার চেয়ে এগিয়ে থাকতে চায়। সেই লক্ষ্যে ভারত সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তিতে এগিয়ে থাকার প্রতিযোগিতায় যেসব পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, সেসব পদক্ষেপ নিতে একটুও অবহেলা করছে না এবং ভারত ইতোমধ্যেই আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে স্বীকৃত। ওদিকে বিশ্বমানে উত্তর কোরিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানও সামরিক প্রতিযোগিতায় কারও থেকে পিছিয়ে থাকতে চায় না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ইরান সেই প্রমাণ দিয়ে চলেছে। ইরানের মধ্যে কোনো পলায়নপর মনোভাব একটুও দেখা যাচ্ছে না। চোখে চোখ রেখে সমানে সমান যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে তারা।
এই বড় মেরুর বিশ্বেও বিশ্বের নেতৃত্ব নিয়ে কাড়াকাড়ি চলছেই। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাকি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন-‘কার হাতে এখন বিশ্ব’, এমন একটি প্রশ্নবোধক শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে ঠিকানার ২৭ মে সংখ্যার প্রথম পৃষ্ঠায়। চীনে বিশ্বনেতাদের একের পর এক সফরে চীন নিজেকে নতুন বিশ্বব্যবস্থার কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরছে। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্ষমতার আসল কেন্দ্র কোনটি, সেই প্রশ্নের উত্তরটি সহজে বলা যাবে না কোনোভাবেই। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বেইজিং ত্যাগ করার পরই সেখানে লালগালিচা সংবর্ধনা পান রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
এমন সব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে চীন নিজেকে বিশ্বের কেন্দ্র হিসেবে দেখতে পারে। তবে কেবল সামরিক এবং অর্থনৈতিক শক্তিতে বড় হওয়া নয়, বড় বিশ্বনেতা হওয়ার জন্য আরও কিছু গুণ লাগে। কে জানে, এ প্রশ্নের মীমাংসা ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের মধ্য দিয়েই হবে কি না!